


লখনউ: রাতের বিধ্বংসী ঝড়ের তাণ্ডব। তার জেরে প্রয়াগরাজ, ভাদোহি, ফতেপুর এবং সোনভদ্র সহ উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু। জখম আরও ৫৩ জন। শুধু তাই নয়। প্রায় ১১৪টি গবাদি পশু ঝড়জনিত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। ৮৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস। রাস্তায় উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি ও অজস্র গাছ। তার জেরে রাজ্যের নানা প্রান্তে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দমকল ও পুলিশ রাস্তা থেকে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে ঝড়ে বিপর্যস্ত ও গৃহহীনদের ত্রাণ বিলিও শুরু করেছে প্রশাসন।
ত্রাণ কমিশনার দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতে প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের জেরে রাজ্যজুড়ে ১০০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রয়াগরাজে। সেখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভাদোহিতে ১৭, মির্জাপুরে ১৫, ফতেপুরে ৯ জন, বাদাউনে ৬ জন এবং প্রতাপগড় ও বরেলিতে চারজন মারা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই দুর্গতদের উপযুক্ত ত্রাণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি অসময়ের এই বৃষ্টিতে যে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে সাহায্য ও জখমদের চিকিৎসার সবরকম সাহায্যের বন্দোবস্ত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পেশেরও কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ার এক পোস্টে ত্রাণ কমিশনার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের অন্তত ৩০টি জেলায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে বড় শহর গাজিয়াবাদ, বারাণসী এবং অযোধ্যাও রয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার কারণে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুরোপুরি বিপর্যস্ত। সড়ক পরিবহণেও বিপুল কোপ পড়েছে। ভাদোহির অতিরিক্ত জেলাশাসক দুষ্যন্ত কুমার জানিয়েছেন, এলাকা ধরে ধরে বিচার করে যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।