


সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, বেলদা: বেলদা, দাঁতন, কেশেয়াড়ি ও এগরা মিলিয়ে মোট ৭০ জন পর্যটক দু’টি দলে ভাগ হয়ে কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিল। একটি দলে বেলদার বাসিন্দা ছিলেন ৩০ জন। দু’দিন ধরে দু’টি দল পেহেলগাঁওয়ের একটি হোটেলে থেকে ভূস্বর্গের স্বাদ নিচ্ছিলেন। মঙ্গলবার পরিকল্পনা করেছিলেন মিনি সুইজারল্যান্ড নামে খ্যাত বৈসরণে যাওয়ারও। বাধ সাধে পাহাড়ে ধস। এদিকে, ফেরার ট্রেন ধরার তাড়াও ছিল। ফলে, বৈসরণ-যাত্রা বাতিল করে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। ছেড়ে আসার মাত্র আধঘন্টার ব্যবধানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বৈসরণে ঘটে যায় নৃশংস হত্যালীলা। হোটেলে ঢুকে তাঁরা জানতে পারেন জঙ্গিদের নির্বিচার গুলিতে গরম রক্তে ভেসে গিয়েছে বৈসরণ! করজোড়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করলেন সকলেই। ভাগ্যিস ধস নেমেছিল!
গত ১৩ এপ্রিল একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে বেলদার ওই ৩০ জন পর্যটক বেড়াতে গিয়েছিলেন কাশ্মীর। অন্য দলটিতে ছিল ৪০ জন। দু’টি দল বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ২১ তারিখে পৌঁছে গিয়েছিল পেহেলগাঁও। ছিলেন সেখানকার একটি হোটেলে। বেড়াচ্ছিলেন কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা। মজা নিচ্ছিলেন ভূস্বর্গের। ঘটনার দিন সকাল থেকে অন্যান্য জায়গা ঘুরে বৈসরনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তাঁরা। আর তখনই পর্যটন সংস্থার ম্যানেজার ট্রেন ধরার তাড়া দিতে থাকেন। কেননা, পাহাড়ে ধস নেমেছে। যানজটের কবলে পড়তে হতে পারে। তাড়া খেয়ে দুপুর দেড়টা নাগাদ ঘটনাস্থল ছেড়ে হোটেলে চলে আসেন সবাই। বেলদার ওই পর্যটক দলে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পঞ্চায়েতের কর্মী স্বপন জানা। বুধবার ফোনে তিনি বলছিলেন, ‘ভূস্বর্গ কাশ্মীরের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখব বলে আমরা বেশ কয়েকজন একটি পর্যটক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে ট্রেনে করে এসেছিলাম। গত দু’দিন ধরে পহেলগাঁওয়ের একটি হোটেলে থেকে বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি। মঙ্গলবার দুপুরে বৈসরণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পর্যটন সংস্থার ম্যানেজার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর জানিয়ে তড়িঘড়ি আমাদের হোটেলে ফিরতে বলেছিলেন। ঘটনা ঘটার মাত্র আধঘন্টা আগে ওই অভিশপ্ত জায়গার খুব কাছ থেকে আমরা হোটেলে ফিরে আসি। না এলে কি যে হতো তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। আমরা সারা রাত জেগে ট্রেনে, গাড়ি পাল্টাপাল্টি করে অমৃতসর চলে এসেছি।’ অপর পর্যটক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রসূন গিরির কথায়, ‘যে কয়েকদিন কাশ্মীরে বেড়াচ্ছিলাম কখনও টের পাইনি এমন কোনও ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে! চারিদিকে শান্ত পরিবেশ। পর্যটকদের আনাগোনা। সব জায়গাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজর। তবে, পেহেলগাঁও বাহিনীর মুভমেন্ট খানিক কম ছিল। মিডিয়ায় জঙ্গিদের হত্যালীলা দেখে আঁতকে উঠছি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি আমাদের ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছেন।’ একই বক্তব্য দাঁতন সার্কেলের এক শিক্ষকের। সপরিবারে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বৈসরণে ঘোড়ায় চেপে রিল বানানোর পরিকল্পনা করছিলেন। অমৃতসরের হোটেলে বসে ফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘ঘোড়ায় চেপে মোবাইলে রিল বানাবো বলে ভাবছিলাম। ভাগ্যিস ম্যানেজারের কথা শুনে তড়িঘড়ি ট্রেন ধরতে হবে বলে ওখানে যাইনি। না হলে কি যে ঘটতো ভগবানই জানেন।’ অমৃতসর থেকে সপরিবারে ট্রেন ধরছেন অবসরপ্রাপ্ত পঞ্চায়েত কর্মী স্বপন জানা।