


সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: একই মাঠে গন্ডারের সঙ্গে গোরু মোষের বিচরণ। ডুয়ার্সের নাগরাকাটার বামনডাঙায় এলে চাক্ষুষ করা যাবে এমন বিরল ঘটনা। নাথুয়া বা গোরুমারার জঙ্গল থেকে মাঝেমধেই গ্রামে চলে আসছে গন্ডার। সকাল থেকে সারা দিন মাঠেই গোরু মোষের সঙ্গে ঘুরে বেরাচ্ছে একশৃঙ্গ গন্ডার। স্থানীয়দের দাবি, রাতেও গন্ডার মাঠেই গোরু মোষের সঙ্গে ঘুমাচ্ছে।
স্থানীয় গো-পালক বামনডাঙার বাসিন্দা মিরান ওরাওঁ বলেন, আমাদের গ্রামের মাঠে কয়েকশো গোরু, মোষ চরে বেড়ায়। মাঠের সবুজ ঘাস খায়। এই ঘাস খেতেই গোরুমারা ও নাথুয়ার জঙ্গল থেকে মাঝেমধ্যে গন্ডার চলে আসছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও গোরু কিংবা মোষের ক্ষতি করেনি গন্ডার।
আর এক গো-পালক রঞ্জিত ওরাওঁ বলেন, আমাদের অনেকেই মাঠে তৈরি করা অস্থায়ী ছাউনিতে রাতে থাকেন। একই মাঠে গন্ডারের সঙ্গে গবাদিপশুর সহাবস্থান দেখে যায়। দূর থেকে গন্ডারকে মোষের মতো লাগে। কারণ উভয়েরই গায়ের রং প্রায় একই। তাই খুব সাবধানে আমরা মাঠে গোরু চরাতে যাই। কখনও আবার বাজি-পটকা ফাটিয়ে গন্ডার তাড়াই। এক গোয়ালা বলেন, গন্ডার এলেও কারও কোনও ক্ষতি করেনি এখনও। আমরা গোরুর দুধ দোয়াতে যাই। তখন ভয় হয়, এই বুঝি গন্ডার চলে এসে আক্রমণ করল।
খুনিয়ার রেঞ্জার সজলকুমার দে বলেন, ওই এলাকায় গোরু ও মোষের সঙ্গে গন্ডার সহাবস্থান করে, সেটা আমাদের নজরেও এসেছে। গ্রামবাসীরা খবর দিলে আমরা পৌঁছে গন্ডার জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করি। ওই মাঠের পাশেই আছে মেদলা টাওয়ার। সেখান থেকে গন্ডার আসে।