গল্পের পাতা
 

গি ফ ট

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়: মা সেদিন বলল, বুম্বা সামনেই নতুন বছর।
বুম্বা জানে নতুন বছর মানে নববর্ষ। মা প্রতি বছরই তাকে শেখায়। নববর্ষ এলে বুম্বার একশো মজা। তার মানে বাবা বাড়ি ফিরবে। অনেক কিছু গিফ্‌ট আনবে বাবা!
বুম্বা লাফিয়ে ওঠে, মা, বাবা কী গিফট আনবে এবার?
মা বলল, সবুর কর। এলেই দেখতে পাবি কী নিয়ে এল তোর বাবা।
বাবা বাড়িতে ফেরে বছরে দুবার, একবার পুজোয়, একবার নববর্ষের আগে। প্রতিবারই থাকে দশ-বারো দিন করে। বুম্বা আর তার মাকে নিয়ে বাবা ব্যস্ত থাকে সেই ক’দিন। এখানে-ওখানে বেড়াতে নিয়ে যায়। কোনও আত্মীয়বাড়িতে, একদিন সিনেমা দেখতেও। বুম্বা যা চায় কিনে কেটে দেয়।
বাবা যখনই আসে, ব্যাগ ভরতি করে খেলনাপাতি- খাবার-বই নিয়ে আসে বুম্বার জন্য। বাড়িতে ঢুকে, বুম্বাকে একটু আদর করে, মেঝেয় ব্যাগ-বাক্স রেখে খুলতে আরম্ভ করে সেগুলো। বুম্বা তখন দাঁড়িয়ে থাকে নিঃশ্বাস বন্ধ করে। কী বেরবে ব্যাগ থেকে। কী বেরবে বাক্স থেকে।
পুজোর সময় একরকম গিফ্‌ট, নববর্ষে আর একরকম গিফ্‌ট।
কয়েকদিন খুব হইচই করে আবার একদিন সকালে উঠে হাতে-কাঁধে ব্যাগ-বাক্স নিয়ে চলে যায় বহু দূরে কোথাও।
বাসে করে, ট্রেনে করে, জাহাজে করে বুম্বার বাবা চলে যায় সেই কোন দূরদেশে, সাত-সমুদ্দুর পেরিয়ে কোথায় না কোথায় যায়, সে দেশ বুম্বা চেনে না, শুধু জানে সেখানে পাওয়া যায় হরেক রকমের খেলনা, কত রকমের নোনতা-মিষ্টি খাবার। রঙিন বইও কত যে, তার পাতায় পাতায় কত রং-বেরঙের ছবি।
বাবা চলে যাওয়ার সময় খুব মন খারাপ হয়ে যায় বুম্বার। মাও কান্নাকাটি করে বিছানায় মুখ গুঁ‌঩জে। বাবা তার সঙ্গে মায়ের মাথায়ও হাত বুলিয়ে বলে, ধুর, বোকার মতো কেউ মন খারাপ করে। কাজে না গেলে সারা বছর তোমরা খাবে কী! আবার আসব শিগগির। আসার সময় কত কিছু নিয়ে আসব।
বাবা চলে গেলে মা খেতে বসতেই চায় না! খেলেও সামান্য একটু খায়। বেশিটাই একটু একটু করে তুলে দেয় বুম্বার মুখে। ক’দিন ধরে খাবারগুলো খায় বুম্বা। বাবা চলে গেলে মা যেন আরও একটু রোগা হয়ে যায়।
বাবা চলে গেলে বুম্বারও যে খেতে খুব ভালো লাগে তা নয়। তবে বাবা যে নতুন খেলনাপাতি নিয়ে আসে, সেগুলো মেঝেয় ছড়িয়ে নিয়ে বসে খেলে কতবার করে। যেন ওই খেলনাপাতির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বাবার ভালোবাসা।
খেলনাগুলো সাজায়, আর তাদের সঙ্গে কথা বলে। যেন নিজের সঙ্গে কথা বলে বুম্বা। তাদের নিয়ে বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যেন খেলনাগুলোর সঙ্গে থাকা মানে বাবার সাহচর্য পাওয়া। একটা খেলনা আছে, সোলজার। তার হাতে মস্ত বন্দুক। তখন বুম্বাও একজন সোলজার। মনে মনে যুদ্ধ করে প্রতিপক্ষর সঙ্গে। একটা খেলনা আছে সান্তা ক্লজ, কী সুন্দর লাল টুকটুকে পোশাক তার। সে নাকি বড়দিনে এসে মোজার ভিতর অনেক খেলনা, খাবারদাবার রেখে যায়! বুম্বা ভাবে তার বাবাই তো একজন সান্তা ক্লজ।
আবার বাবা কখনও নিয়ে আসে রঙিন ছবির বই। বইগুলো ভালো, কিন্তু সবই ইংরেজিতে লেখা। সেই বই এখনও পড়তে পারে না সে। নিশ্চয় আরও বড় হয়ে পড়বে গল্পগুলো। শুধু বইগুলো নাড়েচাড়ে, ছবি দেখে। ছবি দেখে, বইগুলোর অচেনা অক্ষর থেকে তৈরি করে নিজের ইচ্ছেমতো গল্প।
একটা ছবিতে দেখল আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে অবিরত টহল দিয়ে যাচ্ছে সাদা মেঘের দল, অমনি তাদের সঙ্গে গল্প করে নেয় দু দণ্ড। বলল, ও মেঘ, একটু দাঁড়াও, তোমার পিঠে তুলে নিয়ে যাও। আমার বাবা যে দেশে থাকে, খুব ইচ্ছে করছে সেখানে যেতে।
একটা ছবিতে দেখল সবুজ মাঠের ভিতর লাফিয়ে বেড়াতে থাকা ঘাসফড়িংদের, অমনি ইচ্ছে হল তার সঙ্গে দীর্ঘ ভাব জমাতে। বলে, এসো, দু’দণ্ড গল্প করি। বাবার জন্য আমার খুব মন খারাপ।
একটা ছবি দেখল সুন্দর একটা নদীর ধারে বাংলোবাড়ি। অমনি মনে মনে সেই বাড়ির মধ্যে চলে গেল মায়ের হাত ধরে। গিয়ে দেখল, সেখানে বসে আছে তার বাবা। অমনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি কখন এসেছ? আমাকে বলোনি তো!
একটা ছবিতে দেখল, একটা পালতোলা নৌকো ভেসে চলেছে মস্ত নদীতে। অমনি উঠে বসল সেই নৌকোয়। একটা ছবিতে দেখল একটা ট্রাক চলেছে মাল বোঝাই করে। অমনি উঠে বসতে চেয়েছে সেই ট্রাক ড্রাইভারের পাশের সিটে। ট্রাকটা নিশ্চয়ই বাবার দেশে যাবে।
কখনও বুম্বার ইচ্ছে জাগে ঘুমের ভিতর মন ভালো করে দেওয়া স্বপ্ন দেখে। বাবার সঙ্গে সারা রাত গল্প করে চলেছে। দেশবিদেশের কত গল্প।
দিনের বেলায় একা একা জাবর কাটে এত সব স্বপ্নের।
অপেক্ষা করে বাবা কবে আবার নতুন বই নিয়ে আসবে। অপেক্ষা করে নববর্ষে বাবা আসবে, বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাবে।
নববর্ষের মজা একরকম, পুজোর মজা আর একরকম। পুজোয় একটু বেশি মজা। চারদিনই বাবা আর মায়ের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে পুজো দেখা। বিশাল মণ্ডপ আর প্রতিমা দেখা।
তবে নববর্ষের মজাও কম নয়।
নববর্ষের ঠিক আগে অনেকগুলো লাল-সবুজ কার্ড আসে। সেই কার্ড হাতে করে সে বাবার সঙ্গে যায় অনেক-অনেক দোকানে। তিন-চারটে মুদির দোকান দুটো স্টেশনারি। সেই দোকানগুলোয় গেলে তারা খুব খাতির করে বাবাকে, বাবার সঙ্গে তার হাতেও তুলে দেয় লাল-সবুজ শরবতের গেলাস। বুম্বা বেশ তারিয়ে তারিয়ে খায়। শরবত শেষ হলে কোনও দোকানে লাড্ডু, কোনও দোকানে বালুসাই, কোনও দোকানে অমৃতি। সব দোকানেই বাবা কিছু কিছু করে টাকা দেয়। সারা মাস ধরে সব জিনিসপত্র ধারে নিয়ে আসে মা, তার জন্যই।
তাই মাসের পর মাস মা বাবার ফেরার জন্য অপেক্ষা করে মা। এক-দুদিন দেরি হলেই মায়ের মুখ ব্যাজার।
মায়ের মন খারাপের কারণগুলো বুম্বা বোঝে। বাবা বাড়িতে না-থাকায় মায়ের ঘাড়েই পড়ে সংসারের যাবতীয় ঝক্কি। বুম্বা দেখে মা কী কষ্ট করে বাজার থেকে বয়ে আনে বাজারের ব্যাগ, দোকানের জিনিসপত্র। লাইন দিয়ে মিটিয়ে আসে ইলেকট্রিকের বিল। কখনও বুম্বাকে নিয়ে যায়, কখনও আবার ঘরের মধ্যে রেখে যায়। বলে, খবরদার, আমি ছাড়া বাইরে থেকে কেউ এলে দরজা খুলবিনে।
বুম্বা চুপ করে বসে থাকে ঘরের মধ্যে। এক-একদিন একরকম খেলা করে নিজেকে ব্যস্ত রাখে। যখন কোনও খেলাই পছন্দ হয় না, একা-একা নানা কিছু ভাবে।
এই তো আগের নববর্ষের আগে থেকে একটা-দুটো করে লাল কার্ড, সবুজ কার্ড আসছিল বুম্বাদের ঘরে। কার্ডগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে বুম্বা লাফাতে থাকে আনন্দে।
নববর্ষে খুব আনন্দ করেছে বাবাকে নিয়ে। কত দোকানে ঘুরেছে। যে দোকানেই যায়, বাবা একতাড়া করে নোট তুলে দেয় দোকানির হাতে, তারা বাবাকে কত যত্নআত্তি করে, বুম্বাকে বলে, ‘আর এক গেলাস সরবত দেবো?’ বুম্বা জোরে জোরে ঘাড় নাড়ে, বলে, নাহ্‌, আর পারছি না! সব মিলিয়ে চার গেলাস হয়ে গেল এর মধ্যে।
নববর্ষের পর বাবা আবার চলে গেছে ব্যাগ-বাক্স হাতে কাঁধে নিয়ে। আবার হা-পিত্যেশ করে বসে থাকা পুজো পর্যন্ত। কিন্তু দিন যেন কাটেই না!
এক একটা দিন যায়, আর বুম্বা গোনে ঠিক আর কতদিন বাকি বাবা আসতে!
মা-ও রোজ উলটে-পালটে দেখে ক্যালেন্ডারের পাতা। কখনও একটা পেন দিয়ে দাগ দেয় ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল-নীল সংখ্যাগুলোর উপর।
বুম্বা মা’কে বারবার জিজ্ঞাসা করে, বাবা কবে আসবে, মা? বাবা, কবে—
অন্য অন্য দিন মায়ের মুখে হাসি থাকে না, বলে, আসবে আসবে। আর বেশি দেরি নেই রে!
এদিন হাসি-হাসি মুখে বলল, এই তো সামনের মঙ্গলবার ষষ্ঠী। ঠিক তার আগের দিন আসে প্রতিবার।
বুম্বা আবার ক্যালেন্ডারের সামনে দাঁড়ায়। ডিঙি মেরে দেখতে চেষ্টা করে কবে সেই ষষ্ঠী। লাল ছবিঅলা দিনগুলো দেখে বোঝার চেষ্টা করে আর ঠিক কতদিন বাকি বাবা আসতে!
— মা, বাবাকে বলেছিলাম একটা হাওয়াই জাহাজ কিনে আনতে।
বুম্বার হাসি হাসি মুখ দেখে মা বলল, তাই নাকি? বলেছিলি?
— হ্যাঁ তো।
— হাওয়াই জাহাজের কথা জানলি কী করে?
— কেন? ওই নীল রঙের বইটাতে কী সুন্দর করে আঁকা!
— কই দেখি? কোথায় দেখলি হাওয়াই জাহাজ?
বুম্বা অমনি ঘরের ভেতর গিয়ে নিয়ে আসে নানা রঙের মস্ত বইটা। তার পাতায় পাতায় কত রকমের নৌকো, কত রকমের জাহাজ! আর শুধু সমুদ্র আর সমুদ্রের ছবি। সমুদ্রের জলের রং-ই বা কতরকম!
সেই বইয়ের মাঝামাঝি খুলে বুম্বা বলল, দ্যাখো, মা, এইটা—
তার মা ঝুঁকে পড়ে দেখতে থাকে নীল-মেরুন-সবুজ রঙের পাল তোলা এক চমৎকার জাহাজ। মায়ের নিবিষ্ট মুখের দিকে তাকিয়ে বুম্বা বলল, বাবা কি এরকম জাহাজে চড়ে চলে যায় প্রত্যেকবার?
মা চুপ করে থাকে। কিছুক্ষণ পর বলে, আমি কী করে জানব?
বুম্বা জাহাজের ছবিটা আরও অনেকটা সময় ধরে দেখে বলল, বাবা কবে আসবে..., মা?
— এই তো আর ক’দিন পর।
বুম্বা হঠাৎ ধৈর্য হারিয়ে বলল, বাবাটা যে কী! গেলে আর আসতে চায় না!
মায়ের বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
বুম্বা আবার বলল, বাবা যদি এখানে একটা চাকরি করত, কী মজাই না হত!
মায়ের বুক থেকে আবার একটা দীর্ঘশ্বাস।
নির্দিষ্ট দিনের দু’দিন আগেই ঘরে ফিরে এল বাবা। দরজায় কড়া নাড়া শুনেই লাফিয়ে উঠল বুম্বা। মা-ও মুখে আলো ফুটিয়ে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দেখল—
বুম্বার বাবা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু অন্যবারের মতো হাসি হাসি মুখে নয়, অভিব্যক্তিতে কালি ঢেলে দিয়েছে কেউ।
বুম্বাও লক্ষ করল বাবার সারা মুখে দুঃখ-দুঃখ ছায়া। সঙ্গে প্রতিবারের মতো মোটা ব্যাগ নেই। আছে একটা সুটকেশ, সেটা খুলতে তাতে বাবার জামাকাপড়েই ভরতি।
তিনজনের কেউ কোনও কথা বলছিল না। ঘরের হাওয়া কীরকম ভারী আর মন খারাপের।
বুম্বা শুনল বাবা সেই দূর দেশে যে কোম্পানির হয়ে কাজ করছিল, তারা ব্যাবসায় ফেল মেরে কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। কোনও কর্মীই কয়েক মাসের মাইনে পায়নি।
বাবা একেবারে চলে এসেছে এ দেশে। থাকবে বুম্বা আর মায়ের সঙ্গে।
মা তো এরকমটাই চেয়েছিল, কিন্তু বাবার চাকরি চলে যাক তা তো চায়নি!
বুম্বা বুঝল এবার পুজোয় আর কোনও আনন্দ হবে না, কোথাও ঘুরতে যাওয়া হবে না, হই হই করে যাওয়া হবে না পুজোর প্যান্ডেলগুলোয়।
প্রতিবার বাবা অনেক কিছুই উপহার হিসেবে নিয়ে আসে, এবার বুম্বাকে কোলে নিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘এবার কিছু গিফট আনতে পারিনি, বাবা।
বুম্বা বাবার কোলে মুখ গুঁজে বলল, কেন বাবা, তুমি ফিরে এসেছ। তুমিই তো আমার গিফট।
30th  April, 2017
 কালাপাহাড়

 বারিদবরণ ঘোষ: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্পে একটি বিধ্বংসী মোষের নাম দিয়েছিলেন কালাপাহাড়। কে জানে কেন এমন নামকরণ! মোষ সে কালো, সে ভেঙেচুরে ফেলে—তাতে কালো হতে পারে। কিন্তু কালা তো বধির—যে কানে শুনতে পায় না।
বিশদ

কিছু পথ কিছু কথা কলকাতা

 তরুণ চক্রবর্তী: রাজপুতানার ইতিহাসে আমরা পড়েছি ‘ধাত্রী পান্নার কাহিনি।’ নিজের সন্তানের প্রাণের বিনিময়েও প্রভুর পুত্রকে রক্ষা করে ত্যাগ ও কর্তব্য পরায়ণতার অনন্যা সাধারণ নজির গড়েছিলেন তিনি। আমাদের শাস্ত্রেও ধাত্রী বা ধাই-মাকে মাতৃসদৃশা জ্ঞানে উচ্চাসন দেওয়া হয়েছে।
বিশদ

 নির্জন অবভাসে

 কমলেশ রায়: আজ ফুলবেলা। রোজই সকলে ফুল পায় না। সপ্তাহে এই একটি দিন, রোববারের সকালে পাওয়া যায়। বাকি ক’টা দিন চরাচরের কোন দিক থেকে ওঠে ঘর-হলুদ রোদ। আর রাতে জুঁই-জ্যোৎস্নার বেহিসেবি ফিনকি দেওয়া, কখনও ঘন, কখনও কুয়াশার মতো আরও ঘনতর। লুকোচুরি খেলতে খেলতে এই পাহাড়ি টিবি স্যানাটোরিয়ামের ওপর দিয়ে পেরিয়ে যায়, রোগীরা কোনও খবর রাখে না। আসলে খবর রাখার জন্যে যে ঘরোয়া মানসিকতা, সেটাও কবে ফুরিয়ে গেছে। বিশদ

সেই যুবক

কলকাতা থেকে দূরে রজতপুরের পলিক্লিনিকে বসতে প্রথমটাই আপত্তি করেছিলেন সাইকিয়াট্রিস্ট ডঃ মৈনাক গুহ। বন্ধু শংকর বলেছিলেন, ‘ওখানে চেম্বার করো। একেবারে সোনার খনি। তোমার কপাল খুলে যাবে।’
বিশদ

16th  July, 2017
 ঠগবাজের দোকানে লাল বাতি

 বাড়ি ছিল তালুকদারদের। সেই বাড়ির ছেলে স্বপন আমার বাল্যকালের বন্ধু। স্বপনের বাবা মরে গেলে সে মায়ের সঙ্গে চলে যায় মামার বাড়ি। তারপর আর দেখা হয়নি। নাকি হয়েছিল একবার। স্বপন এসেছিল বাড়িতে তাদের অংশ দাবি করতে। সে ছিল ভয়ানক সময়। স্বপনের কাকা যোগেন স্বপনকে ভয় দেখিয়েছিল নকশাল বলে পুলিশের হাতে তুলে দেবে। ১৯৭১-’৭২-এর কথা বলছি। স্বপন দাবি ত্যাগ করে চলে গিয়েছিল। বিশদ

16th  July, 2017
 তারাখ্যাপা, মাতাজি ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র

 ১৮৩৫ সাল। প্রসিদ্ধ রায় বেল্‌হর দুর্গ। এই দুর্গের কোনও এক কক্ষে মাতাজি গঙ্গাবাঈ প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেন। দাক্ষিণাত্যের আর্কট প্রদেশের রাজা যোগীরাজের বংশের রাজকন্যা ছিলেন মাতাজি। রাজপরিবারে জন্ম হওয়া সত্ত্বেও ছোট থেকেই ভোগবিলাসের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র আকর্ষণ ছিল না। রাজকন্যা হওয়ার ফলে তাঁকে রাজবংশের নানাবিধ নিয়মকানুন মেনেই চলতে হত। তা সত্ত্বেও তিনি বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও করতেন। সংস্কৃত ভাষার ওপর তাঁর দখল ছিল অপরিসীম। চিরকুমারী থাকার সংকল্প নিয়ে তিনি পঞ্চাগ্নিব্রতও পালন করেছিলেন।
বিশদ

16th  July, 2017
সভাঘরে

 সভাঘরে কবিতা পাঠের আগে বক্তৃতা পর্ব চলছে। সভাপতির আসনে সাহিত্যিক অনিমেষ নাথ। অকস্মাৎ পাখির ডাক। সভাপতির চলভাষ থেকে। মিনিট পাঁচেক আগে ঘোষক উপস্থিত সকলকে এই বাক বিনিময় যন্ত্রটি নির্বাক করে রাখার অনুরোধ জানালে সভাপতিমশাই নিজেও জোরালো সায় দিয়েছিলেন খানিক বক্তৃতাসহ। একটু অপ্রস্তুত হয়ে ফোন ধরে চাপা গলায় বললেন, ‘বল’।
বিশদ

09th  July, 2017
কিছু পথ কিছু কথা-কলকাতা
পর্ব-৩

 যে এলাকার পথের কথায় আসছি সেখানকার নামের পেছনেও ঘটনার কিছু ঘনঘটা আছে। নেমেছি যখন পথে এবং বিশেষ করে গলিঘুঁজির যতটা যা পারি তত্ত্বতালাশ করতে, তখন এটুকু প্রথমে বলে নিতেই হচ্ছে। সেকালের সুতানুটি গ্রাম আজকের শোভাবাজার বলে যাকে আমরা জানি, তার নাম হয়েছিল সভাবাজার এবং তারও আগে ওই গাঁয়ের নাম ছিল রাসপল্লি।
বিশদ

09th  July, 2017
 চিতোর রানি পদ্মিনী

  পদ্মা, পদ্মাবতী, পদুমাবৎ, পদ্মিনী— যে নামেই তাঁকে ডাকি— তিনি সাড়া দেবেন। সাড়া দেবেন ইতিহাসে এবং কিংবদন্তিতে। কট্টর ঐতিহাসিক বলবেন— পদ্মিনী একটা গল্পের নায়িকা, ইতিহাসের এর অস্তিত্ব নেই। কিংবদন্তি প্রতিবাদ জানাবে— যাঁর সৌন্দর্যের কাছে একটা পদ্মফুল হার মানে, তিনি গল্প হয়ে যাবেন। আলাউদ্দিন কি তবে মিছিমিছিই চিতোর দুর্গ দখল করেছিলেন।
বিশদ

09th  July, 2017
তারানাথের রোষে কপাল পুড়ল ম্যাজিষ্ট্রেটের 

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়: শাসকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন বড়মার জ্যেষ্ঠ সন্তান বামদেবের প্রিয় শিষ্য তারানাথ বা তারাখ্যাপা। এই প্রসঙ্গে ডাক্তার অভয়পদ চট্টোপাধ্যায় লিখছেন, ‘ তন্ত্রসাধকগণ ধরিত্রী বা বসুন্ধরাকে আপন ইষ্ট মাতৃকাস্বরূপেই দেখে থাকেন। বিশদ

02nd  July, 2017
ভা লো মা নু ষ - ম ন্দ মা নু ষ
কন্ধ উপজাতি-গঞ্জের চিকিৎসক
 

অমর মিত্র: ক’দিন আগেই সুখ্যাত এক বেসরকারি হাসপাতালে ধরা পড়েছে জাল ডাক্তার। নামের পাশে এমবিবিএস। আমি যে ডাক্তারবাবুর কথা বলছি, তিনিও ডাক্তার। আধুনিক চিকিৎসাবঞ্চিত আদিবাসী গ্রামে চিকিৎসা করেন। না তাঁর নামের পাশে ভুয়ো ডিগ্রি নেই। কেতাও নেই। বলি তাঁর কথা।
বিশদ

02nd  July, 2017



একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২১ জুলাই শহিদ দিবসের সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের ঝড় রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় স্তরে উঠে এল। নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা তথা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অপশাসন নিয়ে শুক্রবার ধর্মতলার ঐতিহাসিক সমাবেশমঞ্চ থেকে ...

ইসলামাবাদ, ২২ জুলাই (পিটিআই): পানামা পেপার ফাঁস কেলেঙ্কারিতে শেষ পর্যন্ত গদি খোয়াতে হতে পারে নওয়াজ শরিফকে। এমন আশঙ্কায় শরিফের উত্তরসূরি হিসাবে বেছে নেওয়া হল তাঁর ভাইকেই। শাহবাজ শরিফ এখন পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং নওয়াজের ছোট ভাই। তবে শাহবাজ শরিফ পাক ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহরমপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা বিচারাধীন বন্দি উধাও হল হাসপাতাল থেকে। পলাতক ওই বন্দির নাম সোহেল রানা (২৫)। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইষ্টার্ন কোলফিল্ডের সালানপুর এলাকায় থাকা কর্মী আবাসন থেকে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে অন্তত ১০০ বেআইনি দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বস্তুত, এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বহু আবাসনেই তারপরেও প্রচুর বেআইনি দখলদার রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যাবসা সূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

 ১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
 ১৮৯৫ – চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
 ২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
 ২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৫৫ টাকা ৬৬.২৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৯৮ টাকা ৮৪.৯৬ টাকা
ইউরো ৭৩.৫৬ টাকা ৭৬.১৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
22nd  July, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,০৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৫৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৭,৯৯৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

 ৭ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা দিবা ৩/১৬, পুনর্বসুনক্ষত্র দিবা ৯/৫৩, সূ উ ৫/৭/৫৭, অ ৬/১৮/৫, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৬/১-৯/৩১ রাত্রি ৭/৪৫-৯/১১, বারবেলা ১০/৪-১/২২, কালরাত্রি ১/৪-২/২৬।
৬ শ্রাবণ, ২৩ জুলাই, রবিবার, অমাবস্যা ৩/৫২/৫৯, পুনর্বসুনক্ষত্র ১১/৫/৩৬, সূ উ ৫/৪/৫০, অ ৬/২০/৬, অমৃতযোগ দিবা ৫/৫৭/৫১-৯/২৯/৫৫, বারবেলা ১০/৩/৩-১১/৪২/২৮, কালবেলা ১১/৪২/২৮-১/২১/৫২, কালরাত্রি ১/৩/৪-২/২৩/৩৯।
 ২৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারতের জয়ের জন্য ২ ওভারে ১১ রান প্রয়োজন 

10:06:00 PM

ভারতের জয়ের জন্য ৬ ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন 

09:47:31 PM

ভারত ১৪৫/৩ (৩৫ ওভার) 

09:08:03 PM

ভারত ১২০/২ (৩০ ওভার) 

08:45:54 PM

ভারত ৬৯/২ (২০ ওভারে)

08:10:29 PM

ভারত ৪৩/২ (১২ ওভারে)

07:41:49 PM