


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে পুজোর বাজার কব্জা করতে মরিয়া জাল মদ কারবারিরা। পুজোর মুখে ভেজাল মদ তৈরি করতে ওড়িশা থেকে বিপুল পরিমাণ স্পিরিট এনে মজুত করা হয়েছিল ডেবরা ও পাঁশকুড়ায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুই জায়গা থেকে ৩২০০ লিটার ভেজাল মদ তৈরির কাঁচামাল স্পিরিট বাজেয়াপ্ত করেছে দুই মেদিনীপুরের আবগারি দপ্তর। সেইসঙ্গে ডেবরা থেকে একজন এবং পাঁশকুড়ার হাউর থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিষমদের কড়া ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের এক্সাইজ সুপার মণীশ শর্মা জানিয়েছেন। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া স্পিরিটের নমুনা কেমিক্যাল টেস্টের জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় উদ্বেগে আবগারি দপ্তর। এই প্রথম ওড়িশা থেকে নকল মদ তৈরির কাঁচামাল আনা হয়েছিল বলে এক্সাইজ বিভাগের অফিসারদের বক্তব্য। গত ১০ সেপ্টেম্বর ওড়িশা থেকে ওই স্পিরিট দুই মেদিনীপুরে ঢুকেছে বলে আবগারি দপ্তরকে সতর্ক করা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার একটি জায়গায় ওয়েব্রিজের কাছে কাটিং পয়েন্টে হানা দেয় আবগারি দপ্তর। সেখানে ন’টি ড্রামে ১৮০০লিটার স্পিরিট ছিল। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক্সাইজ দপ্তর সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই স্পিরিট বাজেয়াপ্ত করে। ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পূর্ব মেদিনীপুরেও স্পিরিট মজুতের বিষয়টি জানা যায়। ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁশকুড়া থানার হাউর এলাকায় পূর্ব মেদিনীপুরের এক্সাইজ বিভাগ অভিযান চালায়। সেখানে ১৪০০লিটার স্পিরিট পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে জসীম খান ও নুরুদ্দিন খান নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা কোলাঘাটের দেদানের বাসিন্দা। অবশ্য নুরুদ্দিনের আদিবাড়ি উত্তরপ্রদেশে। অবৈধ কাটিং কারবার ও নকল মদ কারবারে জড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে কোলাঘাটে বসবাস করছে।
পুজোর সময় পূর্ব মেদিনীপুরে মদের বিপুল চাহিদা থাকে। দীঘা, মন্দারমণি ছাড়াও উৎসবের সময় গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মদের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নকল মদ কারবারিরা স্পিরিট মজুত করেছিল। পূর্ব মেদিনীপুরে দৈনিক পাঁচ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। পুজোর সময় সেটা সাত কোটিতে পৌঁছে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। চোলাই কারবারিরা এই বাজার ধরতে সক্রিয় হয়েছিল। সেই খবর সময়মতো আবগারি দপ্তরের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল।বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট ৪৬এএ ধারা খুবই কঠোর। বিষমদ কাণ্ডে মৃত্যু হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই ধারা প্রয়োগ করা হয়। কোলাঘাটে ধৃত জসীম ও নুরুদ্দিনের বিরুদ্ধেও ওই শক্তপোক্ত ধারা আনা হয়েছে বলে পূর্ব মেদিনীপুরের এক্সাইজ সুপার জানিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া স্পিরিটের নমুনা টেস্ট করতে কলকাতায় ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পুজোর মুখে নকল মদ তৈরি হয়ে বাজারে চলে এলে বড় বিপদ হতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন অফিসাররা। ধৃতদের পুলিস হেফাজতে জেরা করা হচ্ছে। এর আগে বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে নকল মদ তৈরির কাঁচামাল এলেও ওড়িশা থেকে এই প্রথম এল বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র