


শিমুল, পলাশে রাঙা
শীতের রুক্ষতা দূর করে বসন্ত আমাদের জীবনে রঙের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। বর্ষপরিক্রমায় ষড়ঋতুর মধ্যে বসন্ত হল ষষ্ঠ ঋতু। ফাল্গুন ও চৈত্র হল বসন্তকাল। এই সময়ে শীতের তীব্রতা থাকে না আবার গরমের উত্তাপও থাকে না। দখিনা বাতাস বইতে থাকে। শীতের পাতা ঝরা গাছে নতুন নতুন পাতা গজায়। শিমুল, পলাশ, অশোক, কৃষ্ণচূড়া ফুলের সাজে চারদিক সেজে ওঠে। বসন্তের দূত কোকিল ছড়িয়ে দেয় তার কুহুতান। প্রজাপতিরা রঙিন পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে মধু খায় এবং গুনগুন করে। বসন্তের উৎসবে ফাগের রঙে শরীর ও মন রাঙা হয়ে ওঠে। তাই তো বসন্তকে বলা হয় ‘ঋতুরাজ’। —সপ্তজিৎ কর্মকার, পঞ্চম শ্রেণি
বাসন্তী আবেশ
‘বসন্ত তুমি এসেছ হেথায়— / বুঝি হল পথ ভুল। / এলে যদি যবে জীর্ণ শাখায় / একটি ফুটাও ফুল।।’ —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ফাল্গুনের আগুন রঙা পলাশ আর শিমুলের আবির মেখে প্রকৃতি যখন নতুনভাবে সাজে, তখনই আসে আমাদের প্রিয় ঋতু বসন্ত। এটি শুধুমাত্র ঋতু পরিবর্তন নয়, বরং যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝরিয়ে মনের ক্যানভাসে রঙের আলপনা আঁকার সময়। শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রসংগীতের সুর আর বাউল একতারার ছন্দে, হলুদ পোশাকে তারুণ্যের উল্লাস ধরা পড়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যে গড়া এই উৎসবে আবির মাখামাখি আর নাচে-গানে মেতে ওঠে আপামর বাঙালি। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এক অসামান্য উৎসবের আমেজ। যেখানে বর্ণিল পোশাকে আর অকৃত্রিম হাসিতে বসন্ত বরণ হয়। বিশ্বকবির ভাষায়— ‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, / ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল।’ —আদ্রিয়ান চক্রবর্তী, নবম শ্রেণি
আমের মুকুলের গন্ধে মন মাতোয়ারা
ষড় ঋতুর আবর্তনে শীতের জীর্ণতা ও রিক্ততাকে কাটিয়ে বাংলার বুকে আবির্ভূত হয় ঋতুরাজ বসন্ত। ফাল্গুন ও চৈত্র এই মাস দু’টি প্রকৃতিতে প্রাণের যে স্পন্দন জাগে, তা এককথায় অনবদ্য। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়— ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/ তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে / কোরো না বিড়ম্বিত তারে।।’ বসন্তের আগমনে প্রকৃতি এক রাজকীয় সাজে সজ্জিত হয়। গাছে গাছে কচি পাতার ভিড়। আর শিমুল, পলাশ ও কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা চারপাশকে বর্ণিল করে তোলে। আমের মুকুলের ম ম গন্ধে বাতাস মাতোয়ারা হয়। একইসঙ্গে মাতোয়ারা হয় মন। কোকিলের ডাক কোন অজানায় উড়িয়ে নিয়ে যায় আমাদের। কবির সুরে সুর মিলিয়ে বাঙালি গেয়ে ওঠে— ‘ওরে গৃহবাসী খোল, দ্বার খোল, লাগল যে দোল। / স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল।’ প্রকৃতি এভাবেই মানুষের মনে আশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করে। —স্নেহাল পাল, সপ্তম শ্রেণি
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে
বর্ষার পরই কবির প্রিয় ঋতু বসন্ত। কিন্তু যাঁদের সেই অর্থে কবিত্ব শক্তি নেই, তাঁদের কাছে বসন্তই প্রিয়তম ঋতু। অতি তীব্র শীতের চোখ রাঙানিতে যখন আমাদের জীবনের ধারক গাছপালা পাতার আবরণহীন হয়ে কেঁদে ওঠে, তখন তাদের পুনর্জীবিত করার অভিপ্রায়ে এগিয়ে আসে বসন্ত। পর্ণমোচী বৃক্ষদের কাছে এই ঋতু মাতৃসমা। নবপল্লব ও ফুলে ফুলে ঢেকে যায় গাছ। অসামান্য রূপ ধারণ করে এই ধরণীর বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণ। কোকিলের কুহু ধ্বনি মানুষের জীবনে কর্মঠ হওয়ার মন্ত্র নিয়ে আসে। এককথায় এই সময়েই প্রকৃতির পূর্ণতা প্রকাশ পায়। —ঋতম কুণ্ডু, দশম শ্রেণি
আমার আনন্দের ঋতু
রঙ্গে ভরা বঙ্গ। ঋতু বৈচিত্রে ভরপুর এদেশে সবার উপরে স্থান বসন্তের। এই সময় প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। গাছে গাছে কিশলয়ের দেখা মেলে। চারদিকে ফুলের মেলা। কোকিলের সুমধুর কুহু ডাক ছাড়া বসন্ত অসম্পূর্ণ। বসন্ত শুধু প্রকৃতি রাজ্যেই নয়, মানুষের মনেও আনে আনন্দের আস্বাদ। বসন্তের প্রধান উৎসব দোল। রং মানুষের মনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে নতুন আশার আলো সঞ্চার করে। এছাড়াও এই সময়ে বাসন্তী ও অন্নপূর্ণা পুজো হয়। মনোরম আবহাওয়া ও উৎসব মুখর পরিবেশের জন্য মানুষের এই ঋতুটি অত্যন্ত প্রিয়। —নীলাদ্রি ঘোষ, ষষ্ঠ শ্রেণি
মুখরিত দখিনা পবন
শীতের সমাপনে প্রকৃতিতে আগমন ঘটে ঋতুরাজ বসন্তের। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার এক মনোরম বাতাবরণ বিরাজ করে এই সময়ে। বাহারি ফুলের রঙের ছটা। সঙ্গে অমলিন সৌরভে আমোদিত হয় আকাশ-বাতাস-চরাচর। শীতের রুক্ষতার চাদর সরিয়ে প্রকৃতি ধারণ করে এক অনবদ্য রূপ। আম্রমুকুলের আঘ্রাণ, পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় স্নাত হয় পৃথিবী। কোকিলের কুহু ডাক, মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয় দখিনা পবন। মৌ বনে লাগে নব যৌবনের ঢেউ। বসন্ত স্বমহিমায় ফিরে আসে বার বার। সারা বছরের সুখ-দুঃখ-হাসি-কান্নার সোপান হয়ে বসন্ত দোলা দেয় আমাদের মননে। বসন্তের বর্ণিল ক্যানভাসে চিত্রিত হয় আমাদের সাদা-কালো জীবনের প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি। —অভিজ্ঞান দে, অষ্টম শ্রেণি
প্রধান শিক্ষকের কলমে
পায়ে পায়ে পঁচাত্তর। বহমান ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল— হুগলি জেলার মাহেশ শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়। আর সম্পদ বলতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া এখানকার ছাত্ররা। এলাকার পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে থেকে বহু সেবামূলক কাজ করে এই প্রতিষ্ঠান। সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ, নিয়মানুবর্তিতার পাঠ চলে এই আশ্রমকে কেন্দ্র করে। শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদা মা ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রদর্শিত পথে।
১৯৫২ সালে ২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়। বেলুড় মঠের দ্বিতীয় সংঘাধ্যক্ষ শিবানন্দ মহারাজের শিষ্য স্বামী প্রেমঘনানন্দ মহারাজের উদ্যোগে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। কিশোরদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে কয়েকজন সহচরকে সঙ্গী করে মাধুকরীর মাধ্যমে তখন তিনি আশ্রম পরিচালনা করতেন। তাঁর আদর্শই ছিল আশ্রমের মূলমন্ত্র। তাঁর শিষ্য সোমানন্দ মহারাজের আমলে এর বিস্তার ঘটে।
সেবামূলক কাজের ভার ছিল স্বামী শিবরামনন্দ মহারাজের উপর। সেই কাজ আজও একই ধারায় চলছে। শুরুর দিকে ছাত্র সংখ্যা কম থাকলেও সন্ন্যাসী মহারাজদের ঐকান্তিক প্রচষ্টোয় তা বাড়তে থাকে। দূরের ছাত্রদের জন্য তৈরি হয় হস্টেল। বর্তমানে সেখানে ১২০ জন পড়ুয়া থাকে। মোট ছাত্রসংখ্যা ২২০০। প্রকাশিত হয় স্কুল ম্যাগাজিন— ‘কিশোর’।
ধীরে ধীরে তৈরি হয় শিশুভবন, পাঠশালা, বুনিয়াদি হাই স্কুল, বিবেকানন্দ বিদ্যালয়। ২০০৫ সালে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ নিয়ে চালু হয় উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ। ১৫ বিঘা জমির উপর তৈরি আশ্রম ও স্কুল। স্বপ্নের এই শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে আগামী দিনে বহু পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও পরম্পরা বজায় রাখার জন্য রয়েছেন দরদি শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও অভিভাবকরা। আশ্রম পরিচালক মণ্ডলীর সম্পাদক শিবেশানন্দ মহারাজ সহ অন্যান্য মহারাজরা স্কুলের জন্য আজও নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। সুনাগরিক গড়ে তোলাই এই স্কুলের একমাত্র লক্ষ্য। —কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধান শিক্ষক