Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভাড়াটে সেনা নিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না, জয়ের জন্য লাগে আবেগ
তন্ময় মল্লিক

লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির সাফল্যকে অনেকেই সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেরুয়া ঝড়ে আসমুদ্রহিমাচল বিরোধীরা কার্যত ধুয়েমুছে সাফ। জাতীয় রাজনীতিতে শাসক দলের এমন বিধ্বংসী চেহারা মানুষ বহুদিন প্রত্যক্ষ করেনি। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের ‘জোড়া ফলা’য় ছিন্নভিন্ন হয়েছে বিরোধীদের সব প্রতিরোধ। সুনামির চেয়েও ভয়ঙ্কর, আইলা, ফণীর চেয়েও বিধ্বংসী সেই দাপটে কেঁপেছে লড়াই ও আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৈরি ‘মা মাটি মানুষে’র সরকারের ভিত। ঝড়ে পাওয়া ১৮টি আসনে বলীয়ান গেরুয়া শিবিরের চোখে সরকার বদলের স্বপ্ন—মিশন-২০২১। লক্ষ্য স্থির করা এবং টার্গেট হিট করা ‘জোড় ফলা’র অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে। তবে, সাফল্য লাভই যখন শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়, তখন পথ গুরুত্বহীন হয়। তখনই অনিবার্য হয়ে ওঠে দ্বন্দ্ব, সংঘাত। আর সেটাই বিজেপির ‘মিশন-২০২১’ এর পথে অন্তরায় হতে পারে।
ঝড় বিধ্বংসী হলেও তা ক্ষণস্থায়ী। তবে, থেকে যায় ঝড়ের প্রভাব ও স্মৃতি। যে কোনও বিধ্বংসী ঝড়ের পর মিস্ত্রির চাহিদা আকাশ ছোঁয়। ধ্বংসস্তূপ সরানো থেকে পুনর্নিমাণ সব ক্ষেত্রেই দরকার মিস্ত্রির। শুধু পার্থিব ঝড়ের ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ঝড়ঝঞ্ঝার পরও মিস্ত্রির চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পর রাজ্যজুড়ে মিস্ত্রি জোগাড়ে নেমেছে বিজেপি। শাসক দলের ‘নেগেটিভ ভোট’ আর জাতীয়তাবোধের ধাক্কায় সাফ঩ল্যের নৌকা তীরে ভিড়লেও ২০২১ সালে লড়াইটা বেশ কঠিন তা ‘কেশব ভবন’ খুব ভালো করেই জানে। কারণ ২০২১ সালের ভোটে বালাকোট থাকবে না। কাটমানি ইস্যুতে তৃণমূলের বহু মাতব্বরের গলায় লেগেছে ‘বকলেস’। তার উপর তৃণমূল যদি কৌশলে ‘কাটমানি নেতা’দের শোকেস থেকে গোডাউনে পাঠিয়ে দিতে পারে, তাহলে বিজেপির লড়াইটা আরও কঠিন হবে।
লড়াইটা কঠিন হবে বুঝেই সংগঠনে মন দিয়েছে বিজেপি। শুরু হয়েছে ‘সদস্যতা অভিযান’। দল না বাড়লে ক্ষমতা দখল করা যায় না। তাই শুরু হয়েছে ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি। আর সেখানেই বেধেছে বিপত্তি। তবে ক্ষমতা দখল, আর এলাকা দখল এক নয়। ক্ষমতা দখলে লাগে মানুষের সমর্থন, আর এলাকা দখলের হাতিয়ার বোমা, বন্দুক ও মস্তান। ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে মানুষই সম্পদ। আর এলাকা দখলে দাগিরা হয়ে ওঠে ‘দলের সম্পদ’। ‘দলের সম্পদরা’ চটজলদি রেজাল্ট দেয় বলে দলে তাদের দাপটও মারাত্মক। ভোট রাজনীতিতে সাফল্যই শেষ কথা হওয়ায় ‘দলের সম্পদ’দের গুরুত্ব অসীম। ইতিহাস সেকথাই বলে। ২০০০ সালে সিপিএমের কেশপুর, গড়বেতা, চমকাইতলা পুনর্দখলের সময় অন্তত তেমনটাই দেখা গিয়েছিল। গ্রাম দখল অভিযানে
সামনে থাকত কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা। তাদের হাতে থাকত লং রেঞ্জের রাইফেল। সেই রাইফেলে অনেক দূর থেকে বিরোধীদের দখলে থাকা গ্রামের ‘যোদ্ধা’দের শুইয়ে দেওয়া যেত। লড়াইয়ের দিনগুলিতে মস্তানদের পিছনে পিছনে ঝাণ্ডা নিয়ে যেতেন ক্যাডার ও নেতারা। গ্রাম দখলের পর গাছের মগডালে বেঁধে দেওয়া হতো লাল ঝাণ্ডা। সেই ঝাণ্ডার আস্ফালনই বুঝিয়ে দিত, গ্রামের মালিক সিপিএম।
শাসক বদলায়, ক্ষমতা বদলায়, কিন্তু এলাকা দখলের কৌশল বদলায় না। তাই মানুষের ভোটে জিতেও শাসকদল ভিত শক্ত করতে প্রশ্রয় দেয় সেই ‘দলের সম্পদ’দেরই। মানুষ হয়ে যায় গৌণ। এই একই ভুল শাসকদল সর্বত্র করে। বারে বারে করে। কারণ ক্ষমতার দম্ভ মানুষের বিবেচনা শক্তিকে শুষে নেয়। তবে, ‘দলের সম্পদ’দের সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্কটা অনেকেটা গণিতের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কের মতোই। একজন বাড়লে, অন্যজন কমে। দলে মস্তানদের আধিপত্য বাড়লে জনগণ সরে যায়, আবার মস্তান নির্ভরতা কমলে জনসমর্থন বাড়ে। এর অন্যথা হয় না।
টানের বাজারে জোগাড়েও কর্নিক হাতে নিয়ে রাজমিস্ত্রি হয়ে যায়। আবার কেঁট আলু, দাগি আলু, এমনকী পচা আলুও বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। অনেকটা সেইভাবেই বিজেপির টানের বাজারে সিপিএম আর তৃণমূলের দাগি, পচারা গেরুয়া শিবিরের রাজা, উজির হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে বিজেপিতে সংগঠকের বড়ই প্রয়োজন। কারণ ‘আবেগের সমর্থন’ আর মেঘ অনেকটা একই রকম। যে কোনও সময় ভেসে ভেসে এদিক থেকে ওদিকে চলে যেতে পারে। তবে, মৌসুমী বায়ুর ছোঁয়া পেলে অবশ্য সেই মেঘই বৃষ্টি হয়ে ঝরে। আর বৃষ্টি হলে রুখাশুখা মাঠও সুজলা সুফলা হয়ে ওঠে। তাই সংগঠকদের বাজার এখন তুঙ্গে।
রাজনীতিতে মৌসুমী বায়ুর কাজটা করে সংগঠকরাই। সেই কারণেই সংগঠকদের এত চাহিদা। তাতে কেঁট হোক, পচা হোক বা দাগিই হোক, গায়ে সংগঠকের ছাপটা থাকলেই হল। সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না তৃণমূল ও সিপিএমের সুযোগ সন্ধানীরা। কারণ তাঁরা ভাবছেন, আকাশে যে মেঘ জমেছে তাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সেই কারণেই লেগেছে হুড়োহুড়ি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা প্লেয়াররা তো পায়ে বল ছোঁয়ানোর জন্য মরিয়া। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে প্রকৃতি কেমন যেন খামখেয়ালিপনা শুরু করেছে। দামি দামি যন্ত্রের সাহায্য নিয়েও আবহাওয়াবিদদের দেওয়া পূর্বাভাস মিলছে না। আবহাওয়াবিদরা হয়তো বলছেন, সারাদিন বৃষ্টি হবে। অথচ সকাল থেকে রোদে কাঠ ফাটছে। আবার উল্টোটাও হচ্ছে। হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে যাচ্ছে। তাই পূর্বাভাসে মানুষ আর আগের মতো ভরসা রাখতে পারছে না। সব সময় যেন মনের মধ্যে কেমন একটা কিন্তু-কিন্তু ভাব থেকেই যাচ্ছে।
মেঘের সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর সংযোগ স্থাপন হবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে মস্তান, দাগি, পচাদের ভিড় বাড়লে দলের ইমেজ যে কেরোসিন হতে পারে সেটা বিজেপির অনেকেই আশঙ্কা করছেন। আর তা হলে মুখ থুবড়ে পড়বে ‘মিশন-২০২১’। সেই জন্যই ‘সবারে করি আহ্বান’ গানে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে এব্যাপারে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন আসানসোলের সংসদ সদস্য তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সম্ভবত দলের মধ্যে আপত্তি জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বুঝেই তিনি দুম করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছেন একটি ‘ভয়েস মেসেজ’। দুর্গাপুরের ‘চিন্তন শিবিরে’র আগের দিন ওই ‘ভয়েস মেসেজে’ তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দল বাড়াতে হবে ঠিকই। তবে তৃণমূলের নেতাদের নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর ঘোর আপত্তি আছে। কারণ তৃণমূলের নেতারাই বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন এবং চালাচ্ছেন। শুধু আপত্তির কথা জানিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, তিনি যোগদান প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
চিন্তন শিবির বিজেপি নেতাদের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ চিন্তন শিবিরের দ্বিতীয় দিনে দুর্গাপুরে প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল নেতার যোগদানকে কেন্দ্র করে তুমুল অশান্তি হয়। ‘সুশৃঙ্খল’ পার্টির কর্মী সমর্থকরা সভাস্থলে চেয়ার ভেঙে নেতাদের কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, যারা এতদিন বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, লুটপাট চালিয়েছে, তাদের দলে নিলে চলবে না। গেরুয়া শিবিরের আদি কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের উপর রেগে মানুষ তাদের দলকে সমর্থন করেছে ফের তারাই যদি ‘বিজেপির মুখ’ হয়ে যায় তাহলে কেন বিজেপিকে চাইবে?
তবে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের আশঙ্কার জায়গাটা আরও বড়। তাঁদের ধারণা, বিভিন্ন জায়গায় অন্য দলের যে সব নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা বেশিরভাগই প্রচুর টাকার মালিক। টাকার জোরে একদিন তাঁরাই দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। তারপর তাঁরাই সুযোগ বুঝে আমাদের উপর অত্যাচার চালাবেন। ঠিক এটাই হয়েছিল তৃণমূলে। তাহলে আমরা কি সব সময় পড়ে পড়ে মারই খাব? দুর্গাপুর বা আসানসোলের ঘটনা হয়তো খণ্ডচিত্র। তবে, প্রায় একই ঘটনা ঘটছে বর্ধমান, কেশপুর, গোঘাট, বীরভূম সহ রাজ্যের প্রায় সর্বত্র। সিপিএম এবং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির হয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।
দল বাড়ানোর জন্য একটা সময় তৃণমূল যে ভুল করেছিল, বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যের বহু জায়গায় সেই একই কাজ করে যাচ্ছে। এসব দেখে চিন্তন শিবিরের পর বিজেপির এক প্রবীণ কর্মী বলেন, নিজেদের লোককে তৈরি করে নেওয়ার আনন্দটা যে সন্তান মানুষ করার চেয়ে কম নয়, সেটা আমাদের কেউ কেউ বুঝতে পারছেন না। এই দেখুন, চন্দ্রযান-২ নিয়ে আমাদের এত আবেগ কেন? কারণ সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে, দেশের বিজ্ঞানীরা এই চন্দ্রযান তৈরি করেছেন। সেই জন্য চন্দ্রযান-২ এর সঙ্গে গোটা দেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে গিয়েছে। আজ যদি এটা আমেরিকার নাসার সঙ্গে যৌথভাবে করত তাহলে কি এই আবেগ থাকত? না, কিছুতেই থাকত না। দেখুন, চন্দ্রযান-১ চাঁদে নামতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে মানুষ চন্দ্রযান-২’কে নিয়ে আবেগে ভেসেছে। কারণ নিজেদের তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের আবেগ অসীম। সেই জন্যই তো নিজের গাছের টক আমও সুস্বাদু লাগে।
ওই প্রবীণ বিজেপি কর্মী বলেন, আসলে আবেগ এক ভয়ঙ্কর শক্তি। আবেগ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। আবেগ ছিল বলেই মোহন বাগানের খেলোয়াড়রা খালি পায়ে ফুটবল খেলে বুট পরা ইংরেজদের হারাতে পেরেছিল। আবেগ ছিল বলেই এরাজ্যে প্রায় কোনও রকম সংগঠন ছাড়াই বিজেপি আজ ২ থেকে ১৮। আবেগ আছে বলেই তো মানুষ আর যন্ত্র আলাদা। তা না হলে সব এক হয়ে যেত। ভাড়াটে সৈনিকের মধ্যে আবেগ থাকে না। তাই ভাড়াটে সৈনিক এনে হয়তো সংখ্যা বাড়ানো যায়, বিরোধীদের চাপে রাখা যায়, কিন্তু যুদ্ধ জেতা যায় না। এই সহজ সত্যিটা আমাদের নেতারা যত তাড়াতাড়ি বোঝেন ততই মঙ্গল।
25th  August, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
মানুষই কি মানুষের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াচ্ছে!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষের সেদিন কি আর খুব দূরে নয়? সাম্প্রতিককালে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির নজিরবিহীন খামখেয়াল, মানুষের লোভের আগুনে সবুজের নির্বিচার মৃত্যু এবং বহু বহু বছর ধরে সীমাহীন অপচয়ের ফলে ফুরিয়ে আসা পানীয় জলের ভাঁড়ার আমাদের মনে আজ এই ভয়ঙ্কর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বিশদ

05th  September, 2019
একনজরে
বিশ্বজিৎ দাস, হায়দরাবাদ: দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা বলে আসছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথীরই নকল। আজ যা মোদি করছেন, কয়েক বছর আগে থেকেই তা বাস্তবায়িত করা শুরু করেছেন মমতা। ...

নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): তিনি ছত্রপতি শিবাজির বংশধর। শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন সাতারার এনসিপি সাংসদ উদয়নরাজে ভোঁসলে। দিল্লিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে ভিড়লেন উদয়নরাজে। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৃহস্পতিবার রাত থেকে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের কাশিয়াডাঙা অঞ্চলে ভাঙন শুরু হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামে যাওয়ার প্রধান রাস্তাও গঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   ...

 সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাগনানের ওড়ফুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের রানাপাড়া। শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ চলাকালীন ব্যাপক বোমাবাজির পাশাপাশি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে দু’পক্ষের বিরুদ্ধে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি, প্রিয়জনের বিপদগামীতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা, সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস
১২৫৪: পরিব্রাজক মার্কো পোলোর জন্ম
১৮৭৬: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৯ টাকা ৭১.৭৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৯৩ টাকা ৮৯.১৩ টাকা
ইউরো ৭৭.০৩ টাকা ৮০.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৭, ৯৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ০৪৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৫৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫, ২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫, ৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৭/২৪ দিবা ১২/২৪। উত্তরভাদ্রপদ ৫০/৪৪ রাত্রি ১/৪৪। সূ উ ৫/২৬/৩৮, অ ৫/৩৭/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৪ গতে ৯/৩০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৪৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০ গতে ১/৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১ গতে ২/৩০ মধ্যে।
২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, প্রতিপদ ১৩/৩২/২১ দিবা ১০/৫১/১৩। উত্তরভাদ্রপদ ৪৯/৫০/৬ রাত্রি ১/২২/১৯, সূ উ ৫/২৬/১৭, অ ৫/৩৯/৩৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৩ গতে ৯/৩০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৬ গতে ৮/৫০ মধ্যে, বারবেলা ১০/১/১৭ গতে ১১/৩২/৫৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/৫৭ গতে ১/৪/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১/১৭ গতে ২/২৯/৩৭ মধ্যে।
 ১৫ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চিঠি হাতে নবান্নে সিবিআই 
সিবিআই হাজিরা এড়িয়ে এক মাস সময় চেয়েছেন প্রাক্তন পুলিস কমিশনার ...বিশদ

06:15:02 PM

ফের বদলাল রাজ চক্রবর্তীর ছবির নাম 
রাজ চক্রবর্তীর আগামী ছবির নাম আরও একবার বদলাল। ছবির প্রথম ...বিশদ

05:24:30 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে নৌকা উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মৃত ১১, বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি 

05:16:17 PM

মা উড়ালপুল থেকে পড়ে জখম ১ ব্যক্তি 

04:45:51 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে নদীতে উল্টে গেল নৌকা, ৫ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা, নিখোঁজ একাধিক 

04:24:32 PM

মেয়ো রোডে বাস দুর্ঘটনা, জখম একাধিক যাত্রী 

03:15:59 PM