দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় থেকে অর্থাগম ও পুনঃ সঞ্চয়। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা নতুন কর্ম লাভের সম্ভাবনা। মন ... বিশদ
কমপ্রেসার যন্ত্র ফেটে এলাকায় অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। হিমঘরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে খোলা মাঠে চলে যান। এলাকায় স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম গিয়ে স্থানীয়দের পরীক্ষা করেছে। এঘটনায় কালনা থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
কালনা চতুর্থ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ থাকায় আশপাশের প্রাথমিক ও হাইস্কুল মিলিয়ে ১৫টি বিদ্যালয় এদিন বন্ধ রাখা হয়।
ভবানন্দপুরের ওই হিমঘরের মালিকানা চারবছর আগে বদল হয়। তারপর থেকে সেখানে আলু সংরক্ষণ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ হিমঘর লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনতে পান। তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন, হিমঘর থেকে ঘন কুয়াশার মতো গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। অ্যামোনিয়ার ঝাঁঝাঁলো গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও কালনা-বৈচি রোডে যাতায়াতকারী মানুষের চোখে জ্বালা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ভয়ে অনেকেই ঘর ছেড়ে খোলা মাঠের দিকে দৌড় লাগান। হিমঘরের কয়েকজন কর্মীও দৌড়ে মাঠে চলে যান। খবর পেয়ে কালনা থেকে দমকলবাহিনী আসে। দমকলকর্মীরা হিমঘরে ঢুকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দু’জনকে কালনা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত বলে জানান। অপর এক জখম কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কালনার মহকুমা শাসক, এসডিপিও, কালনা থানার আইসি সহ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছন।
জখম কর্মী বুদ্ধদেব প্রামাণিক বলেন, এদিন কমপ্রেসার যন্ত্র মেরামত চলছিল। আমি উপরের দিকে ছিলাম। হঠাৎ একটি কমপ্রেসার যন্ত্র ফেটে যায়। ঘন অ্যামোনিয়া গ্যাসে ঘর ভরে যায়। আমি উপর থেকে লাফ দিয়ে নাকমুখ চেপে ধরে কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে আসি। সেসময় ভিতরে দু’জনকে দেখেছি। আমার পায়ে লেগেছে।
হিমঘরের দায়িত্বে থাকা গিয়াসউদ্দিন শেখ বলেন, এদিন সকাল থেকে যন্ত্রপাতির চূড়ান্ত পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল। সকাল ৮টা নাগাদ হঠাৎ এই দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের দু’জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
কালনার মহকুমা শাসক শুভম আগরওয়াল বলেন, দমকল ও পুলিস তাড়াতাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দুর্গাপুর ও ব্যারাকপুর থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে।হিমঘরের ঠিক উল্টোদিকে রামপ্রসাদ মাঝির বাড়ি। তিনি বলেন, সকালে চা খাওয়ার তোড়জোড় চলছিল। সেসময় বিকট আওয়াজ হয়। বাইরে বেরিয়ে দেখি, ঘন কুয়াশার মতো চারদিকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। কটূ গন্ধ বের হচ্ছে। চোখমুখ জ্বালা করছে। আমি স্ত্রী ও ছেলেদের নিয়ে তাড়াতাড়ি চাষের জমির দিকে চলে যাই।
(ফেটে যাওয়া কমপ্রেসার।-নিজস্ব চিত্র)