


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নন্দীগ্রাম এবং বিশেষত সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনে ভর করেই ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে তৃণমূল জমানার এই ১৫ বছরে সিঙ্গুরে সেভাবে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ পেয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সারা রাজ্যের উন্নয়নের সঙ্গেই তারা একইসঙ্গে নজর ফেরাচ্ছে সিঙ্গুরের দিকেও। সেইমতোই এবার সিঙ্গুরে ইমিটেশন গয়নার হাব তৈরি করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এব্যাপারে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক উদ্যোগে হাত দেওয়া হয়েছে। বুধবার দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সিঙ্গুরে ইমিটেশন গয়নার ব্যবসা রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। অথচ আগের রাজ্য সরকার এদিকে কোনো নজর দেয়নি। বিজেপি সরকার সিঙ্গুরে ইমিটেশন গয়নার হাব তৈরির কথা ভাবছে। কীভাবে কী করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সিঙ্গুরের কোন জমিতে প্রস্তাবিত এই হাব তৈরি হবে, তা নিয়ে অবশ্য বিজেপির অন্দরে সংশয় রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সিঙ্গুরে ইমিটেশন গয়নার হাব তৈরি করে দেওয়াই নয়। রাজ্যের বিজেপি সরকারের অন্যতম ফোকাসে রয়েছে অভিন্ন দিওয়ানি বিধি কার্যকরের মতো বিষয়ও। এব্যাপারেও প্রাথমিকভাবে উদ্যোগী হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এদিন দিল্লিতে শমীকবাবু বলেন, অভিন্ন দিওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির কোনো গোপন এজেন্ডা নয়। সব বিজেপি শাসিত রাজ্যেই তা হচ্ছে। ফলে বাংলাতেও হবে।
বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবার দিল্লিতে এসেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীকবাবু। সঙ্গতভাবেই তাঁর এই দিল্লি সফর ঘিরে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির একাধিক শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীর সঙ্গে শমীকবাবুর সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছ থেকে আপনি কি কোনো পরামর্শ নেবেন? শমীকবাবু বলেন, রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে আমার দূরদূরান্তেও কোনো সম্পর্ক নেই। ওটা সরকারের বিষয়। আমার কাজ সংগঠন দেখা। জানা যাচ্ছে, বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও জোর দিচ্ছে বিজেপি। রাজ্যে সরকার গঠনের পর কোন কোন প্রতিশ্রুতি পূরণ হল, তালিকা ধরে তার প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এক্ষেত্রে অন্যতম মাধ্যম করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াকেই।