Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহ মেডিক্যালে ইন্টার্নকে নিগ্রহে দু’পক্ষের সঙ্গে কথা কমিশন সদস্যের

ইন্টার্ন নিগ্রহ এবং পাল্টা এক মহিলা ইন্টার্নকে মারধরের অভিযোগ পুরুষ ইন্টার্নের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে আন্দোলন পাল্টা আন্দোলন হয়েছে।

মালদহ মেডিক্যালে ইন্টার্নকে নিগ্রহে দু’পক্ষের সঙ্গে কথা কমিশন সদস্যের
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ইন্টার্ন নিগ্রহ এবং পাল্টা এক মহিলা ইন্টার্নকে মারধরের অভিযোগ পুরুষ ইন্টার্নের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে আন্দোলন পাল্টা আন্দোলন হয়েছে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে। শেষে ঘটনার জল গড়ায় জাতীয় মহিলা কমিশন পর্যন্ত। এরপরই সোমবার মেডিক্যাল কলেজে আসেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার। তিনি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেইসঙ্গে অভিযোগকারী মহিলা ইন্টার্ন ও অভিযুক্ত এক ইন্টার্নের সঙ্গেও কথা বলেন। 

Advertisement

অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগে মেডিক্যালের বহির্বিভাগের ডিউটি করা নিয়ে এক মহিলা ইন্টার্নের সঙ্গে পুরুষ সহকর্মীর বচসা হয়। মহিলা ইন্টার্নকে মারধর করেন পুরুষ ইন্টার্ন। পাল্টা ওই অভিযুক্ত পুরুষ ইন্টার্নকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে মহিলা ইন্টার্নের এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। এখানেই বিষয়টি থেমে না থেকে আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যার সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি। ভিডিওতে ওই মহিলা ইন্টার্ন দাবি করেন, তাঁকে ও সহপাঠী নবদ্বীপ শীলকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাচ্ছেন অপর এক ইন্টার্নের সহযোগীরা। যে ইন্টার্নকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে, তিনিই আসলে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। ওই মহিলা ইন্টার্নের অভিযোগ, হাসপাতালে তাঁর ডিউটি থাকলেও, অধ্যক্ষের চেম্বারে অবস্থানকারীরা তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেননি। হাসপাতালে ঢোকাই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ডিউটি করতে পারছেন না। তারপরই এদিন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার মালদহ মেডিক্যালে আসলেন। তিনি কর্মস্থলে মহিলাদের সুরক্ষার ব্যাপারে সরব হয়ে জানিয়েছেন, মেডিক্যালে দু’জন ইন্টার্নের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনাটি এতটাই বড় হয়ে গেল যে, মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালের ঘরে প্রিন্সিপাল সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সামনে আক্রান্ত মহিলা ইন্টার্নকে সারারাত আটকে রাখা হল। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কীভাবে অনিয়মগুলি হল, সেব্যাপারে বিস্তারিত জানছি। দু’জন সহকর্মীর মধ্যে মারপিট হয়েছিল সেখানে কোনও রাজনীতি নেই। অভিযোগকারীর বক্তব্য, অভিযুক্ত পুরুষ ইন্টার্নের বাবা ফোন করে গালমন্দ করেছেন। তাঁর বাড়ির লোকেরা কলেজে এসে ঝামেলা করেছেন। কীভাবে কলেজে ওই মহিলা ইন্টার্নের নামে পোস্টার পড়ল? এসবের জন্য কমিশন যতদূর পর্যন্ত যাওয়ার যাবে। বিষয়টি এনএমসি পর্যন্ত গড়াবে। তিনি আরও বলেন, মেডিক্যাল কলেজে সিসি ক্যামেরা আছে। তার ফুটেজ আছে। এই ঘটনায় প্রত্যেককেই উত্তর দিতে হবে। কর্মস্থলে কোনও মেয়ের সম্মান, সুরক্ষা একচুলও বিপাকে পড়তে দেওয়া যাবে না। 
এদিন কমিশনের সদস্যের মুখোমুখি হওয়ার পর মহিলা ইন্টার্ন বলেন, এত দিন যা যা ঘটেছে, তা জানতে চাওয়া হয় আমার কাছে। জাতীয় মহিলা কমিশনকে আমি সবকিছু বলেছি। আমি সেব্যাপারে কিছু তথ্য দিয়েছি। মেডিক্যাল কলেজে আমার মানহানি হয়েছে। কলেজের সর্বত্র আমার নাম করে নোংরা পোস্টার সাঁটানো হয়েছিল। কমিশন পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। অভিযুক্ত ইন্টার্ন জানান, কেন এমন ঘটনা হল, কী হয়েছে জানতে চাওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ