নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গল থেকেই প্রথমজনের উত্থান। নিজেকে লাল-হলুদের ঘরের ছেলে ভাবতেই ভালোবাসেন তিনি। কেরিয়ারের গোধূলিতে মশালবাহিনীতে সই করেন দ্বিতীয়জন। তবু ইস্ট বেঙ্গলের প্রতি তাঁর আবেগ অনেকের চেয়ে আলাদা। শনিবার লাল-হলুদ মঞ্চে একইসঙ্গে উপস্থিত বাইচুং ভুটিয়া ও আইএম বিজয়ন। ভারতীয় ফুটবলের দুই কিংবদন্তি আশাবাদী, কঠিন সময় কাটিয়ে দ্রুত চেনা ছন্দে ফিরবে ইস্ট বেঙ্গল। সিকিমের তিনকিতাম থেকে বাইচুংয়ের উত্তরণের নেপথ্যে ইস্ট বেঙ্গল। ভাস্কর গাঙ্গুলি আর সুরজিৎ সেনগুপ্ত স্পট করার পর বাইচুংকে তুলে আনতে কালবিলম্ব করেননি পল্টুবাবু। পরবর্তীতে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম পোস্টার বয় হয়ে ওঠেন সিকিমি স্নাইপার। বাইচুংয়ের মন্তব্য, ‘সমর্থকদের চিন্তার কারণ নেই। সুসময় বেশি দূরে নয়। ইস্ট বেঙ্গল দারুণভাবেই কামব্যাক করবে।’ অন্যদিকে কেরালাইট বিজয়ন বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গলের আন্তরিকতাই আলাদা। বেশিদিন না খেললেও এই ক্লাব তুলনাহীন। আমার বিশ্বাস, ঘুরে দাঁড়ানোর স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’ ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকারের আশ্বাসে কিছুটা হলেও অক্সিজেন জোগাবে হতাশ সমর্থকদের।
ইস্ট বেঙ্গলের অন্যতম কর্তা প্রয়াত পল্টু দাসের প্রয়াণ দিবস বরাবরই নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে ইস্ট বেঙ্গল। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২৪ তম প্রয়াণবার্ষিকীতে ক্লাব কর্তাদের উপস্থিতিতে পল্টুবাবুর ছবিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাস্কর গাঙ্গুলি, বিকাশ পাঁজি, প্রশান্ত ব্যনার্জির মতো প্রাক্তনরা। দুপুরে দীপক জ্যোতি সম্মানে বিজয়ন ছাড়াও সম্মানিত করা হয় প্রশিক্ষক রঘু নন্দী ও প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কোচ প্রণব নন্দীকে। এছাড়া সংবর্ধিত হন পদ্মশ্রী মমতা শংকর, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী প্রমুখ। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক লিগে জাতীয় পর্যায়ে যোগ্যতা অর্জনকারী জুনিয়র ফুটবলারদের উৎসাহিত করা হয়। এদিকে, ‘শতবর্ষের ইস্ট বেঙ্গল’ ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ শেষ। গৌতম ঘোষ পরিচালিত এই তথ্যচিত্র আগামী ২৫ এপ্রিল নন্দন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।



