


সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ছাত্র চাপে নতিস্বীকার। ইন্টার্নের উপর থেকে ডিনের করা শোকজ প্রত্যাহার করলেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা।
গত ১২ মার্চ ইন্টার্ন সানি মান্নাকে শোকজ করেছিলেন ডিন ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্ত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা লেকচার থিয়েটার হলে দেখানোর ব্যবস্থা করার জন্য এই শোকজ করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে সানি মান্না ও তার সহপাঠীরা সেদিন ডিনকে ঘেরাও করে তার পদত্যাগের দাবি জানান। দীর্ঘক্ষন ঘেরাও থাকার পর রাতে পুলিসের সাহায্যে ডিন বাড়ি ফেরেন।
এতদিন প্রিন্সিপাল ছুটিতে ছিলেন। সোমবার কাজে যোগ দেন তিনি। ওই ছাত্ররা তাঁকে স্মারকলিপি দিয়ে ডিনের পদত্যাগ দাবি করে। মঙ্গলবার প্রিন্সিপাল ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা নোটিস দিয়ে জানিয়েছেন, ১৩ মার্চ সানি মান্না বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণসহ যে জবাব দিয়েছে তা সন্তোষজনক। তার ভিত্তিতেই তাঁর উপর থেকে যাবতীয় অভিযোগ ও শোকজ প্রত্যাহার করা হল।
প্রথম থেকেই সানি মান্না ও তার অনুগামীরা দাবি করেছিলেন, ডিনের কাছে অনুমতি চেয়ে পাওয়া যায়নি। তাই প্রিন্সিপালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তার মৌখিক অনুমতি ও সহযোগিতায় লেকচার থিয়েটার হলে খেলা দেখার ব্যবস্থা হয়েছিল। লেকচার থিয়েটার হলের চাবি খোলার জন্য তিনি নির্দিষ্ট এক চিকিৎসক ও নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কাজেই এ ক্ষেত্রে লেকচার থিয়েটার হল খোলা ও খেলা দেখার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে সানি মান্না কোনওভাবেই যুক্ত নয়। বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে ডিন তাকে বেছে শোকজ করেছেন। এই নিয়েই আন্দোলন শুরু হয়।
এদিন প্রিন্সিপাল শোকজ নোটিস প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সানি মান্না ও তার অনুগামীরা খুশি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্ত এর পরে ডিনের পদে থাকেন কি না? তাঁর করা শোকজ প্রত্যাহার করায় ছাত্রদের একাংশের কাছে তার ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ডিনপদে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে তাঁদের ধারনা। এ ব্যাপারে ডাঃ অনুপম নাথ গুপ্তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও জবাব দেননি।