Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে যুবকদের ফাঁদে ফেলছে পাক গুপ্তচর সংস্থা, সতর্ক গোয়েন্দারা

সোশ্যাল মিডিয়ায় যৌনতার মায়াজাল ছড়িয়ে রেখেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই)। সেই টোপেই এই দেশের যুবকদের ফাঁদে ফেলছে তারা।

অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে যুবকদের ফাঁদে ফেলছে পাক গুপ্তচর সংস্থা, সতর্ক গোয়েন্দারা
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল  বর্ধমান

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় যৌনতার মায়াজাল ছড়িয়ে রেখেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা (আইএসআই)। সেই টোপেই এই দেশের যুবকদের ফাঁদে ফেলছে তারা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে অপারেট হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার বহু গ্রুপে এদেশের যুবকরা যুক্ত । ওই গ্রুপগুলিতে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে যুবকদের প্রভাবিত করা হয়। ওই গ্রুপগুলি এদেশের মোবাইল নম্বর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কিছুদিন গ্রুপে ভিডিও পাঠানোর পরই আইএসআইয়ের এজেন্টরা ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠাতে থাকে। তারা নিজেদের যুবতী হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের জালে কেউ জড়িয়ে গেলে ‘স্পাই’য়ের কাজে নামানো হয়। গোয়েন্দারা ওই গ্রুপগুলির উপর নজরদারি শুরু করেছে। কি ধরনের মেসেজ আদান প্রদান হচ্ছে বা কতবার পাকিস্তান থেকে ফোন আসছে, সব কিছুই গোয়েন্দারা নথিভুক্ত করছে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে কাটোয়া মহকুমার এক যুবতীর উপর নজরদারি চালানো হয়। ওই যুবতী পাকিস্তানের এক যুবকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। মেসেজের পাশাপাশি তারা ফোনেও কথা বলত। পরে ওই যুবতী পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করে। গোয়েন্দারা আগাম জানতে পেরে পাকিস্তান যাত্রা আটকে দেয়। মেমারি এবং বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া দুই পাকচরও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। বিভিন্ন তথ্য পাঠাত। এক আধিকারিক বলেন, পাকিস্তানে গুপ্তচর সংস্থা শুধু ওই দু’জনকেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বহু যুবকের সামনেও টোপ ফেলেছিল। ‘স্পাই’য়ের কাজ করানোর জন্য তারা মোটা অঙ্কের টাকারও অফার করে। তাতে রাজি হলেই কাজে লাগাতে শুরু করে। তখন এ দেশের মোবাইল নম্বর, ওটিপি পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করে তারা পাঠাতে থাকে।  ইউটিউবারদেরও  টার্গেট করে আইএসআই। তবে, সবাই তাদের জালে জড়ায় এমনটা নয়। সন্দেহ হওয়ার পরই অনেকে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। 
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পূর্ব বর্ধমানে পাকড়াও হওয়া দুই চর ধর্ম প্রচার করার নামে এনজিও খুলেছিল। তাদের ওয়েবসাইটের সূত্র ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ধৃতরা বিভিন্ন ব্যক্তির নথি ব্যবহার করে সিমকার্ড কিনেছিল। সেই মোবাইল নম্বর তারা আইএসআইয়ের এজেন্টের কাছে পাঠাত। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য তাদের কাছে ওটিপি আসত। সেটাও তারা শেয়ার করত। বেশ কিছুদিন ধরেই তারা এই কাজ করেছে। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ওই নম্বরগুলি হানিট্র্যাপের কাজে ব্যবহার করত। পাকিস্তানের +৯২ দেখলে অনেকে ফোন নাও ধরতে পারে। তাই ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করত। ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন এলে কারও সন্দেহ হয় না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ