নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঝাড়খণ্ড পুলিসের হাতে ধরা পড়া হিজবুত তাহিরির (হাট) জঙ্গিদের গ্রুপে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন যুবক। তাদের সঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথাবার্তা চলেছে। পাশাপাশি কোন কোন জায়গায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে, একাধিক নির্দেশ রয়েছে তা নিয়েও। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ঘেঁটে ঝাড়খণ্ড পুলিসের অফিসাররা এই তথ্য পেয়েছেন। এই গ্রুপে যারা রয়েছে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
শনিবার ঝাড়খণ্ড পুলিসের হাতে চার হিজবুত তাহিরির জঙ্গি ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে রয়েছে এক মহিলাও। বাংলা-ঝাড়খণ্ডের সীমানা লাগোয়া এলাকায় এই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে তারা কাজ করছিল। ‘দাওয়াত’ দেওয়া চলছিল সেখানে। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি বাংলাতেও তারা সংগঠন বিস্তারের কাজ করছিল। সীমানা এলাকার অনুমোদনহীন কিছু মাদ্রাসায় তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেন, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে অনেক সদস্য রয়েছে। তাদের সঙ্গে সংগঠনে নতুন সদস্য নিয়োগ থেকে শুরু করে কোন কোন জায়গায় ‘হাট’কে শক্তিশালী করতে হবে, তা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। ওই গ্রুপে কিশোর ও যুবকদের মগজ ধোলাই চলছে। কোথায় কবে কাদের প্রশিক্ষণ হবে, তাই নিয়ে বিস্তারিত আলাচনা রয়েছে।
ওই গ্রুপের সদস্যদের পরিচয় নিয়ে কাটাছেঁড়ায় তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাংলার বেশ কয়েকজন যুবকও রয়েছে তাতে। ধরা পড়া চার জঙ্গির সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক নামে প্রোফাইল রয়েছে। সেখান থেকে তাদের সঙ্গে এখানকার যুবকদের পরিচয় হয়। বন্ধুত্বের টোপ দেওয়ার পর তারা রাজি হলে শুরু হয় মগজ ধোলাই। তারপর তাদের হাটের সংগঠনে ভিড়িয়েছে চার জঙ্গি। এরাজ্যের হাট সদস্যদের নতুন সদস্য নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, জঙ্গিদের গ্রুপ-ভুক্ত এরাজ্যের যুবকদের একটা বড় অংশ মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের বাসিন্দা। সংগঠন বাড়ানোর সঙ্গে তারা ভিন রাজ্য থেকে আসা যুবকদের শেল্টার দিচ্ছে। পাশাপাশি আধার, ভোটার প্রভৃতি জরুরি নথি তৈরি করে দেওয়ারও দায়িত্ব পেয়েছে তারা। তাদের হাত ধরে ঝাড়খণ্ডে কাজ করা এই জঙ্গি সংগঠনের কোনও সদস্য বাংলাদেশে গিয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। মুর্শিদাবাদে এর আগে হাট সদস্যদের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। হাটের বাংলাদেশি মাথারা এখানে এসে বৈঠকও করে গিয়েছে। ধুলিয়ানে হাটের একাধিক স্লিপার সেল সক্রিয়। ধরা পড়া চার জঙ্গিকে জেরা করে এরাজ্যের সদস্যরা ক’টি স্লিপার সেল চালাচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।