


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহু মানুষ কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর কিংবা মাঝপথে কাজ ছেড়ে দিয়েও পিএফে জমানো টাকা তোলেননি। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) আওতায় সেসব টাকা বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে সুদ প্রদান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাদের সরকারের অধীন দপ্তরে পড়ে থাকা সেই বিপুল অর্থ অন্যকোনো কাজে ব্যবহারও করতে পারছে না কেন্দ্র। গতকাল (১ এপ্রিল) থেকে সেসব টাকা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাহকের কোনো উদ্যোগ ছাড়াই পিএফ কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগেই সেই টাকা ফেরানোর কাজ শুরু করবে। যে-সমস্ত গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ১০০০ টাকা বা তার কম অঙ্ক পড়ে রয়েছে, সবার আগে সেগুলির অটো সেটেলমেন্ট শুরু হবে। তারপর বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই যেসব পিএফ অ্যাকাউন্টে আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত রয়েছে, সেগুলিতে সবার আগে টাকা পাঠানো হবে। যেখানে তা নেই, সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার চালাবে কেন্দ্র।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত দেশে মোট নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্ট ছিল প্রায় ৩২ লক্ষ। সেখানে জমা হয়ে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১০ লক্ষ বা তার বেশি টাকা জমা রয়েছে ১৩ হাজার ৭০০ অ্যাকাউন্টে। ১ হাজার টাকা বা তার চেয়ে কম অঙ্ক সঞ্চিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ ১১ হাজার। তার মধ্যে ১ লক্ষ ৩২ হাজার অ্যাকাউন্টে আধার সংযোগ রয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্তি রয়েছে প্রায় ৬০ হাজার অ্যাকাউন্টে। পিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫০ হাজার বা তার চেয়ে কম টাকা সঞ্চিত অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৯ লক্ষ। তার মধ্যে ৭ লক্ষ ১৯ হাজার অ্যাকাউন্টে আধার এবং সাড়ে পাঁচ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ব্যাংক সংযুক্তি হয়ে রয়েছে। পিএফ কর্তাদের দাবি, আধার ও ব্যাংক সংযুক্তি থাকলে সরাসরি টাকা পোঁছাবে গ্রাহকের কাছে। কিন্তু যাঁদের তা নেই কিংবা গ্রাহক মারা গিয়েছেন, তাঁরা বা তাঁদের পরিবারকে পিএফ অফিসে দেখা করে নথি জমা করতে হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই আবেদন বিবেচনা করবে দপ্তর।
কর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকে যে উদ্যোগ শুরু হতে চলেছে তার জন্য গ্রাহকদের কাছে ১৮ লক্ষাধিক এসএমএস পাঠানো হবে। যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পড়ে রয়েছে, তাঁদের কর্মদাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। অন্তত ছয় লক্ষ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবে পিএফ দপ্তর। প্রত্যেক মাসের ২৭ তারিখে বিভিন্ন জেলায় শিবির করে পিএফ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে গ্রাহকরা যোগাযোগ করলে তাঁদের সুরাহা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। প্রচার পর্ব চলবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য এবং টিইউসিসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শিবপ্রসাদ তিওয়ারি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রাথমিক স্তরে ১০০০ টাকা বা তার কম অঙ্ক পড়ে রয়েছে যেসব গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে, তাঁদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে আগামী ছমাস ধরে। ধাপে ধাপে অঙ্ক বাড়ানো হবে। যে-সমস্ত গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার বা তার চেয়ে বেশি টাকা জমা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ইপিএফওর তরফে পাওনাগন্ডা মেটানোর আগে পিএফ অ্যাকাউন্ট, আধার, ব্যাংক সংযুক্তির বিষয়ে দুবার যাচাইকরণ বা ডবল ভেরিফিকেশন হবে। তার কারণ, একবার ভুলচুক হলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা ফেরানো কঠিন। ইনঅপারেটিভ অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে পিএফ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে উপকৃত হবেন কয়েক লক্ষ মানুষ। যাঁরা বা যাঁদের পরিবার এখনো টাকা পাননি, তাঁরা যত তাড়াতাড়ি পিএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তত তাড়াতাড়ি সমাধান মিলবে।