


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: জেলায় চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের তুলনামূলক উৎপাদন অনেকটাই কম। তবে, এবার পুরুলিয়া জেলা পিঁয়াজ উৎপাদনে আত্মনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে অবশ্য সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক জরুরি। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে জেলার উদ্যান পালন দপ্তর পেঁয়াজ মজুতের পরিমাণ বাড়ানোয় জোর দিয়েছে। আর তাই জেলাজুড়ে নতুন করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে চাষিদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, স্বল্পমূল্যের পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরির জন্য মোট খরচের ৫০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। তাতে চাষিদের মধ্যে আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে। চলতি অর্থবর্ষে জেলাজুড়ে মোট সাতটি নতুন পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর গড়ে উঠতে চলেছে। এবিষয়ে জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দপ্তরের তরফে ভর্তুকি দিয়ে চাষিদের গোলা তৈরির ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলায় বেশকিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর রয়েছে। তবে, মজুতের পরিমাণ বাড়াতেই আরও নতুন পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই প্রতিটি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই কাজ শেষ হলে আখেরে জেলার চাষিরাই উপকৃত হবেন।
কমবেশি জেলার প্রায় প্রতিটি ব্লকেই পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। তবে আড়ষা, মানবাজার-১, বরাবাজার, বলরামপুর ব্লক পেঁয়াজ চাষের ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে এই ব্লকগুলিতে চাষিরা খারিফ মরশুমের পেঁয়াজ চাষের কাজেও মন দিয়েছেন। দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, জেলাজুড়ে চাষিদের মধ্যে আনুমানিক ৬৪০ কেজি বীজ বিলি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দপ্তরের কর্তাদের আশা, খারিফ মরশুমে পেঁয়াজের উৎপাদন আশানুরূপ ভালোই হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্য পেঁয়াজ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুততার সঙ্গে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরির কাজ শেষ করার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্বল্পমূল্যের পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘরে আনুমানিক ২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এক-একটি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘরের দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট হতে হবে। ছাউনিতে থাকবে অ্যাসবেসটস। চতুর্দিকে বাঁশের বেড়া। অন্যদিকে, পেঁয়াজ সংরক্ষণে ঘরের ভিতরে মাটি থেকে প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতায় প্রথম র্যাক তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রেও বাঁশের ব্যবহার বাধ্যতামূলক। একইভাবে আরও দু’টি র্যাক গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজন অনুসারে একই সংরক্ষণ ঘরে একাধিক চাষি পেঁয়াজ মজুতের সুযোগ পাবেন। একেকটি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরি করতে আনুমানিক দু’লক্ষ টাকা খরচ হবে। সেক্ষেত্রে একজন চাষি পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরির ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা অনুদান পাবেন। বরাবাজার ব্লকের বামুনডিহার চাষি দুলালচন্দ্র মাহাত এবছর প্রায় তিনবিঘা জমিতে খারিফ মরশুমের পেঁয়াজ চাষ করছেন। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতায় এবার পেঁয়াজ সংরক্ষণ ঘর তৈরি করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগামীতে সেখানেই জমির পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারব। তাতে খানিকটা সুরাহা হবে। অভাবী বিক্রির মুখে পড়তে হবে না।