


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাগরদিঘিতে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে তাতে আগুন ধরে যায়। পরে সেটি ফেটে গেলে ১০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় লোকজন জখমদের উদ্ধার করে সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে সাগরদিঘি থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিস দমকল কেন্দ্রে খবর দেয়। পরে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তার আগেই বাড়ির আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়ে যায়। জখমদের মধ্যে তিন যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাগরদিঘির বিডিও সঞ্জয় শিকদার। তিনি বলেন, রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে আগুন ধরে যায় বলে শুনেছি। আশপাশের লোকজন আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। সেইসময় গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে গেলে ১০ জন জখম হন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দু’-একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গিয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় সাগরদিঘির বেলসণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা নিতাই দাসের বাড়িতে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে তাতে আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা কোনওমতে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। তাঁরাই চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা বাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। স্থানীয় লোকজন বালতি ও মগে করে জল ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে ফেটে যায়। ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হন ১০ জন। আগুনের হলকায় তাঁদের গোটা শরীর ঝলসে গিয়েছে। তার মধ্যে নিতাই দাসের পরিবারের কোনও সদস্য নেই। তবে, কয়েকটি গোরু ও ছাগল পুড়ে মারা গিয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
নিতাইবাবুর মা ভানু দাস বলেন, রান্নার সময় গ্যাস লিক করে আগুন ধরে যায়। আগুনে সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। ঘরে ১০-১২টি গবাদি পশু ছিল। সেগুলিও পুড়ে মারা গিয়েছে। প্রতিবেশী প্রৌঢ়া বিশাখা দাস বলেন, আমার ছেলে আগুন নেভাতে এসে ঘরের মধ্যে আটকে পড়ে। ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ওর গোটা শরীর আগুনে পুড়ে গিয়েছে।
সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পরেই আমি হাসপাতালে গিয়ে জখমদের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁদের যাতে যথাযথ চিকিৎসা হয়, সেই বিষয়টিও চিকিৎসকদের বলেছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে আছি।