


রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট; বাংলা নতুন বছরে চালু হচ্ছে কোচবিহারের একমাত্র ডেয়ারি ফার্ম। প্যাকেটজাত দুধের পাশাপাশি এখানে টক দই, মিষ্টি দই, পনির, ঘি, লস্যি, ছাচও তৈরি হবে। কোচবিহারের ডেয়ারি থেকে কম দামে তাজা দুধ সহ দুগ্ধজাত নানা জিনিস পাবেন জেলার মানুষ। প্রাথমিকভাবে কোচবিহারের চকচকায় থাকা শিল্পতালুকে ওই ডেয়ারি ফার্মে দৈনিক এক লক্ষ লিটার ধারণ ক্ষমতার আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। তবে শুরুতে দৈনিক ৫০ হাজার লিটার দুধের কাজ হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে চকচকার ডেয়ারি ফার্মটি চালু হলে কোচবিহারের শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।
জানা গিয়েছে, প্রথম অবস্থায় আশপাশের জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকে দুধ সংগ্রহ করে ডেয়ারি ফার্মটি পথ চলা শুরু করবে। পরবর্তীতে সরকারি সাহায্যে আগ্রহী ৫০০ মহিলাকে গোরু এবং গোয়ালঘর করে দিতে ঋণের ব্যবস্থারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সেই দুধ এই ডেয়ারিতেই কিনে নেওয়া হবে। তাহলে বাইরে থেকে আর দুধ নিয়ে আসতে হবে না।
নয়ের দশকের শেষে কোচবিহারের একমাত্র শিল্পতালুক চকচকা শিল্প বিকাশ কেন্দ্রে একটি ডেয়ারি ফার্ম চালু হয়েছিল। কিন্তু বছর তিনেক তা চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে অনেক চেষ্টা করেও ওই ডেয়ারি ফার্মটি চালু করা যায়নি। অবশেষে কোচবিহারের দু’জন এবং অসমের একজন শিল্পপতি ডেয়ারিটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেয়ারি ফার্মটি খোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে ডেয়ারি শিল্পের নানারকম আধুনিক মেশিন বসানো হয়েছে। ডেয়ারি ফার্ম চালু করার উদ্যোগী হওয়া তিন শিল্পপতির মধ্যে একজন সুন্দরলাল চোপড়া। তিনি বলেন, বাংলা নতুন বছরের শুরুতেই বৈশাখ মাসেই আমরা ডেয়ারি ফার্মটি চালু করার চেষ্টা করছি। আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়ে গিয়েছে। এক লক্ষ লিটার পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতার আধুনিক যন্ত্রপাতি এখানে বসানো হয়েছে। তবে শুরুতে দৈনিক ৫০ হাজার লিটার দুধের কাজ হবে। সঠিক দাম এবং গুণমান ঠিক রেখে ডেয়ারিটি চলবে। প্রথম অবস্থাতেই ৫০ জনের কর্মসংস্থান হতে চলেছে। জেলা প্রশাসনও এই ডেয়ারি প্রকল্পটি নিয়ে খুবই সহযোগিতা করছেন।