বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য

সনাতন ধর্মে বার মাসে তের পার্বণ। এই বহুবিধ ধর্মানুষ্ঠানের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবতিথি তথা জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান অন্যতম। ধর্মানুষ্ঠানের এই বৈচিত্র্য ধারা সেই এক ঈশ্বরের লীলাবিলাস। অর্থাৎ বহুভাবে সেই এক ঈশ্বরকে জানার প্রক্রিয়া। একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্তি—অর্থাৎ সেই এক সদ্বস্তুকে গুণীজন বহুভাবে জানেন। কাজেই ঈশ্বরের একত্বকে কোনোভাবে খর্ব করা যায় না। ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, পরম দয়ালু ও অঘটন-ঘটন-পটীয়স। অর্থাৎ সবকিছুই ঈশ্বরগ্রাহ্য। মানুষের পক্ষে যা সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে তা অনায়াসসাধ্য এবং ইচ্ছাপ্রসূত। ঈশ্বরের সঙ্গে নৈকট্য স্থাপনে ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে পরম আত্মীয় জ্ঞানে সম্পর্ক এক সহজতর পন্থা সনাতন ধর্মে। এ হলো ভক্তি—প্রেম। যুগে যুগে ভগবান নররূপ ধারণ করে  ভক্তের কল্যাণে আবির্ভূত হন সকল বৈরিতা ও তমসা অপসারণ ও ভক্তিরসে আপ্লুত করতে। শাস্ত্রে আছে, ‘সাধকানাং হিতার্থায় ব্রহ্মণো রূপ কল্পনা’—সাধকের কল্যাণের জন্য তিনি রূপ ধারণ করে জগতে আসেন। এই ভাবনার সমর্থনে কবি নজরুল বলেছেন, ‘ তুমি বহুরূপী তুমি রূপহীন, তব লীলা হেরি অন্তবিহীন।’ ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নররূপে আবির্ভাব ওই একই উদ্দেশ্যে ঘটেছে। আবার ভাগবতে আছে—
‘অনুগ্রহায় ভূতানাং মানুষং দেহমাস্থিতঃ।
ভজতে তাদৃশীক্রীড়া যাঃ শ্রুত্বা তৎপরো ভবেৎ’।।
—অর্থাৎ ভক্তের প্রতি অনুগ্রহবশত মনুষ্য দেহ ধারণ করে মানুষের মত আচরণ করে মানবকুলকে আকৃষ্ট করেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
‘যদা সদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্‌।।
—যখন ধর্মের গ্লানি এবং অধর্মের প্রাদুর্ভাব ঘটে তখন ধর্ম রক্ষার্থে আমি নিজেকে সৃজন করি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম বা আবির্ভাব এ অবস্থার ফলশ্রুতি। এ জন্ম আত্মমায়া অবলম্বনে। কাজেই একে অপ্রাকৃত বলা হয়।
লক্ষণীয়, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবকালটি ছিল খুবই গ্লানিযুক্ত, ধর্মের জন্য অবমাননাকর; প্রজাপীড়নে মত্ত অত্যাচারী নৃপতিরা মুনি-ঋষিদের ধর্ম অনুশীলনে তখন বিঘ্ন সৃষ্টি করে মানব জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। ধরিত্রীমাতা আর এই পাপাচার সহ্য করতে না পেরে এর প্রতিবিধানকল্পে দ্বারস্থ হলেন ব্রহ্মসত্তায় সত্তাম্বিত সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার কাছে। ভগবান বিষ্ণু শ্রীকৃষ্ণ নামে অবতাররূপে মানবকল্যাণে আবির্ভূত হবেন জানতে পেরে ধরিত্রীমাতা আশ্বস্ত হলেন। এ শুভ মুহূর্তে চরিতার্থ করতে ভগবানের লীলাসহায়রূপে সকল দেব-দেবতা মথুরা-বৃন্দাবনে জন্মগ্রহণ করতে লাগলেন। সে সময় মথুরা নগরীতে যদুবংশীয় রাজা উগ্রসন রাজত্ব করতেন। তারই পুত্র কংস ছিলেন অতি বলবান ও খল প্রকৃতির। আবার মগধের পাপাসক্ত রাজা জরাসন্ধ অতি অত্যাচারী ছিলেন। উগ্রসনের এক ভ্রাতার নাম দেবক। দেবকের কন্যা দেবকী। ইনিই পরবর্তিকালে শ্রীকৃষ্ণের জননী। কংস দেবকীকে খুব স্নেহ করতেন এবং বিবাহযোগ্য হলে তাকে শূরের পুত্র বসুদেবের সঙ্গে বিবাহ দেন। বসুদেব ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, সমদৃষ্টিসম্পন্ন চরিত্রবান। বিবাহ হয় খুব জাঁকজমকভাবে। বিধাতার বিধান অলঙ্ঘনীয়। কংস নিজে রথের সারথি হয়ে ভগ্নি দেবকীকে শ্বশুরালয়ে নিয়ে যেতে যেতে দৈববাণী শুনতে পেলেন—‘আরে নির্বোধ! তুমি যাকে স্নেহভরে শ্বশুরালয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তারই অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমার হন্তা হবে।’ এ কথা শুনে দেবকীর প্রতি স্নেহ-মমতা বিসর্জন দিয়ে বসুদেবের সামনে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন। কিন্তু ধীরস্থির বসুদেব তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে অতিকষ্টে সাময়িকভাবে শান্ত করলেন। বসুদেব প্রতিশ্রুতি দিলেন, দেবকীর গর্ভের যত সন্তান হবে, তা তার হাতে তুলে দেবেন তিনি।
স্বামী অক্ষরানন্দের ‘মহাশক্তির বিচিত্র প্রকাশ’ থেকে 

15th     September,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
31st     May,   2021
30th     May,   2021