Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দলগুলির ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
ভবিষ্যতে সংকট ডেকে আনবে না তো?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। আমাদের রাজ্যে তৃণমূল, বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেস চতুর্মুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে চার শিবিরের প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহারগুলির তূলনামূলক পর্যালোচনা থেকে বেরিয়ে আসছে যে, প্রতিটি শিবিরই নাগরিকদের আরও বেশি করে রাষ্ট্রমুখী করতে চাইছে। বাম, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূল—এই চার শিবির থেকে প্রকাশিত ইস্তাহারে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা প্রকল্প প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেকেই মনে করেছিলেন রাষ্ট্রের ভূমিকা বুঝি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং বেসরকারিকরণের মাধ্যমে নাগরিকদের পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই চার রাজনৈতিক পক্ষের নির্বাচনী ইস্তাহারে অনেক বেশি রাষ্ট্র নির্ভরতা প্রকাশিত হয়েছে। কৃষক থেকে শ্রমিক, স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা—সর্বক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থা অপেক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরও সক্রিয় করবার প্রতিশ্রুতি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটারদের সামনে নানা প্রতিশ্রুতি হাজির করে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে যে প্রশ্নগুলি ঘুর-পাক খায় তা হল—কতজন ভোটার নির্বাচনী ইস্তাহার পড়ে ভোট দান করেন? নির্বাচনী ইস্তাহারগুলি ভোটারের কাছে আদতেও পৌঁছায় কি? যদিও বা পৌঁছায় ভোটাররা সেই ইস্তাহার পড়েন কি? নির্বাচনী ইস্তাহারের মাধ্যমে ভোট দাতাদের প্রভাবিত করা যায় কি? ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলি কতটুকু কার্যকর করেন?
বাস্তবে নির্বাচনী ইস্তাহার পর্যালোচনা করে আদতেও ভোটাররা ভোট দেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে দলের তরফ থেকে প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহার কর্মী সমর্থকদের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারের কাছে প্রচারিত হয়। দলের তরফে স্থানীয় স্তরের নেতাদের ভাষণে দলের ঘোষিত ইস্তাহারের বিষয়গুলি স্থান পায়। এছাড়া, আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও দলের ইস্তাহারের বিষয়বস্তু ভোটারদের কাছে পৌঁছায়। বেশিরভাগ দল পেশাদার সংস্থাগুলিকে দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে নির্বাচনী ইস্তাহার পুস্তিকা প্রকাশ করে থাকে। আজকাল ইস্তাহারের বিষয়বস্তুর ব্র্যান্ডিং-এর ওপর ইস্তাহারের গ্রহণযোগ্যতা বা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।
ইন্দিরা গান্ধীর ‘গরিবি হঠাও’ স্লোগান ১৯৭১-এর নির্বাচনে দলের জয়ের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল। আবার ১৯৮৯ সালে বিজেপি’র ইস্তাহারে রামমন্দির ইস্যুর প্রভাব ওই নির্বাচনে যথেষ্ট পড়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি’র ইস্তাহারে কালোটাকা উদ্ধারের বিষয়টি ভোটারদের যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল বলে মনে করা হয়। এবার বিজেপি’র ইস্তাহারকে ‘সংকল্প পত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সংকল্প পত্রে ৭৫টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা, গরিব কৃষকদের বার্ষিক ছয় হাজার টাকা প্রদান, ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের পেনশন প্রদান প্রকল্প যেমন রয়েছে, তেমনি আছে সংসদীয় ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়। জিএসটিকে সরল করা, রপ্তানি দ্বিগুণ করা, আগামী পাঁচ বছরে ৫০টি উৎকর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ৭৫টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল করা, উচ্চশিক্ষায় এক লক্ষ কোটি টাকা কৃষিক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা, বিনিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিজেপি’র একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভূমিকায় ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় চমক ‘ন্যায়’ প্রকল্পের ঘোষণা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা ৫ কোটি পরিবারের জন্য মাসে ছয় হাজার টাকা করে বছরে ৭২ হাজার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই ৫ কোটি পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার টাকা দিতে গেলে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার জোগান নিশ্চিত করতে হবে। এত বিপুল পরিমাণ টাকার জোগান কীভাবে হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী পক্ষ। অর্থনীতিবিদরা রাহুল গান্ধীর এই ন্যায় প্রকল্প নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন তুলছেন তার মধ্যে অন্যতম হল আমাদের দেশে পরিবার পিছু আয়ের কোনও তথ্য নেই। ফলে, কীসের ভিত্তিতে মাসে ৬ হাজার টাকা করে বছরে ন্যূনতম ৭২ হাজার টাকা কতজন পরিবারকে প্রদান করা হবে? সারা দেশে পারিবারিক স্তরে আয় নির্ধারণ করা সহজসাধ্য বিষয় নয়। উপরন্তু, স্থানীয় স্তরে উপযুক্ত তথ্য না থাকায় আয়ের শংসাপত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির জন্ম নিতে পারে। পাশাপাশি মানুষকে সক্ষম করবার পরিবর্তে আরও বেশি করে সরকারমুখী করে তুলতে পারে এই ন্যায় প্রকল্প। কংগ্রেস দল ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রে ৪ লক্ষ এবং রাজ্য স্তরে ২০ লক্ষ সরকারি পদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ৮ মাস ধরে নানান আলোচনার মাধ্যমে যে ইস্তাহার কংগ্রেসের তরফ থেকে তৈরি করা হয়েছে তাতে কৃষিঋণ মকুব থেকে স্বাস্থ্যের অধিকার প্রদান এবং শিক্ষায় জিডিপি’র ৬ শতাংশ বরাদ্দ করবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত কিছুই রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের তরফ থেকে যে ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রতিটি ছত্রে জনকল্যাণকর রাষ্ট্রও গঠনের উদ্যোগ প্রতিফলিত হচ্ছে। তৃণমূলের ইস্তাহারে বলা হয়েছে দিল্লিতে যে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে সেই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে ১০০ দিনের কাজকে ২০০ দিন করে ভাতা দ্বিগুণ করা। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা, শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপি ৬ শতাংশ ব্যয় নিশ্চিত করা, নীতি আয়োগের অবসান ঘটিয়ে যোজনা কমিশনকে ফিরিয়ে আনা, মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দেওয়া, প্রয়োজনে জিএসটি’র সংস্কার সাধন করা, নোটবন্দি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ইত্যাদি বিষয়। আবার বামেদের ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ভূমিকা যে অধিক গুরুত্ব পাবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রায় ৫০-৬০ দশকের কায়দায় বামেরা এবারও তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। ধনীদের উপর কর আরোপ করে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে বামেরা। ১০০ দিনের কাজের ঊর্ধ্বসীমা ২০০ দিন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বামেদের ইস্তাহারে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিতে পিছিয়ে পড়া জাতির সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছে বামেরা। কেন্দ্রে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকার গঠন তাদের লক্ষ্য। বামেরা তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসে ১৮ হাজার টাকা করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মতন যোজনা কমিশনকে ফিরিয়ে আনবার পক্ষে বামেরা। বামেদের ইস্তাহারে সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যূনতম খরচ বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ খরচ করবার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের ভূমিকার কথা ইস্তাহারে উঠে এসেছে।
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে বিজেপি’র জিরো টলারেন্স, সব পক্ষের সহমতে রামমন্দির নির্মাণ, সবরিমাল বিশ্বাস ও ধর্মীয় আস্থাকে সাংবিধানিক সুরক্ষা, সন্ত্রাসে মদত দেওয়া দেশ ও সংস্থাকে একঘরে করা, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি চালু করা, জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানে ৩৭০ ধারা বিলোপের মতন বিষয় স্থান পেলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বিষয়গুলি নিয়ে দলের ৫৫ পাতার ইস্তাহারে খুব কম জায়গা পেয়েছে। দুর্নীতি দমন নিয়ে নতুন কোনও পথ বিজেপি’র ইস্তাহারে যেমন স্থান পায়নি, তেমনি বহুত্ববাদী ভাবনা সংরক্ষণে দলের চিন্তা ভাবনায় স্পষ্ট কোনও রূপরেখা নেই। বিগত পাঁচ বছরে নোটবন্দি, জিএসটি এবং কৃষক অসন্তোষের মতো বিষয়গুলিকে প্রলেপ দেওয়ার জন্য নানা প্রকল্পের কথা ইস্তাহারে থাকলেও স্থায়ী কর্ম সংস্থান বিষয়ে দল কোনও নতুন দিশা দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচনী তহবিল থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থ বণ্টনের প্রতিশ্রুতি, নতুন চেহারায় জিএসটিকে আনা, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন প্রত্যাহার, কৃষিঋণ শোধ দিতে না পারলে ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ মামলা না করার মতন প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সমাজ জীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির কোনও পথ দেখাতে পারেনি কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে। সরকারের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং দুর্নীতিদমনের প্রশ্নে তৃণমূল এবং বামেদের নির্বাচনী ইস্তাহারেও স্পষ্ট কোনও রোড ম্যাপ নেই।
চার প্রতিপক্ষই তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও নাগরিকদের ক্ষমতায়নের সুনির্দিষ্ট কোনও ভাবনা ইস্তাহারে রাখতে পারেনি। বিগত এক দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, উন্নয়নের মাধ্যমে শাসকদল নাগরিকদের তাদের নিজস্ব ভোটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। উন্নয়নের মাধ্যমে গড়ে তুলতে চাইছে স্থায়ীভাবে ‘এক ধরনের ‘প্যাট্রন ক্লায়েন্ট’ সম্পর্ক। উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক ‘দাতা-গ্রহীতা’ পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। পাশাপাশি এই প্রশ্নটাও উঁকি মারছে অর্থনীতির ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্র যেভাবে অসংখ্য কর্মসূচিতে আবদ্ধ হচ্ছে তাতে আগামী দিনে কোনও বৃহৎ আর্থিক সংকট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না তো? জনপ্রিয় রাজনীতির বিপদ নিয়েও আমাদের সজাগ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বটে।
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
14th  April, 2019
আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম।
বিশদ

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে।
বিশদ

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

23rd  April, 2019
মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
একনজরে
 কলম্বো, ২৪ এপ্রিল (পিটিআই): শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পিছনে ছিল এক মহিলা সহ মোট ন’জন। তদন্তে নেমে এই তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। হামলাকারী ন’জনের মধ্যে আটজনকে ...

  সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটায় আলিপুরদুয়ার জেলার প্রথম স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ফালাকাটার টাউন ক্লাবের মাঠে এই স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হওয়ায় ফালাকাটা সহ জেলার ক্রীড়া মহলে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। ...

 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা মোটেই খারাপ নয়। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের সর্বশেষ হিসেব বলছে, দেশে যত বিদেশি পর্যটক পা রাখেন, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ষষ্ঠ স্থানে। এমনকী কেরল বা গোয়া— পর্যটন সংক্রান্ত আলোচনায় যে অঙ্গরাজ্যগুলির নাম আগে ...

সুব্রত ধর  বহরমপুর, বিএনএ: ভোট মেটার পরও মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের একাংশের ব্যস্ততা কাটেনি। বুধবার সকালে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী আবু তাহের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপথগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০: মার্কিন অভিনেতা আল পাচিনোর জন্ম
১৯৬৮: গায়ক ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের মৃত্যু
১৯৬৯: ফুটবলার আই এম বিজয়নের জন্ম
১৯৮৭: সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের জন্ম

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৮ টাকা ৭০.৬৭ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৭১ টাকা ৯১.৯৮ টাকা
ইউরো ৭৬.৮৪ টাকা ৭৯.৭৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,০৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৮৮৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ১৮/৫৫ দিবা ১২/৪৭। পূর্বাষাঢ়া ৩৮/৩১ রাত্রি ৮/৩৭। সূ উ ৫/১২/৪৮, অ ৫/৫৬/৪০, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪২ গতে ২/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ২/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে।
১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ২৩/২৪/২৫ দিবা ২/৩৫/৭। পূর্বাষাঢ়ানক্ষত্র ৪২/৫৩/২ রাত্রি ১০/২২/৩৪, সূ উ ৫/১৩/২১, অ ৫/৫৭/৫৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪০ গতে ২/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৪/২২/১৯ গতে ৫/৫৭/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৪৬/৪৫ গতে ৪/২২/১৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩৫/৩৭ গতে ১/০/৪ মধ্যে।
১৯ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
হোমওয়ার্ক করে আসেন না মোদিবাবু: মমতা 

02:05:00 PM

নরেন্দ্র মোদি কাজ করতে জানে না: মমতা

02:04:58 PM

বিজেপি থাকলে দেশে আগুন জ্বলবে: মমতা 

02:04:39 PM

বাংলায় রসোগোল্লা পাবে বিজেপি: মমতা 

02:03:00 PM

মোদিবাবুর ভিক্ষা চাই না: মমতা 

01:59:00 PM

মানে মানে সরে পড়ুন, কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ মমতার 

01:57:00 PM