


কী সুন্দর মায়াময় এই বিশাল পৃথিবী! সুনীল সাগর থেকে উত্তুঙ্গ পর্বতমালা, ঊষর মরুভূমি থেকে গহীন অরণ্য, গগনচুম্বী অট্টালিকার নগরী থেকে প্রাচীন জনপদ—সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। তারই সন্ধানে ছুটে বেড়ায় ভ্রমণ পিয়াসী মন। তাই তো পাখির ডানায় রৌদ্রের গন্ধ মেখে উড়ে চলা। দলবদ্ধভাবে কিংবা একা।
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখেছিলেন, ‘টিম টিম করে শুধু খেলো দুটি বন্দরের বাতি।
সমুদ্রর দুঃসাহসী জাহাজ ভেড়ে না সেথায়—তাম্রলিপ্ত সকরুণ স্মৃতি।’
সেই কবেকার তাম্রলিপ্ত বন্দর! ইউরোপীয়রা যখন নতুন পৃথিবীর সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিল, তখন তাঁদের জাহাজ এক এক করে এসে ভিড়ত এই বন্দরে। ঠিক যেমন পর্তুগালের লিসবন বন্দর থেকে ভাস্কো-দা-গামার জাহাজগুলোর মধ্যে একটা জাহাজ এসে পৌঁছেছিল এ বন্দরে। তারপর পর্তুগিজরা যখন এ দেশের মাটিতে বেশ কয়েকটি জায়গায় তাদের উপনিবেশ স্থাপন করল, তখন প্রায়শই এ বন্দরে তাদের আনাগোনা লেগে থাকত। এ বন্দরের ইতিহাস অবশ্য আরও কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন। খ্রিস্ট পূর্বাব্দে পৃথিবীতে যত প্রাচীন বন্দর ছিল তার মধ্যে তাম্রলিপ্ত ছিল অন্যতম। এই বন্দর থেকেই সম্রাট অশোকের ইচ্ছা অনুসারে মহেন্দ্র ও সংঘমিত্রা সিংহল দ্বীপে পাড়ি দিয়েছিলেন বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে। এ বন্দর থেকেই বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত দুঃসাহসী নাবিকের দল। হিউয়েন সাংও তাঁর ভারত ভ্রমণ কথায় তাম্রলিপ্তর বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে সময়ের ঢেউ মুছে দিয়েছে সেদিনের সেই তাম্রলিপ্ত বন্দরকে। নির্দিষ্টভাবে তার আর কোনও অস্তিত্ব নেই। সেদিনের তাম্রলিপ্ত বা আজকের তমলুক শহরের অনতিদূরে বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ যাওয়া-আসা করে বটে। তবে তাদের নাবিকরা কেউই ভাস্কো বা তাঁর অনুচরদের মতো পাল তোলা, দাঁড় টানা জাহাজের দুঃসাহসী অভিযাত্রী নন।
না, আমি তমলুকের ইতিহাস খুঁজতে বেরইনি, বেরিয়েছিলাম কলকাতার হট্টগোল ছেড়ে দু’দিন একটু নির্জনতার খোঁজে। আমার গন্তব্য পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটনস্থল গেঁওখালি। গঙ্গার নিম্নধারা ভাগীরথী-হুগলী নদীর সঙ্গে রূপনারায়ণ নদের ত্রিবেণী সঙ্গম। নদীবক্ষ সবচেয়ে চওড়া এখানে। উন্মুক্ত পরিবেশ, দূষণহীন পরিবেশ, বিস্তীর্ণ নদীবক্ষের দিকে তাকালে চোখ ও মনের দুই-এরই আরাম হয়।
কলকাতা থেকে গেঁওখালি পৌঁছেছিলাম প্রায় বিকাল নাগাদ গাড়িতে ঘণ্টা তিনেকের পথ অতিক্রম করে। খাওয়া সেরে যখন নদী পাড় বরাবর হাঁটতে শুরু করলাম তখন সূর্য ঢলতে শুরু করেছে। রং ধরতে শুরু করেছে নদীর বুকে। ভাটা চলছে, খানিক তফাতে সরে গিয়েছে নদীর জল। নদীর পাড়ে কিছু কিছু জায়গাতে উল্টিয়ে রাখা আছে ছোট ছোট জেলে ডিঙিগুলো। ক্লান্ত বকের দল সার বেঁধে তার ওপর বসে আছে। কোথাও যুগলে রাস্তার পাশে বাইক দাঁড় করিয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তুলছে। পরনে নতুন পোশাক। আজ মহাসপ্তমী। তবে ট্যুরিস্ট তেমন চোখে পড়ল না। যাদের দেখলাম তাদের আশপাশের স্থানীয় মানুষ বলেই মনে হল। ইচ্ছা আছে পরদিন আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে দেখার। নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতেই একসময় বকের দল আকাশে পাখা মেলল, সূর্য ডুবে গিয়ে অন্ধকার নামতে শুরু করল নদীবক্ষে। স্ট্রিট লাইটের আলো জ্বলে উঠল।
পরদিন ব্রেকফাস্ট সেরে গাড়ি নিয়ে যখন বেরলাম তখন সকাল ন’টা। বাজার পৌঁছতে সময় লাগল পাঁচ মিনিট। ছোট্ট গ্রামীণ বাজার। কিছু মুদির দোকান, মনোহরি দোকান, মুরগির মাংস আর চায়ের দোকান। আমার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিয়ে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে ঢুকে দোকানিকে চা দিতে বললাম। মাঝবয়সি চা বিক্রেতা। চা বানাতে শুরু করলেন। আমি ছাড়া দোকানে একজন মাত্র লোক বসে আছেন। তাঁর পোশাক দেখে অনুমান করলাম তিনি স্থানীয় লোক। বৃদ্ধ মানুষ। দোকানের ভিতর একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করলাম। ছিটেবেড়ার গায়ে একটা ভিনদেশি পতাকার বিবর্ণ ছবি টাঙানো। আর খবরের কাগজ থেকে কেটে নেওয়া বেশ কিছু ফুটবলারের ছবি টাঙানো। তার মধ্যে একজন ফুটবলারের ছবি চিনতে পারলাম। সেটা বিশ্ববিখ্যাত ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ছবি। অন্য ছবিগুলো ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে বুঝলাম সে সবই পর্তুগালের ফুটবলারদের ছবি। আর পতাকাটাও পর্তুগালের। ফুটবলপ্রেমী বাঙালিরা সাধারণত ব্রাজিল-আর্জেন্তিনা-জার্মানি এসব দেশের সমর্থক হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় বাংলার শহর-মফস্সলে সে সব পতাকা টাঙানোও হয়। কিন্তু সচরাচর পর্তুগালের পতাকা দেখা যায় না। ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে সে কথাই ভাবছি, হঠাৎ পাশে বসা বৃদ্ধ ভদ্রলোক সম্ভবত আমার মনের ভাব পাঠ করে হেসে বললেন, ‘ওই ছবিগুলো আমাদের গ্রামের ছেলে ছোকরারাই টাঙিয়ে ছিল গতবার ফুটবল বিশ্বকাপের সময়। আমাদের গ্রামের সবাই পর্তুগাল ফুটবল দলকেই সমর্থন করে।’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এর কারণ কী?’
বৃদ্ধ ভদ্রলোক আমার পরিচয় জানার পর বললেন, ‘কারণ, আমাদের আপনি ভারতীয় পর্তুগিজও বলতে পারেন। এই যেমন আমার নাম হল গোপাল রোজারিও। নামটা বাঙালি, কিন্তু পদবিটা খাঁটি পর্তুগিজ।’
তাঁর কথা শুনে আমি বিস্মিতভাবে তাকালাম তাঁর দিকে।
বৃদ্ধ ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘লোক এখানে গেঁওখালি দেখতে আসে, মহিষাদল রাজবাড়ি দেখতে আসে। কিন্তু অনেকেই জানে না যে, এখানে আস্ত একটা পর্তুগিজ গ্রাম আছে। অর্থাৎ যে গ্রামের বাসিন্দাদের শরীরে আমারই মতো পর্তুগিজ রক্ত আছে।’
আমি ব্যাপারটা শুনে কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম, সে জায়গা এখান থেকে কতদূর? ভদ্রলোক দোকানের উল্টো দিকে একটা সরু রাস্তা দেখিয়ে বললেন, ‘ওই তো যাওয়ার রাস্তা। এই বাজার থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্ব। গ্রামের নাম হল মিরপুর। তবে রাস্তা খুব সরু। তাই গাড়িতে যাওয়া যাবে না। টোটো রিকশতে যেতে হবে। আজ আবার দুর্গাপুজোর অষ্টমী। গ্রামে দুর্গাপুজোও হয়। বড়দিন, দুর্গাপুজো আমরা সবাই মিলেমিশে পালন করি। আমিও গ্রামে ফিরব এখন।’
বাংলার বুকে পর্তুগাল দেখার লোভটা ছাড়তে পারলাম না। তাই ভদ্রলোককে বললাম, ‘আমি যদি আপনার সঙ্গী হই তবে আপনার আপত্তি আছে?’
বৃদ্ধ আমার কথা শুনে বেশ খুশি হলেন। চা পান শেষ করেই এরপর ভদ্রলোকের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম তাঁর গ্রাম দেখব বলে। ভদ্রলোক জানালেন একসময় তিনি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এখন টুকটাক কৃষিকাজ করেন। টোটোতে ওঠার আগে একটা দোকান থেকে শালপাতার বাটিও নিলেন। বললেন সেগুলো কিনতেই তিনি বাজারে এসেছিলেন, পুজো প্যান্ডেলে কাজে লাগবে।
টোটোতে উঠে বসলাম আমরা দু’জন। গেঁওখালি বাজার থেকে পর্তুগিজ গ্রামের উদ্দেশে আমরা রওনা হলাম। সরু রাস্তা। দু’পাশে প্রথমে পাকা ঘরবাড়ি, তারপর শুরু হল গ্রামীণ মেটে ঘর, আর পথের দু’পাশে কিছুটা অন্তর অন্তর পুকুর। হাঁসের দল চড়ে বেড়াচ্ছে সেখানে। রাস্তা ও তার বাঁকগুলো এত সংকীর্ণ যে চারচাকার বাহন নিয়ে এ রাস্তায় যাওয়া অসম্ভব। উল্টো দিক থেকে বাইক বা সাইকেল আরোহী এলেও আমাদের টোটো দাঁড়িয়ে পড়ছে। নচেৎ পুকুরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
মিনিট দশেকের মধ্যেই গ্রামে পৌঁছে গেলাম। গ্রামে ঢোকার মুখে একটা ফাঁকা জমিতে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল। বৃদ্ধ বললেন, ‘আগে আপনাকে গ্রামটা ঘুরিয়ে দেখাই তারপর ফেরার পথে আপনাকে এখানে আনব।’
দু-চারটে পাকা বাড়ি থাকলেও যে বাড়িগুলো চোখে পড়ছে সেগুলো অধিকাংশই মেটে বা দরমার ঘর। মাথার ওপর অ্যাসবেসটস বা টিনের ছাদ। আমার সঙ্গী বললেন, ‘আমরা এখানে দেড়শোটার মতো পরিবার থাকি, যারা ভারতীয়-পর্তুগিজ। আমাদের ছেলেবেলায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগেও এ গ্রামে কিছু মানুষ ছিলেন যাঁদের চোখের মণি ছিল নীল, মাথার চুলের রং ছিল লালচে। এখন প্রায় দশ-বারো প্রজন্ম পেরিয়ে এসেছি আমরা আমাদের পর্তুগিজ পূর্বপুরুষদের সময়কাল থেকে। তাই এখানকার সাধারণ মানুষ যাদের আপনি দেখছেন তাদের দেখে বুঝতে পারবেন না যে তাদের অনেকের দেহেই পর্তুগিজ রক্ত বইছে।’
টোটো এসে দাঁড়াল এক জায়গাতে। সামনে একটা ছোট চার্চ। তার পাশে একটা পুকুর, দূরে গাছের ফাঁক দিয়ে সবুজ ধানের খেত দেখা যাচ্ছে। বাংলার ছবির মতো সুন্দর একটা গ্রাম। টোটো থেকে নামার পর ভদ্রলোক বললেন, ‘আমরা কেউ কোনও দিন পর্তুগাল যাইনি। তবে এই আমাদের পর্তুগাল, বাংলার পর্তুগাল।’
জানতে চাইলাম, ‘আপনাদের পূর্বপুরুষরা এখানে এসেছিলেন কীভাবে?’
তিনি আমাকে নিয়ে চার্চের দিকে এগতে এগতে বললেন, ‘যতটুকু জানা যায় পলাশির যুদ্ধের কিছু আগে যখন এ অঞ্চলে বর্গি হানা হচ্ছিল, তখন মহিষাদলের জমিদার আনন্দমোহন উপাধ্যায় জমিদারি রক্ষার জন্য বারোজন পর্তুগিজ গোলন্দাজ নিয়োগ করেন। সে সময়ও এখানে নদী পথে পর্তুগিজদের আনাগোনা ছিল। ওই বারোজন পর্তুগিজই আমাদের পূর্বপুরুষ। তাঁরা আর দেশে ফিরে যাননি। স্থানীয় মেয়েদের বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।’
কৌতূহলী হয়ে বললাম, ‘তাঁরা দেশে ফিরে যাননি কেন? পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, ইংরেজ যাঁরা এ দেশে এসেছিলেন তাঁরা সবাই তো দেশে ফিরে গেছিলেন। প্রাকৃতিকভাবে পর্তুগালের সঙ্গে তো কোনও মিলই নেই এ জায়গার। তবে?’ রোজারিও জবাব দিলেন, ‘তাদের এখানে রয়ে যাওয়ার পিছনে সঠিক কারণ জানা যায় না। তবে কেউ কেউ বলেন যে, তাঁরা যে জাহাজ করে এখানে এসেছিলেন তার ক্যাপ্টেন নাকি তাঁদের এখানে ফেলে রেখেই একদিন রাতে বন্দর ছেড়ে পর্তুগালের উদ্দেশে পাড়ি দেন। তাই তাঁদের আর ফেরা হয়নি।’
কথা বলতে বলতে আমরা চার্চের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলাম। সদর দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার আগে দরজার গায়ের একটা বিজ্ঞপ্তিতে কিছু ব্যক্তির নাম লেখা আছে। রোজারিও সেই বিজ্ঞপ্তির দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, ‘নামের পদবিগুলো খেয়াল করুন। ওই পদবিগুলোর মধ্যেই আমাদের পূর্বপুরুষরা বেঁচে আছেন। খাঁটি পর্তুগিজ পদবি।’
তাঁর কথা শুনে ব্যাপারটা খেয়াল করলাম। নামগুলো বাঙালি হলেও পদবিগুলো হল, রোজারিও, তেসরা, লবু, লুনিশ, রথা ইত্যাদি। প্রবেশ করলাম চার্চের মধ্যে। ক্যাথলিক চার্চ। এ চার্চ নাকি সেই পর্তুগিজ আমলেরই। তখন অবশ্য এ চার্চ মাটির ছিল, পরবর্তীতে পাকা বাড়ির রূপ পায়। চার্চের ভিতর রয়েছে মাতা মেরির মূর্তিসহ ক্রুশবিদ্ধ যিশু খ্রিস্টর মূর্তি। খ্রিস্ট ধর্মের বিভিন্ন বাণীও লেখা আছে খাঁটি বাংলাতে। চারপাশে বিরাজ করছে শান্ত পরিবেশ। বৃদ্ধ বললেন, ‘বড়দিনের সময় এখানে মেলা বসে, সারা রাত উৎসব পালিত হয়। তখন আশপাশের গ্রাম থেকে বহুলোক আসে তা দেখতে। কেউ কেউ তখন পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে পর্তুগালের পতাকা দিয়েও বাড়ি সাজায়।’
ক্যাথলিক চার্চ থেকে বেরিয়ে এগলাম কাছেই একটা চার্চের দিকে। সেটা প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ। সে পথে হাঁটতে হাঁটতে ভদ্রলোক বললেন, ‘একসময় পর্তুগিজদের কিছু রীতিনীতিও ছিল এ গ্রামে। তবে সময়ের নিয়মে সে সব এখন হারিয়ে গিয়েছে। অনেকে হিন্দু রীতিনীতিও পালন করেন।’ দ্বিতীয় চার্চটিও ছিমছাম সুন্দর। তবে তালা বন্ধ থাকাতে তার ভিতরে প্রবেশ করা গেল না।
ফিরে এসে টোটোয় উঠে বসলাম আমরা। তারপর গিয়ে নামলাম পুজোমণ্ডপের সামনে। ঢাক বাজছে। মহাষ্টমীর অঞ্জলি শুরু হয়েছে। অনেক মানুষের সমাগম সেখানে। ছোট-ছোট ছেলেরা নতুন জামা গায়ে ক্যাপ বন্দুক ফাটাচ্ছে, নিজেদের মধ্যে খেলছে। কেউ কাউকে বলছে ‘পুলিশ তোর বন্দুকটা আমাকে দে’, কেউ বলছে, ‘চল লবু ফুচকা খাব।’ আজ আর সাগরের দুঃসাহসী জাহাজ ভেড়ে না এখানে। কিন্তু ওই নামগুলোর মধ্যেই আজও বেঁচে আছেন সেই সব দুঃসাহসী নাবিকের দল আর পর্তুগাল।
রোজারিও বললেন, ‘বড়দিন আর দুর্গাপুজো, এ সময় আমরা সবাই আনন্দে শামিল হই। আনন্দে কোনও ধর্মের ভেদাভেদ থাকে না।’
মজা করে তাঁকে বললাম, ‘ধরুন কোনও দিন ভারত আর পর্তুগাল ফুটবল খেলা হল। তখন কাকে সমর্থন করবেন আপনারা?’
রোজারিও হেসে বললেন, ‘এখন অবশ্যই ভারতকে। এ দেশটা তো আমাদেরই দেশ। তবে পতুর্গাল হারলে হয়তো বা হরষে-বিষাদ হতে পারে কারও। কারণ আমরা পর্তুগিজ ভারতীয়, পর্তুগিজ বাঙালি।’