Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেঁয়াজের খোসার ‘ম্যাজিক’, মিলবে নাইট্রোজেনমুক্ত জল, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল গবেষণা

পেঁয়াজের খোসাতেই পরিশুদ্ধ হবে পানীয় জল। চাষের জন্য জমিতে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার বেড়েছে। তা ভূগর্ভস্থ জলেও মিশছে। তার ফলে বহু জায়গাতেই নাইট্রোজেন মিশ্রিত পানীয় জল পান করতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের খোসার ‘ম্যাজিক’, মিলবে নাইট্রোজেনমুক্ত জল, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল গবেষণা
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পেঁয়াজের খোসাতেই পরিশুদ্ধ হবে পানীয় জল। চাষের জন্য জমিতে নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার বেড়েছে। তা ভূগর্ভস্থ জলেও মিশছে। তার ফলে বহু জায়গাতেই নাইট্রোজেন মিশ্রিত পানীয় জল পান করতে হচ্ছে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের মতো বিভিন্ন জেলাতেই এই প্রবণতা দেখা যায়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকদের গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। পরীক্ষামূলকভাবে তাঁরা বিভিন্ন সময় জলে পেঁয়াজের খোসা ফেলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সফলতা পাওয়ার পরই তাঁরা বিষয়টি সামনে এনেছেন।

Advertisement

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, নাইট্রোজেন শরীরে প্রবেশ করলে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়। ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’ হতে পারে। পূর্ণবয়স্ক মানুষদের কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে নাইট্রোজেন মিশে যায়। তবে, জল সহজেই নাইট্রোজেনমুক্ত করা যেতে পারে। প্রথমে পেঁয়াজের খোসা শুকিয়ে নিয়ে গুঁড়ো করে পানীয় জলে দিতে হবে। একঘণ্টা পেঁয়াজের গুঁড়ো জলে ফেলে রাখতে হবে। তাতে নাইট্রোজেন পেঁয়াজের খোসায় লেগে যাবে। পরে ছাঁকনি দিয়ে জল ছেঁকে নেওয়ার পর তা পান করা যাবে। অধ্যাপকরা বলেন, সবার ফিল্টার কেনার ক্ষমতা নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ টিউবওয়েলের জল পান করেন। অনেকে জল খাওয়ার পর ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেক সময় বিষয়টি টের পাওয়া যায় না। যখন চিকিৎসা শুরু হয় তখন আর কিছু করার থাকে না। কিন্তু বিনামূল্যে খুব সহজেই জল পরিস্রুত করা যায়। শুধু একটু সময় দরকার।
গবেষকরা বলেন, এক সময় পানীয় জলে আর্সেনিকের ব্যাপক প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। এই জল পান করে অনেকের প্রাণ গিয়েছে। এখনও মুর্শিদাবাদের মতো কয়েকটি জেলায় জলে আর্সেনিক রয়েছে। তবে আগের মতো সেই অবস্থা নেই। সরকার পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ায় আর্সেনিকের প্রভাব অনেক কমে গিয়েছে। এখন নাইট্রোজেন নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। সব জায়গাতেই জমিতে ব্যাপকভাবে নাইট্রোজেন সার দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়বে। স্বাভাবিকভাবে পানীয় জলেও নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়বে। জল ফিল্টার না করে পান করলে বিপদ হতে পারে। যাঁদের ফিল্টার কেনার সমস্যা নেই, তাঁরা ঘরোয়াভাবে জল পরিস্রুত করতে পারবেন বলে গবেষকদের দাবি।
অধ্যাপক নবকুমার মণ্ডল বলেন, জলে পেঁয়াজের খোসা মেশানো হলে কোনও ক্ষতি হয় না। শুধু নিয়ম করে তা জলে রাখতে হবে। তাহলে নাইট্রোজেন মুক্ত পানীয় জল পাওয়া যাবে। শুকনো পেঁয়াজের খোসা সহজে নাইট্রোজেন শোষণ করতে পারে। বিভিন্ন এলাকার জলে তা রেখে পরীক্ষা করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ