


সংবাদদাতা, বোলপুর: নাবালিকা বিয়ে রুখতে সবরকম চেষ্টা করছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। তা সত্ত্বেও অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে লুকিয়ে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসছে। তবে প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থার চেষ্টায় শনিবার পাড়ুই থানা এলাকায় ফের জোড়া নাবালিকার বিয়ে আটকানো সম্ভব হল। পুলিসের তরফে ওই দুই নাবালিকার পরিবারকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ১৮বছর আগে নাবালিকার বিয়ের দেওয়ার চেষ্টা হলে অভিভাবক ও শ্বশুরবাড়ি পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাড়ুই থানার অন্তর্গত বেলপাতা ও বড়াল গ্রামে ১৫বছর বয়সি ওই দুই নাবালিকার বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। দুই নাবালিকাই স্থানীয় স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী। বিয়ের যাবতীয় আয়োজন করেছিল। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে বিয়েতে বেঁকে বসে দুই নাবালিকা। দুই নাবালিকার বিয়ের আয়োজনের খবর পায় প্রশাসন ও বেসরকারি সংস্থা। এরপরই পাড়ুই থানার পুলিসের দু’টি প্রতিনিধি দল ও বেসরকারি সংস্থার আধিকারিকরা দুই নাবালিকার বাড়িতে যান। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য প্যান্ডেল তৈরি থেকে রান্নার আয়োজন সম্পন্ন ছিল। বহু আত্মীয়স্বজন ও বরপক্ষ উপস্থিত রয়েছে। এরপর প্রশাসনের প্রতিনিধিরা পরিবারকে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন বুঝিয়ে বলেন। কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, দুই নাবালিকাই এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাই প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অভিভাবকদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব বোঝান। অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। দুই নাবালিকা যাতে নিয়মিত স্কুলে যায় সেবিষয়েও নজর রাখা হবে বলে পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।
নানুর থানার মনিগ্রাম ও পাড়ুই থানার সোদপুর গ্রামে দুই পাত্রের বাড়ি। তাদেরকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থার এক প্রতিনিধি বলেন, আইন মেনে দুই নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায় ও নিয়মিত স্কুলে যায় সেদিকে নজর রাখা হবে।