নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ছিনিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ কেন হাতছাড়া করলেন নরেন্দ্র মোদি? সোমবার এই প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। তৃতীয় পক্ষ আমেরিকার হস্তক্ষেপ কেন মানা হল? পাকিস্তান যখন হামলাই করছিল, তখন কেন স্রেফ প্রতিরোধ? কেন পাল্টা মারে ইন্দিরা গান্ধীকে অনুসরণের সাহস দেখাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী? এভাবে পরের পর প্রশ্নবাণে প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করলেন কংগ্রেস মুখপাত্র তথা ছত্তিশগড়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। এই প্রথম কংগ্রেস তুলল, অমিত শাহর ইস্তফার ইস্যু। বললেন, পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তায় গাফিলতি হয়েছে বলে সরকার স্বীকার করেছে। কিন্তু অমিত শাহ ইস্তফা দিয়েছেন কি? সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে জবাব দিন মোদি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যুইটের পরেই সংঘর্ষবিরতির কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে ভারত। কিন্তু কেন আমেরিকা? তাছাড়া ট্রাম্প যেভাবে সংঘর্ষবিরতির সঙ্গে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের প্রসঙ্গ তুলেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাহুল গান্ধীর দল। অন্যদিকে, বিজেপি নামল ভারতীয় সেনা এবং নরেন্দ্র মোদির গুণগানে। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বললেন, প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানকে দুর্বল করে দিয়েছেন। অপারেশন সিন্দুর ১০০ শতাংশ সফল। ভারতীয় সেনার পরাক্রম বুঝিয়ে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের যেকোনও অংশে আমরা ঢুকে প্রত্যাঘাত করতে পারি। বিজেপি সূত্রে খবর, অপারেশন সিন্দুর এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে শীঘ্রই বিজয় মিছিলের পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দিয়েও অপারেশন সিন্দুরের সাফল্যের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
কিন্তু কীসের ১০০ শতাংশ সাফল্য? প্রশ্ন তুলে ভূপেশ বাঘেলের মন্তব্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে ঢুকে যে জঙ্গিরা নিরীহ নিরস্ত্র নাগরিকদের মেরে পালাল, তাদের ধরা না পর্যন্ত অপারেশন সফল নয়। সেনার পরাক্রম নিয়ে প্রশ্ন করছি না। কিন্তু দেশের নেতৃত্বর ব্যর্থতা তো প্রকাশ্যে। জয়রাম রমেশ মনে করিয়ে দিলেন, অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার যেসব অস্ত্রের কৃতিত্ব মোদির নয়, বিগত সরকারের।