


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দোল ও হোলি উৎসব ঘিরে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একে অন্যকে রঙে রঙিন করে তোলে মানুষজন। দোল-হোলি ও উইক-এন্ডে তিনদিনের ছুটিতে জমজমাট হয়ে উঠেছে দীঘা। শুক্রবার দীঘার সৈকতে জমজমাট দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পূর্ব মেদিনীপুর প্রেস ক্লাব ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে। দোলের দিন রীতিমতো রঙিন হয়ে ওঠে সৈকতশহর। সকালে দীঘা জগন্নাথধামের মূল গেট থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা জাহাজবাড়ি সংলগ্ন ঘাট পর্যন্ত পরিক্রমা করে। শোভাযাত্রা সহ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে পথ পরিক্রমা করে সমুদ্রসৈকতে এসে শেষ হয়। তারপর মঞ্চে নৃত্য সহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য স্বরোজগার কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তন্ময় ঘোষ, জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, রামনগর-১ বিডিও পূজা দেবনাথ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গুণীজন সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার জন্য কয়েকজন গুণী মানুষকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অতিথিরা সকলে সৈকতশহরে এই ধরনের আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পর্যটক সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের আনন্দে মেতে ওঠার আহ্বান জানান। রাতে বিচিত্রানুষ্ঠানে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীরা মাতিয়ে তোলেন। দীঘা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এই ধরনের উৎসব প্রথম। দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। দোল উৎসবে মেতে ওঠে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষ। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় কয়েক লক্ষ মানুষ এই উৎসবে শামিল হয়। এবছর রঙের চেয়ে আবির সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্র নগর, কলেজ মাঠ, পঞ্চুর চক সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় মানুষের ঢল নেমেছিল। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষের নেতা কর্মীদের রং খেলার উৎসবে শামিল হতে দেখা গিয়েছে। খড়্গপুর শহরে এই উৎসবে যোগদান করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক এই উৎসবে শামিল হন। পাশাপাশি জেলার গড়বেতা, কেশপুর, নারায়ণগড়, বেলদা, দাঁতন, ঘাটাল সহ সব এলাকাতেই উৎসবের মেজাজে দোল পালিত হয়েছে। উৎসব উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল। ঝাড়গ্রামেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পযর্টকদের সমাগমে দোল উৎসব অন্য মাত্রা নেয়।