Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘সিন্দুর’ অস্ত্রে ভোটের দামামা, নির্মম সরকার বাংলায়: মোদি

বাংলায় ‘নির্মম’ সরকার চলছে। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডের সভা থেকে এভাবেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

‘সিন্দুর’ অস্ত্রে ভোটের দামামা, নির্মম সরকার বাংলায়: মোদি
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, আলিপুরদুয়ার: বাংলায় ‘নির্মম’ সরকার চলছে। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডের সভা থেকে এভাবেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবং একইসঙ্গে ‘অপারেশন সিন্দুর’ অস্ত্রে বাজিয়ে দিলেন ভোটের দামামাও। ‘রাজনীতির মোড়কে’ বাঁধা জনসভায় অপারেশন সিন্দুরের জন্য মোদিকে যত না সেনাবাহিনীর প্রশংসা করতে শোনা গেল, তার থেকে অনেক বেশি তিনি বিজেপির নেতা-কর্মীদের বোঝালেন, কীভাবে একে রাজনীতির মঞ্চে কাজে লাগাতে হবে। ‘সিন্দুর’ অস্ত্রে এদিন কার্যত বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন তিনি। বললেন, ‘পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে ওদের তিনবার মেরেছি। আমরা মহিষাসুরমর্দিনীর পুজো করি। রয়্যাল বেঙ্গলের ভূমিতে দাঁড়িয়ে বলছি, অপারেশন সিন্দুর শেষ হয়নি।’ 

Advertisement

শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য বা পরিকাঠামো উন্নয়ন— বাংলার সরকার কোথায় কোথায় ব্যর্থ, এদিন সেটা প্রমাণেই মরিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে তাঁর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার যে কতটা সচেষ্ট, তা তুলে ধরার চেষ্টায় কসুর করেননি মোদি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ রাজ্যের মানুষের মন জয়ের চেষ্টায় মোদি বলেন, ‘আমি চাই, মেক ইন ইন্ডিয়ার ভরকেন্দ্র হোক বাংলা। জ্ঞান-বিজ্ঞানের হাব হোক। আমরা বাংলার হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনতে চাই।’ 
চায়ের জেলা আলিপুরদুয়ারে সভা করতে এলেও চা বাগানের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও শোনা যায়নি প্রধানমন্ত্রীর মুখে। পাহাড়ের গোর্খা জনজাতির উন্নয়নেও কোনও শব্দ খরচ করেননি। শিলিগুড়ি চিকেনস নেকের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে ভাষণের আগাগোড়া নানা ইস্যুতে বাংলার তৃণমূল সরকারকে আক্রমণই ছিল মোদির এদিনের মূল টার্গেট। হিংসা, নারীদের নিরাপত্তাহীনতা, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও গরিবের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া, বাংলা বর্তমানে এই পাঁচটি সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে চলছে বলে তোপ দাগেন। বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ ও মালদহে যা ঘটেছে, তা এ রাজ্যের সরকারের নির্মমতার উদাহরণ। বেছে বেছে ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরাও তাতে অংশ নিয়েছেন। পুলিস-প্রশাসন তামাশা দেখেছে।’ 
এসএসসি কাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তোপ, শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে বাংলার সরকার। তবুও এরা ভুল স্বীকার করতে রাজি নয়। আদালতকেও মানে না। তৃণমূল ২৪ ঘণ্টা রাজনীতি করে। উন্নয়ন নিয়ে ওদের কোনও ভাবনা নেই বলে আক্রমণ করে মোদি বলেন, নীতি আয়োগ গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক হয়ে গেল। সবাই এসেছিল। শুধু বাংলা যোগ দেয়নি। দেশের উন্নয়নে বাংলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র বাংলার উন্নয়নে সচেষ্ট। অথচ বাংলায় রেল, হাইওয়ে, হাসপাতাল সহ ৯০ হাজার কোটি টাকার ১৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য সরকার আটকে রেখেছে বলেও এদিন অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’য় আট লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়ে রয়েছে বাংলায়। রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র মেলেনি। আদিবাসীদের জন্য ‘পিএম জনমন’ যোজনা বাংলায় চালু করতে দেওয়া হয়নি। গত বছরই বাংলায় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ৪ হাজার কিমি রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখনও ৪০০ কিমি রাস্তা হয়নি। আয়ুষ্মান ভারত চালু করতে দেওয়া হয়নি। ফলে চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলে সুবিধা পাচ্ছে না বাংলার মানুষ। ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা যাতে বিনামূল্যে পাঁচ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পান, সেজন্যও প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেটাও বাংলায় চালু হয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ