দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় থেকে অর্থাগম ও পুনঃ সঞ্চয়। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা নতুন কর্ম লাভের সম্ভাবনা। মন ... বিশদ
মুসুর ডাল প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, মিনারাল ও অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর। যা আমিষের পরিপূরক। দেশের পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ওডিশা, ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খণ্ডের একটা অংশে এই ডালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা রয়েছে জোগানেই। কারণ এই ফসল চাষে বেশ দীর্ঘমেয়াদি শীত দরকার। ১৪০ দিনের কাছাকাছি শীতের মরশুম ভারতে মধ্যপ্রদেশ সহ হাতে গোনা কয়েকটি এলাকা ছাড়া দেখা যায় না। বাংলায় অতদিন শীত থাকে না। ফলে শীতের শেষ পর্যায়ে উষ্ণতা আচমকা বাড়লে অণুজীবের আক্রমণ মুসুর গাছকে রোগগ্রস্ত করে শুকিয়ে দেয়। এসমস্যা সমাধানে বহুবছর ধরেই মুসুর নিয়ে গবেষণা কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি তাদের এলএল-৫৬ এবং এল-৪৭১০ দুই প্রজাতির সঙ্করায়ণের মাধ্যমে বিএল-১৬ (বিধান লেন্টিল-১৬) প্রজাতির মুসুর ডাল সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রজাতিকে দেশের ২৩টি গবেষণাকেন্দ্রে পরীক্ষার পর গুণগত মানের সিলমোহর সহ ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্র। এই নতুন প্রজাতির মুসুরের হাত ধরেই দেশকে পথ দেখাতে পারে বাংলা।
বিসিকেভি ক্রপ রিসার্চ ইউনিট বহুদিন ধরেই রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই গবেষণা করছিল। গবেষণাকারী ইউনিট জানিয়েছে, ১০০-১১০ দিনের স্বল্পমেয়াদি শীতেও বিএল-১৬ ফলন হবে। পরীক্ষামূলক চাষে দেখা গিয়েছে, মাত্র ১০০দিনের মধ্যে বিঘাপ্রতি ১৬০০ কেজি এই প্রজাতির মুসুর ডাল উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি দানা এতটাই নিখুঁত যে, ১০০টি দানার ওজন ২ গ্রাম। এই ডালের বীজ প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া গেলে যুগান্তকারী সুফল পেতে পারে রাজ্য। তাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে ছয় কুইন্টাল ‘ব্রিডার সিড’ চেয়েছে রাজ্য সরকার। কৃষিদপ্তরের মাধ্যমে ওই বীজ বাংলার চাষিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অশোককুমার পাত্র বলেন, আমাদের ক্রপ রিসার্চ ইউনিট ভালো কাজ করছে। এই প্রজাতির মুসুর বাংলার চাষিরা স্বল্পমেয়াদি শীতেও চাষ করতে পারবেন।
বর্তমানে বেশিরভাগ মুসুর ডাল কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এমনকী বাংলাদেশও মুসুর চাষে এগিয়ে থাকায় সেখান থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিএল-১৬ আমদানির খরচও বাঁচাবে।