দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় থেকে অর্থাগম ও পুনঃ সঞ্চয়। কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা নতুন কর্ম লাভের সম্ভাবনা। মন ... বিশদ
নদীয়া জেলা প্রশাসনের এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘যে পরিমাণ অর্থ চলতি বছরে ক্লেম হয়েছে, তার সবটাই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মেটানো হবে। তবে এবছর বেসরকারি হাসপাতালে আর্থিক ক্লেমের পরিমাণ অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় বেশি। মানুষকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি করে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।’
নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য নদীয়া জেলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে ৮৮ কোটি ৬৯ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৫০ টাকা ক্লেম হয়েছে। যার গোটাটাই রাজ্য সরকার দেবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মোট ক্লেম হওয়া অর্থের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ৮৫ কোটি ৮ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৪৬ টাকার চিকিৎসা হয়েছে। ৮১ হাজার ৭৩৫ জন রোগী বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালে ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ১৯ হাজার ৫০৪ টাকার চিকিৎসা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এক বছরে মাত্র ৩ হাজার ৯২ জন রোগী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসা করিয়েছেন।
রাজ্য সরকারের এই জনমুখী প্রকল্পের অপব্যবহারের বিষয়টি একাধিকবার সামনে এসেছে। ভুয়ো রোগী, ভুয়ো চিকিৎসা, ভুয়ো অপারেশন দেখিয়ে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের টাকা আদায়ের ঘটনা নতুন নয়। তাই বর্তমানে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নানা পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘এই প্রকল্পে কার্ড ব্যবস্থাই উঠে যেতে চলেছে। আগামীদিনে আধারের মাধ্যমেই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন উপভোক্তারা।’
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ২০৫টি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি সরকারি ও ১৬৭টি বেসরকারি হাসপাতাল। গত অর্থবর্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের খরচ হয়েছে ৬২৪ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার পরিমাণ প্রায় ৫৭৬ কোটি টাকা।