Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দলগুলির ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
ভবিষ্যতে সংকট ডেকে আনবে না তো?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। আমাদের রাজ্যে তৃণমূল, বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেস চতুর্মুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে চার শিবিরের প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহারগুলির তূলনামূলক পর্যালোচনা থেকে বেরিয়ে আসছে যে, প্রতিটি শিবিরই নাগরিকদের আরও বেশি করে রাষ্ট্রমুখী করতে চাইছে। বাম, কংগ্রেস, বিজেপি এবং তৃণমূল—এই চার শিবির থেকে প্রকাশিত ইস্তাহারে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা প্রকল্প প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও বিশ্বায়নের প্রভাবে অনেকেই মনে করেছিলেন রাষ্ট্রের ভূমিকা বুঝি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং বেসরকারিকরণের মাধ্যমে নাগরিকদের পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই চার রাজনৈতিক পক্ষের নির্বাচনী ইস্তাহারে অনেক বেশি রাষ্ট্র নির্ভরতা প্রকাশিত হয়েছে। কৃষক থেকে শ্রমিক, স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা—সর্বক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থা অপেক্ষায় রাষ্ট্রের ভূমিকাকে আরও সক্রিয় করবার প্রতিশ্রুতি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটারদের সামনে নানা প্রতিশ্রুতি হাজির করে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে যে প্রশ্নগুলি ঘুর-পাক খায় তা হল—কতজন ভোটার নির্বাচনী ইস্তাহার পড়ে ভোট দান করেন? নির্বাচনী ইস্তাহারগুলি ভোটারের কাছে আদতেও পৌঁছায় কি? যদিও বা পৌঁছায় ভোটাররা সেই ইস্তাহার পড়েন কি? নির্বাচনী ইস্তাহারের মাধ্যমে ভোট দাতাদের প্রভাবিত করা যায় কি? ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলি কতটুকু কার্যকর করেন?
বাস্তবে নির্বাচনী ইস্তাহার পর্যালোচনা করে আদতেও ভোটাররা ভোট দেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে দলের তরফ থেকে প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহার কর্মী সমর্থকদের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারের কাছে প্রচারিত হয়। দলের তরফে স্থানীয় স্তরের নেতাদের ভাষণে দলের ঘোষিত ইস্তাহারের বিষয়গুলি স্থান পায়। এছাড়া, আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও দলের ইস্তাহারের বিষয়বস্তু ভোটারদের কাছে পৌঁছায়। বেশিরভাগ দল পেশাদার সংস্থাগুলিকে দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে নির্বাচনী ইস্তাহার পুস্তিকা প্রকাশ করে থাকে। আজকাল ইস্তাহারের বিষয়বস্তুর ব্র্যান্ডিং-এর ওপর ইস্তাহারের গ্রহণযোগ্যতা বা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।
ইন্দিরা গান্ধীর ‘গরিবি হঠাও’ স্লোগান ১৯৭১-এর নির্বাচনে দলের জয়ের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল। আবার ১৯৮৯ সালে বিজেপি’র ইস্তাহারে রামমন্দির ইস্যুর প্রভাব ওই নির্বাচনে যথেষ্ট পড়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি’র ইস্তাহারে কালোটাকা উদ্ধারের বিষয়টি ভোটারদের যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল বলে মনে করা হয়। এবার বিজেপি’র ইস্তাহারকে ‘সংকল্প পত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই সংকল্প পত্রে ৭৫টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা, গরিব কৃষকদের বার্ষিক ছয় হাজার টাকা প্রদান, ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের পেনশন প্রদান প্রকল্প যেমন রয়েছে, তেমনি আছে সংসদীয় ব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়। জিএসটিকে সরল করা, রপ্তানি দ্বিগুণ করা, আগামী পাঁচ বছরে ৫০টি উৎকর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ৭৫টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল করা, উচ্চশিক্ষায় এক লক্ষ কোটি টাকা কৃষিক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা, বিনিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিজেপি’র একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভূমিকায় ব্যাপক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি’র প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় চমক ‘ন্যায়’ প্রকল্পের ঘোষণা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা ৫ কোটি পরিবারের জন্য মাসে ছয় হাজার টাকা করে বছরে ৭২ হাজার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই ৫ কোটি পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার টাকা দিতে গেলে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার জোগান নিশ্চিত করতে হবে। এত বিপুল পরিমাণ টাকার জোগান কীভাবে হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী পক্ষ। অর্থনীতিবিদরা রাহুল গান্ধীর এই ন্যায় প্রকল্প নিয়ে যে সমস্ত প্রশ্ন তুলছেন তার মধ্যে অন্যতম হল আমাদের দেশে পরিবার পিছু আয়ের কোনও তথ্য নেই। ফলে, কীসের ভিত্তিতে মাসে ৬ হাজার টাকা করে বছরে ন্যূনতম ৭২ হাজার টাকা কতজন পরিবারকে প্রদান করা হবে? সারা দেশে পারিবারিক স্তরে আয় নির্ধারণ করা সহজসাধ্য বিষয় নয়। উপরন্তু, স্থানীয় স্তরে উপযুক্ত তথ্য না থাকায় আয়ের শংসাপত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দুর্নীতির জন্ম নিতে পারে। পাশাপাশি মানুষকে সক্ষম করবার পরিবর্তে আরও বেশি করে সরকারমুখী করে তুলতে পারে এই ন্যায় প্রকল্প। কংগ্রেস দল ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রে ৪ লক্ষ এবং রাজ্য স্তরে ২০ লক্ষ সরকারি পদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ৮ মাস ধরে নানান আলোচনার মাধ্যমে যে ইস্তাহার কংগ্রেসের তরফ থেকে তৈরি করা হয়েছে তাতে কৃষিঋণ মকুব থেকে স্বাস্থ্যের অধিকার প্রদান এবং শিক্ষায় জিডিপি’র ৬ শতাংশ বরাদ্দ করবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত কিছুই রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করছে। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের তরফ থেকে যে ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রতিটি ছত্রে জনকল্যাণকর রাষ্ট্রও গঠনের উদ্যোগ প্রতিফলিত হচ্ছে। তৃণমূলের ইস্তাহারে বলা হয়েছে দিল্লিতে যে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার গঠিত হবে সেই সরকারের মূল লক্ষ্য হবে ১০০ দিনের কাজকে ২০০ দিন করে ভাতা দ্বিগুণ করা। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা, শিক্ষাক্ষেত্রে জিডিপি ৬ শতাংশ ব্যয় নিশ্চিত করা, নীতি আয়োগের অবসান ঘটিয়ে যোজনা কমিশনকে ফিরিয়ে আনা, মহিলাদের ক্ষমতায়নে জোর দেওয়া, প্রয়োজনে জিএসটি’র সংস্কার সাধন করা, নোটবন্দি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা ইত্যাদি বিষয়। আবার বামেদের ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ভূমিকা যে অধিক গুরুত্ব পাবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রায় ৫০-৬০ দশকের কায়দায় বামেরা এবারও তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। ধনীদের উপর কর আরোপ করে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে বামেরা। ১০০ দিনের কাজের ঊর্ধ্বসীমা ২০০ দিন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বামেদের ইস্তাহারে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলিতে পিছিয়ে পড়া জাতির সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছে বামেরা। কেন্দ্রে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকার গঠন তাদের লক্ষ্য। বামেরা তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি মাসে ১৮ হাজার টাকা করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মতন যোজনা কমিশনকে ফিরিয়ে আনবার পক্ষে বামেরা। বামেদের ইস্তাহারে সামাজিক ক্ষেত্রে ন্যূনতম খরচ বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ খরচ করবার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের ভূমিকার কথা ইস্তাহারে উঠে এসেছে।
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে বিজেপি’র জিরো টলারেন্স, সব পক্ষের সহমতে রামমন্দির নির্মাণ, সবরিমাল বিশ্বাস ও ধর্মীয় আস্থাকে সাংবিধানিক সুরক্ষা, সন্ত্রাসে মদত দেওয়া দেশ ও সংস্থাকে একঘরে করা, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি চালু করা, জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানে ৩৭০ ধারা বিলোপের মতন বিষয় স্থান পেলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক বিষয়গুলি নিয়ে দলের ৫৫ পাতার ইস্তাহারে খুব কম জায়গা পেয়েছে। দুর্নীতি দমন নিয়ে নতুন কোনও পথ বিজেপি’র ইস্তাহারে যেমন স্থান পায়নি, তেমনি বহুত্ববাদী ভাবনা সংরক্ষণে দলের চিন্তা ভাবনায় স্পষ্ট কোনও রূপরেখা নেই। বিগত পাঁচ বছরে নোটবন্দি, জিএসটি এবং কৃষক অসন্তোষের মতো বিষয়গুলিকে প্রলেপ দেওয়ার জন্য নানা প্রকল্পের কথা ইস্তাহারে থাকলেও স্থায়ী কর্ম সংস্থান বিষয়ে দল কোনও নতুন দিশা দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচনী তহবিল থেকে রাজনৈতিক দলগুলিকে অর্থ বণ্টনের প্রতিশ্রুতি, নতুন চেহারায় জিএসটিকে আনা, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন প্রত্যাহার, কৃষিঋণ শোধ দিতে না পারলে ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ মামলা না করার মতন প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও সমাজ জীবন থেকে দুর্নীতি মুক্তির কোনও পথ দেখাতে পারেনি কংগ্রেস তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে। সরকারের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং দুর্নীতিদমনের প্রশ্নে তৃণমূল এবং বামেদের নির্বাচনী ইস্তাহারেও স্পষ্ট কোনও রোড ম্যাপ নেই।
চার প্রতিপক্ষই তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও নাগরিকদের ক্ষমতায়নের সুনির্দিষ্ট কোনও ভাবনা ইস্তাহারে রাখতে পারেনি। বিগত এক দশকের অভিজ্ঞতা বলছে, উন্নয়নের মাধ্যমে শাসকদল নাগরিকদের তাদের নিজস্ব ভোটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। উন্নয়নের মাধ্যমে গড়ে তুলতে চাইছে স্থায়ীভাবে ‘এক ধরনের ‘প্যাট্রন ক্লায়েন্ট’ সম্পর্ক। উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক ‘দাতা-গ্রহীতা’ পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। পাশাপাশি এই প্রশ্নটাও উঁকি মারছে অর্থনীতির ব্যাকরণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্র যেভাবে অসংখ্য কর্মসূচিতে আবদ্ধ হচ্ছে তাতে আগামী দিনে কোনও বৃহৎ আর্থিক সংকট আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে না তো? জনপ্রিয় রাজনীতির বিপদ নিয়েও আমাদের সজাগ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বটে।
লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
14th  April, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
একনজরে
  কটক, ১৯ জুলাই: একুশতম কমনওয়েলথ টেবল টেনিস প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা বিভাগে সোনা জিতল ভারতীয় টিটি দল। শুক্রবার কটকে এই প্রতিযোগিতার পুরুষ বিভাগের ফাইনালে ...

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলিতে দুর্নীতি ঠেকাতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রিপল বিলি করছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের বিডিও। পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে খাবার বিলিতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।  ...

কাবুল, ১৯ জুলাই (এএফপি): কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এক বিস্ফোরণে কমপক্ষে আটজন প্রাণ হারালেন। ঘটনায় আরও বহু মানুষ জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। সরকারি ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: গ্রামের একমাত্র জল নিকাশির জায়গায় রাইসমিল গড়ে তোলার প্রতিবাদে শুক্রবার রামপুরহাট-১ ব্লকের খরুণ গ্রাম পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানালেন তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। এই ব্লকের চাকপাড়া, মালসা ও ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফিবছর বর্ষার সময় আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় থাকি।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

পারিবারিক ঝামেলার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি। প্রেম-প্রণয়ে শুভ। অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষে মানসিক চাপ বৃদ্ধি।প্রতিকার: আজ দই খেয়ে শুভ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৯২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,৪৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪১,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ১০/১৮ দিবা ৯/১৪। শতভিষা অহোরাত্র। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৮/২৮ গতে ১০/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪ গতে ১/৩১ মধ্যে পুনঃ ২/১৪ গতে ৩/৪০ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৪০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৬ গতে উদয়াবধি।
৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, তৃতীয়া ৪/২৪/৪ দিবা ৬/৫১/২। শতভিষানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/৫/২৪, অ ৬/২১/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/২৫ গতে ১০/৩৭ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৬ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ১/২৩/১৫ গতে ৩/২/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৪/৫৮ মধ্যে ও ৪/৪২/২৩ গতে ৬/২১/৫৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/২৩ মধ্যে ও ৩/৪৪/৫৮ গতে ৫/৫/৪১ মধ্যে। 
১৬ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

03:09:36 PM

বিকাশ ভবনে অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী 

03:05:00 PM

ওঃ ইন্ডিজ সফরে খেলবেন না, বোর্ডকে জানালেন ধোনি 
অবসরের জল্পনার মাঝেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলতে পারবেন না বলে ...বিশদ

01:48:08 PM

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হচ্ছেন জগদীপ ধানকর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

01:27:00 PM

পুলিস হেফাজত থেকে ফেরার ২ বন্দি 
পুলিসকে ধাক্কা দিয়ে পালাল দুই বিচারাধীন বন্দি। এদিন সকালে ঘটনাটি ...বিশদ

12:52:42 PM