


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৭০। গত একমাসে প্রায় ৭০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ জনের বেশি। অক্টোবর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬৭৫। এই জেলা রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে ছিল। বর্ষার পর উৎসবের মরশুমে মশাবাহিত রোগ উদ্বেগ বাড়ায়। তবে, শীতের মরশুম শুরু হতেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। বর্তমানে দৈনিক ৬-১০ জন করে আক্রান্তের হদিশ মিলছে। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরও। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে গ্রামগঞ্জ ও শহরের বহু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি, মহকুমা ও ব্লক হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে। তবে একটাই স্বস্তি, এবছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হেমারেজিক ও শক সিনড্রোমের রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই মুর্শিদাবাদ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৪০০ ছুঁইছুঁই হলেও, এখনও কোনও রোগী মারা যাননি।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই জেলায় আগে অনেক বেশি লোকজন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। সামনের সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমবে।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপশি লালগোলার কৃষ্ণপুর রুরাল হাসপাতাল, সূতির মাহেশাইল রুরাল হাসপাতাল ও রানিনগরের ইসলামপুর রুরাল হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা তাঁদের উপরে কড়া নজর রাখছেন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, মুর্শিদাবাদে গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের শেষে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৭০। সর্বত্র যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, সবকিছুই নেওয়া হয়েছে। শীতের শুরুতে ডেঙ্গু আগের থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। দৈনিক ৬-৭জন করে আক্রান্তের হদিশ মিলছে। ভালো শীত পড়ে গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও কমে যাবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা বেশি দেরিতে শুরু করলেই বিপদ বাড়বে। জ্বর কয়েকদিন স্থায়ী হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। এখন এই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে অনেকরই সর্দি-জ্বর হচ্ছে। তাই অনেকেই বাড়িতে ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা করছেন। ডেঙ্গু হলে সেক্ষেত্রে বিপদ বাড়বে। গ্রামাঞ্চলে মশারি টাঙিয়ে শোয়া এখন বাধ্যতামূলক। শীত না পড়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ইসলামপুর, বহরমপুর, লালগোলা এবং সূতি-২ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মূলত আবর্জনার স্তূপে জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তবে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চিকিৎসা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। প্রতিটি ব্লকে, শহরে পঞ্চায়েত ও পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন।