


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বকেয়া বিল না মেটানোয় একমাসে নন্দীগ্রাম ও খেজুরির ৫৯৩জন গ্রাহকের বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দিল বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। ওই সমস্ত গ্রাহকের মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ ৭৮লক্ষ টাকা। আপাতত সংস্থার সেই টাকা জলে গেল। একমাস ধরে বকেয়া না মেটানো গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হয়েছে। তাতে নন্দীগ্রাম ও খেজুরির ১০৩১জনের কাছ থেকে ১কোটি ৪০লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ডিসেম্বর মাসজুড়ে আরও একহাজার এমন ‘ডিফল্টার’ গ্রাহকের বাড়িতে অভিযান চলবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে বিদ্যুৎগ্রাহকদের একটা বড় অংশ সময়মতো বিল মেটাচ্ছেন না। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে। বৈধ মিটার এড়িয়ে হুকিং করে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রবণতাও কমছে না। ডব্লুবিএসইডিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ে চাপ বাড়াচ্ছে। তাই তিনটি স্তরে স্পেশাল টিম গড়ে বকেয়া আদায়ে জোর দিয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। তাতে খেজুরি ও নন্দীগ্রামে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই দুই এলাকায় ২৬০০ ডিফল্টারের মোট বকেয়ার পরিমাণ ৩কোটি ৪১লক্ষ টাকা। অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১কোটি ৪০লক্ষ উদ্ধার হলেও বাকিটা অনাদায়ী। এই দুই এলাকায় অনেক গ্রাহক নোটিশ ইস্যুর পরও বকেয়া টাকা শোধ করেননি। তাই সংস্থার তরফে ওই গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে।
সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার শুভেন্দু ভড় বলেন, আমরা রিজিওনাল, ডিভিশনাল ও সাপ্লাই-তিনটি স্তরে স্পেশাল টিম তৈরি করে বকেয়া টাকা উদ্ধারে জোর দিচ্ছি। অনেকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এটা আগামী দিনেও চলবে।
নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে ১৬০০গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে বিল শোধ করেননি। তাঁদের নামে বারবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাতেও সাড়া মেলেনি। তাই সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা স্পেশাল টিম গড়ে ওই গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। গত একমাসে ১৮১জন ডিফল্টারের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মোট ২১লক্ষ টাকা বকেয়া ছিল। আপাতত সেই টাকা উদ্ধার হল না। তবে অভিযানে ৬০১জন গ্রাহকের থেকে মোট ৯৩লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন সংস্থার পূর্ব মেদিনীপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার শুভেন্দুবাবু। গত তিনমাসে নন্দীগ্রামে ৩৮জন গ্রাহকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাদের থেকে ৩০লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়া, খেজুরিতে ৯৯৮জন উপভোক্তা সময়মতো বিল শোধ না করায় সংস্থা তাঁদের নোটিশ পাঠিয়েছিল। তাতে কাজ না হওয়ায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চলছে। একমাসে ৪৩০জনের কাছ থেকে ৪৭লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বিল শোধ করতে না পারায় ৪১২জন গ্রাহকের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে সংস্থার প্রাপ্য ছিল মোট ৫৭লক্ষ টাকা। আপাতত সেই টাকা উদ্ধার করা গেল না।
তবে নন্দীগ্রাম ও খেজুরিতে আরও অন্তত ১০০০ উপভোক্তার বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো বাকি আছে। পুরো ডিসেম্বর মাসজুড়ে ওই ডিফল্টার গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হবে। নিজস্ব চিত্র