বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিদেশ
 

অন্তঃসত্ত্বায় আত্মহত্যার কথা
ভেবেছিলাম, বিস্ফোরক মেগান 

লন্ডন: ১৯৯৫ সাল। এক ব্রিটিশ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন যুবরানি ডায়ানা স্পেনসার। ২৬ বছর পরে মার্কিন টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে একইভাবে রাজপরিবারের অন্দরের কাহিনি তুলে ধরলেন তাঁরই ছোট পুত্রবধূ মেগান মার্কেল। অভিযোগ করলেন, রাজপরিবারেই তিনি বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। রবিবার ওপরা উইনফ্রেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, বাকিংহাম প্যালেসে পা রেখে তিনি এতটাই বর্ণবৈষম্যের শিকার হন যে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।
২০১৮ সালের ১৯ মে বিয়ে হয় মেগান-হ্যারির। পরের বছরই রাজপরিবারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান। তবে ছেলে আর্চির জন্মের আগে থেকেই তার গায়ের রং নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। কারণটা ছিল, মেগানের গায়ের রং। মেগানের কথায়, ‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওকে হয়তো নিরাপত্তা দেওয়া হবে না, হয়তো উপাধি দেওয়া হবে না ইত্যাদি নিয়ে কথাবার্তা হতো’ এই দুশ্চিন্তা মেগানকে গ্রাস করেছিল। মানসিক অবসাদে ভুগতেন তিনি। মেগানের কথায়, ‘কোনওভাবেই বেঁচে থাকতে চাইতাম না। সব সময় এমন চিন্তা মাথায় ঘুরত। আর সেটাই কঠিন বাস্তব।’ তবে পরিবারের কোনও সদস্য এ নিয়ে কথা বলতেন, সে ব্যাপারে মুখ খোলেননি তিনি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্প্রচারিত রাজ পরিবারের প্রাক্তন সদস্য মেগানের ওই সাক্ষাৎকারে বর্ণবিদ্বেষের কাঁটায় এভাবেই বিদ্ধ হল বৈভবে ভরা ব্রিটিশ রাজপরিবার।
রবিবার রাতে আমেরিকায় ওপরার সঙ্গে মেগান ও তাঁর স্বামী হ্যারির দু’ঘণ্টার সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়। সঙ্গেই সঙ্গেই হটকেকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে বহুবার তোলপাড় হয়েছে বিশ্ব। কিন্তু, রাজ পরিবারের গায়ে বর্ণবিদ্বেষের কলঙ্ক এই প্রথম। ওপরার মুখোমুখি হয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন প্রাক্তন ‘ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স’। তাঁর এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে সঙ্গ দিয়েছেন স্বামী প্রিন্স হ্যারি। মেগানের দাবি, রাজকুমার হ্যারি ও তাঁর প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তার গায়ের রং নিয়ে চলত আলোচনা। ফলে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন। রাজ পরিবারের কেউ এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি। হ্যারির কথায়, গত বছর রাজ পরিবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিষয়ে বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও, উনি ফোন ধরেননি। এমনকী, তাঁকে আর্থিক সাহায্যও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন চার্লস-পুত্র। সেজন্য মা ডায়ানার রেখে যাওয়া অর্থের উপর হ্যারিকে ভরসা করতে হয়েছে।
গত বছর মার্চেই রাজপরিবার ত্যাগ করেন ডিউক এবং ডাচেস অব সাসেক্স। পাকাপাকিভাবে উত্তর আমেরিকায় চলে যান হ্যারি-মেগান। প্রসঙ্গত, মেগানের বাবা শেতাঙ্গ হলেও মা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। আর মায়ের গায়ের রং পেয়েছেন মেগান।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। মেগানের কথাতে জায়ে জায়ে ঝগড়াও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এক সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরকে উদ্ধৃত করে মেগানের প্রতি ওপরার প্রশ্ন ছিল — তিনি নাকি বড় জা কেট মিডলটনকে কাঁদিয়ে ছিলেন? জবাবে ছোট জা বলেন, ‘উল্টোটা হল বাস্তব’। পরে মেগানের কাছে কেট ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন হ্যারি-পত্নী।  

9th     March,   2021
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
কিংবদন্তী গৌতম
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 
হরিপদ
 
10th     April,   2021