বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

সত্যজিৎময় মসুয়া
সুখেন বিশ্বাস

বাংলাদেশে গেলেও তিনি কখনও পা রাখেননি পৈতৃক ভিটেতে। তবুও মসুয়ার রায়চৌধুরী বাড়ির পরিচয় ‘সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি’ নামেই। এই বাড়িতেই জন্ম হয়েছিল সত্যজিতের ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর। ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তি পায় ‘পথের পাঁচালি’। সেই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছরই এখানে প্রদর্শিত হয় এই আইকনিক ছবি।

ঢাকা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে মসুয়া গ্রাম। একসময় ময়মনসিংহের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে তা কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলায় অবস্থিত। সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষদের বাসভূমি। একসময় মসুয়া গ্রামেই তাঁদের জমিদারি ছিল। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সুকুমার বা সত্যজিৎ অবশ্য কলকাতায়। ১৯৯২-এর ২৩ এপ্রিল সত্যজিৎ মারা যাওয়ার পরপরই মসুয়ায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। তার কয়েক বছর পরে ১৯৯৮ সালে  তৎকালীন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে গঠিত হয় ১১ সদস্য বিশিষ্ট ‘সত্যজিৎ রায় স্মৃতি সংসদ’। অধ্যাপক মান্নানের ইচ্ছে ছিল সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের জন্মভিটেকে সামনে রেখে মসুয়ায় সত্যজিৎ তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা। শেষপর্যন্ত কেন্দ্রটি গড়ে ওঠেনি। তবে সত্যজিতের নামে মসুয়ায় গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র।
ঢাকা থেকে আমরা যাচ্ছিলাম মাইক্রো করে। এখানকার চার সিট বিশিষ্ট ছোট গাড়ির প্রচলিত নাম। আর ম্যাক্রো চার সিটের বেশি সিট বিশিষ্ট বড় গাড়ি। কিশোরগঞ্জে ঢুকতেই গাড়ি থামিয়ে এক দোকানিকে জিজ্ঞেস করলাম, মসুয়ার জমিদার রায় পরিবারের বাড়িটা কোন দিকে বলতে পারেন? উত্তর এল, ‘সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি যাবেন তো? এই তো কিছুটা এগলেই প্রথমে পড়বে মসুয়া হাইস্কুল। পরে খেলার মাঠ। তারপরেই সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি।’
একসময় রায়চৌধুরী বাড়ির জমিদারি ছিল কয়েকশো একর জুড়ে। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া, পংমসুয়া, মুগদিয়া, বেতাল, আহুতিয়া, সালিআদি ইত্যাদি গ্রাম ছিল তাঁদের জমিদারির আওতায়। বহু গ্রাম সেই সময় রায়চৌধুরীদের জমিদারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রজা সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। রাজস্ব আদায়ও বহুগুণ বেড়ে যায়। কালের নিয়মে  জমিদারির অবসান ঘটে। রায়চৌধুরী পরিবারের সম্পত্তি দখল হতে হতে অবশিষ্ট রয়েছে আট একরের মতো জমি। তবে, এই বাড়ির পুজোমণ্ডপের ধ্বংসাবশেষ, কাছারি উঠোন, সামনের পুকুর, খেলার মাঠ ও মসুয়া বাজারের কিছুটা বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। এখন যেখানে ভূমি অফিস, আগে সেটা ছিল এই পরিবারের কাছারি বাড়ি। এখানেই ছিল রায়চৌধুরী বাড়ির গুপ্ত সিন্দুকটি। অর্থাৎ রেকর্ড অনুযায়ী বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ১ একর ৩৪ শতক পুজোমণ্ডপের ধ্বংসাবশেষসহ কাছাড়ি উঠোন, ১ একর ৩৬ শতক পুকুর, ১ একর ৭৮ শতক মসুয়া খেলার মাঠ। বাকি রয়েছে মসুয়া বাজারের ৪৮৫ নং দাগে সাড়ে ৩ একর জমি।
ইতিহাস বলছে, রায় বাড়ির আদি পুরুষ ছিলেন রামসুন্দর। তাঁরই এক উত্তরসূরি হরিকিশোর রায়চৌধুরী পরবর্তীকালে হয়েছিলেন মসুয়ার জমিদার। তিনিই পেয়েছিলেন ‘রায়চৌধুরী’ উপাধিটি। আইন পেশায় বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। হরিকিশোর ওই সময় ময়মনসিংহে একটা বিশাল বাড়ি তৈরি করেছিলেন। বাড়িটির নাম দিয়েছিলেন ‘পুণ্যলক্ষ্মী ভবন’। এটাই পরবর্তীকালে মসুয়ার জমিদারবাড়ি হিসেবে দেশ-বিদেশে খ্যাতি লাভ করে। পাশাপাশি সেই সময় বাড়ি সংলগ্ন যে রাস্তা নির্মিত হয়েছিল তার নামকরণ করা হয়েছিল হরিকিশোর রায় রোড। হরিকিশোর সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী হওয়ার কারণে জমিদারবাড়িটি ‘বাবুর বাড়ি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। সন্তানহীন হওয়ায় তিনি জ্ঞাতিভাই কালীনাথের দ্বিতীয় সন্তানকে দত্তক নিয়েছিলেন। হরিকিশোর তাঁর দত্তক-পুত্র কামদারঞ্জনের নামকরণ করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। পরে অবশ্য হরিকিশোরের একাধিক সন্তান হয়েছিল। তাঁরা নরেন্দ্রকিশোর, মনোরমা ও সুরবালা। ইতিমধ্যে উপেন্দ্রকিশোর কলকাতায় চলে আসেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই মারা যান হরিকিশোর। 
সেইসময় জমিদারি দেখাশোনার ভার পড়ে নরেন্দ্রকিশোরের উপর। তখনও কিন্তু রায়চৌধুরী বাড়ির উঠোন ছিল একুশটা। জমি ছিল প্রায় দেড়শো বিঘে। ১৯৩৫ সালে নরেন্দ্রকিশোর মারা যান। তখন তাঁর নায়েব রামকুমার রায় ওই বাড়িতে পুজোআচ্চা, জমি-জমা ইত্যাদি দেখাশোনার কাজ করতেন। সেই সময় দেড়শো বিঘে জমির খাজনা নেহাত কম ছিল না। সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য রামকুমার হঠাৎই সরকারি কোষাগারে খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই রায় বাড়ির জমি-জমা সম্পত্তি ইত্যাদি নিলামে ওঠে। রামকুমারের ছোট ভাই কেষ্টবাবু (কৃষ্ণকুমার রায়) সেই নিলামে অংশ নেন। ফাটকায় পেয়ে যান বিশাল সম্পত্তি। অতঃপর দরজা-জানলা ভেঙে পঞ্চাশটি গোরুর গাড়িতে লোহার শিক, কাঠের পাটাতন, টিনের পাত সবই নিয়ে উধাও হন তিনি। বাকি জমি-জমাও দখল করেন। সঙ্গে যোগ দেয় ওখানকার কিছু স্থানীয় মানুষ ও তহশিলদার।
এ কথা ঠিক, সত্যজিৎকে নিয়ে মসুয়ায় আজও উৎসাহের অন্ত নেই। তাঁকে নিয়ে অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে মসুয়ার আনাচে-কানাচে। রায় বাড়ির পূর্বপুরুষদের নিয়েও ছড়িয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তি। দুর্গাপুজো, কালভৈরবের পুজোয় কত লোকই না হতো এই বাড়ির ঠাকুরদালানে। কথিত আছে, মসুয়ার কয়েক হাজার মানুষকে তিন দিন পাত পেড়ে খাওয়াতেন রায়চৌধুরী বাড়ির জমিদারেরা। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসত এখানকার পুজো দেখতে। সেই সময় মসুয়ার এই পরিবারটি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। উপেন্দ্রকিশোরের ঠাকুরদা লোকনাথ ছিলেন বহু ভাষাবিদ। গণিত ও ভূমি জরিপের কাজে তাঁর তুলনা খুঁজে পাওয়া ছিল মুশকিল। কাঠবাদাম গাছের নীচে বসে লোকনাথ বাতাসা হাতে দিয়ে ছোটদের শেখাতেন, বড়দের সেলাম জানাতে হয়। লোককথার মতো এই রকমই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রায়চৌধুরী বাড়ির কিংবদন্তি। অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও দক্ষিণ দিকের পুকুরটা অবশ্য এখনও রয়েছে। এই পুকুরের সামনে বসেই এই পরিবারের মানুষজন গ্রীষ্মকালে দখিনা বাতাস উপভোগ করতেন। আর ওখানকার প্রজারা খাবার জল নিতে আসত এই পুকুরেই। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটক মন্ত্রকের সচিব থাকাকালীন শফিক আলম মেহেদি মসুয়ায় সত্যজিৎ পর্যটন কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই পরিবারের প্রতি মেহেদির একটা আলাদা সেন্টিমেন্ট ছিল। কারণ তিনি জন্মসূত্রে মসুয়ারই অধিবাসী। জানা গিয়েছে, দুই বাংলার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও আত্মিক মেলবন্ধনের জন্যেই তিনি এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ায় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সত্যজিৎ বেঁচে থাকতেই এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ইচ্ছে জেগেছিল তাঁর। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পর্যটন মন্ত্রক প্রথম দিকে বরাদ্দ করেছিল ৬০ লক্ষ টাকা। সেই অনুযায়ী ২০১১-এর মে মাস থেকে শুরু হয়েছিল পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ। প্রথমে ঠিক ছিল ২০১২-এর পয়লা জানুয়ারি সত্যজিৎ পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধন হবে।  পরে তা কিছুটা পিছিয়ে যায়।
পড়াশোনার জন্যে কলকাতায় চলে এলেও উপেন্দ্রকিশোর মাঝেমধ্যেই আসতেন মসুয়ার বাড়িতে। বছরে একবার তো বটেই। সঙ্গে আসতেন সত্যজিৎ-পিতা সুকুমারও। কিন্তু সত্যজিৎ কোনওদিন মসুয়ায় পা রাখেননি। তবুও তাঁর নাম ধরেই মসুয়ার রায় বাড়ির পরিচিতি। বাংলাদেশের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাবউদ্দিন বাদল বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির মতো পূর্ববঙ্গের জোড়াসাঁকো হিসেবে বিখ্যাত মসুয়ার বাড়িটি।’ ‘পথের পাঁচালি’ বিখ্যাত হওয়ার পরপরই মসুয়ার বাড়িটির পরিচয় রাতারাতি বদলে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বাড়ির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। বাড়িটি ক্রমশ সত্যজিৎময় হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে রায়চৌধুরী বাড়ি পরিচিতি লাভ করে ‘সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃকভিটে’ হিসেবেই। ওপার বাংলার বিশিষ্ট ছড়াকার লুতফার রহমান রিটন মসুয়ায় এসে এই বাড়ি দেখে লিখেছিলেন, ‘রাস্তার পাশে মূল ফটক পেরিয়ে একটু এগতেই আমাদের চোখে পড়ল—ধ্বংস ও ক্ষয়প্রাপ্ত জরাজীর্ণ একটা ভবনের সামনে কোনও মতে দাঁড়িয়ে থাকা সাদাকালো একটা সাইনবোর্ড ঘোষণা করছে—অস্কার বিজয়ী সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি/গ্রাম-মসুয়া, উপজেলা-কটিয়াদি, জেলা-কিশোরগঞ্জ। (Ancestral Home of Oscar Winner Satyajit Ray. Vill- Mashua. Upazila- Katiadi. District- Kishoregonj) অযত্ন অবহেলা অনাদরে থাকা ইট-সুরকি খসে পরা সত্যজিৎ-সুকুমারের পূর্বপুরুষের বসতভিটায় গিয়ে একই সঙ্গে মনটা প্রফুল্ল ও বিষণ্ণ হয়ে উঠল। সকালের নরম রোদের সোনালি আলো এসে আছড়ে পড়ছিলো ভাঙা ইট-সুরকির দেয়ালের ওপর এবং সেই রোদ খানিকটা আহলাদের প্রলেপ বুলিয়ে দিচ্ছিল আমার চোখে-মুখেও। আহা রে! কোথায় এসেছি আমি!’ 
অস্কার প্রাপ্তির পর মসুয়ার ‘নব উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক সংঘ’ সত্যজিতের নামে মিছিল করেছিল। তাঁর নামে কয়েকটি সাহিত্য সংগঠনও গড়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তান থাকার সময়ে এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা সত্যজিৎ রায়ের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করা যায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সত্যজিতের নামে ফাউন্ডেশন গড়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা শুরু হয়েছে। মসুয়ায় তারা প্রতি বছর সত্যজিতের জন্ম ও মৃত্যু দিন ঘটা করে পালন করে থাকে। সাহিত্য পাঠের আসরও বসায়। সবশেষে তাঁর নামে গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। ‘গত কয়েক বছর ধরে ২৬ আগস্ট এখানে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত প্রথম ছবি পথের পাঁচালি প্রদর্শিত হচ্ছে। আর বৈশাখের শেষ বুধবার এখানে সত্যজিৎ মেলা বসে,’ বলছিলেন অধ্যাপক ইমদাদুল হক মামুন। আর এই মেলায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পদাধিকার বলে কটিয়াদি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।
জানা গেল, এক মাস ধরে চলে এই মেলা। যাত্রাগান, পুতুলনাচ, বাউলে-বাউলে ছয়লাপ হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। সত্যজিতের জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়েও বসে আলোচনাসভা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহি ইত্যাদি জায়গা থেকে হাজার হাজার লোক আসে সত্যজিৎ মেলায়। মসুয়ার স্কুল মাঠ ছাপিয়ে মেলা ছড়িয়ে পড়ে পাকা রাস্তার দুই ধারে। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম শহিদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সত্যজিৎ রায়কে আমন্ত্রণ জানায়। তিনি সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে পা রেখেছিলেন ঢাকায়। বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘গত ২০ বছরে অনেক জায়গায় অনেক দেশে অনেকবার নানাভাবে সম্মানিত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু জোর গলায় আজকে এখানে দাঁড়িয়ে এই শহিদ দিবসের পুণ্য তিথিতে আমি বলতে পারি যে, আজকের যে সম্মান, সে সম্মানের কাছে আগের সমস্ত সম্মান হার মেনে যায়। এর চেয়ে বড় সম্মান আমি কখনও পাইনি। আর আমার মনে হয় না, আমি আর কখনও পাব। জয় বাংলা।’

21st     August,   2022
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা