


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে গড়ে উঠছে ছয়টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর। বিনিয়োগ টানতে রাজ্যের তরফে এমনই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। সূত্রের খবর, এই প্রকল্প বাবদ আড়াই হাজার কোটি টাকার সহযোগিতা করবে এডিবি। তবে সহজ শর্তে এই আর্থিক সহযোগিতা পেতে প্রয়োজন পড়ে কেন্দ্রের ডিরেক্টরেট অব ইকোনোমিক অ্যাফেয়ার্সের (ডিইএ) অনুমোদন। সম্প্রতি সেই অনুমোদন মেলায় আগামী মার্চের মধ্যেই শিল্প পরিকাঠামোর উন্নয়নে এই টাকা পাওয়া যাবে। আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।
রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কল্যাণী, খড়্গপুর-মোড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহারসহ ছয়টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে জাতীয় সড়কগুলির দু-ধার বরাবর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই এই করিডরগুলিতে শিল্পস্থাপন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে জাতীয় সড়ক থেকে প্রস্তাবিত শিল্পের জমি পর্যন্ত রাস্তা তৈরি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, নিকাশি ব্যবস্থা, কমন ফেসিলিটি সেন্টার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হবে। রাজ্য এডিবি’র এই ঋণ পেতে কেন্দ্রের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ছিল আটমাসের বেশি সময়। এখন তাতে শুধু এডিবি’র চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়ার পালা। ফলে চলতি অর্থবর্ষেই এডিবি’র সংশ্লিষ্ট বোর্ড রাজ্যকে টাকা ছাড়ার অনুমোদন দেবে। অনুমান রাজ্যের কর্তাদের। ফলে মার্চের মধ্যেই এই ছাড়পত্র আসার কথা। সেক্ষেত্রে নির্বাচন ঘোষণার আগেই রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের জন্য সুখবর আসতে চলেছে বলে ধরে নিচ্ছে প্রশাসনিক মহল।
এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প। শিল্পসম্মেলন থেকে শুরু করে একাধিক সভায় তিনি এই প্রকল্পের কথা বলেছেন। কারণ, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের ২২ হাজার একর জমিতে শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। রাজ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যপূরণ এই পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করছে। এই পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে বাংলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও সম্ভাবনা থাকছে।