টানা দু’দিন লাগাতার বৃষ্টির পর নৌকায় এসেছিল রথ

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রার মূর্তি এসেছিল বাংলাদেশ থেকে আর রথ? রথ এসেছিল নৌকায় চড়ে মায়াপুরের বামুনপুকুর থেকে। এসেছিল নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরের বালক সাধুর আশ্রমে। ঐতিহ্য বজায় রেখে এই রথে চড়েই বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের রাজপথে আজও বের হন জগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রাদেবী।  নবদ্বীপ প্রাচীনমায়াপুর সিদ্ধ মহাত্মা বালক সাধু মহারাজের আশ্রমের এই প্রাচীন রথ ঘিরে আজও উন্মাদনায় মেতে ওঠেন নবদ্বীপবাসী। আনুমানিক ১০০ বছরেরও প্রাচীন এই বালক সাধুর রথযাত্রা। এমনটাই দাবি কর্তৃপক্ষের। বছরভর এই জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেন অসংখ্য মানুষ। আর রথের সময় এই রথের রশি টানতে রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষায় থাকেন অসংখ্য পুণ্যার্থী। রথকে কেন্দ্র করে প্রাচীনমায়াপুর এলাকায় রাস্তাজুড়ে বসে মেলা। আজ ৭ জুলাই রবিবার জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব। এদিন প্রাচীনমায়াপুর জগন্নাথদেবের মন্দির থেকে রথ বের করে রামকৃষ্ণ মঠ পর্যন্ত আনা হবে। এরপর মাসির বাড়ি গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরে রথটি রাখা হয়। সেখানে চলে বিশেষ পূজার্চনা। উল্টোরথে জগন্নাথদেব আবার নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বড়বাঁসালিয়া গ্রাম থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীকে সঙ্গে নিয়ে নবদ্বীপে এসেছিলেন যাদবচন্দ্র রায়। বালক বয়স থেকে ভগবৎ প্রেমে মগ্ন থাকতেন বলেই লোকে তাঁকে বালক-সাধু নামে ডাকতেন। মাত্র ছ’বছর বয়সে বড়বাঁসালিয়ার বাড়িতে খেলতে খেলতে কাঁঠাল গাছের নীচে পেয়েছিলেন জগন্নাথদেবের একটি চিত্রপট। তখন থেকেই এই চিত্রপটটি বুকে নিয়েই জগন্নাথদেবের ধ্যানে মগ্ন হয়ে থাকতেন। পরবর্তী কালে বাংলাদেশে জগন্নাথদেব, বলরাম এবং সুভদ্রাদেবীর মূর্তি তৈরি করে পূজার্চনা শুরু করেন তিনি। সেই সময় দেশ বিভাজনের পরিকল্পনা চলছিল। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে একে একে এদেশে চলে আসছিলেন। বালক সাধুও ভেবে পাচ্ছিলেন না তিনি কি করবেন। এরই মধ্যে জগন্নাথদেব, বালক সাধুকে স্বপ্নাদেশে বলেন বাংলাদেশে একটি নতুন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর মূর্তি নির্মাণ করতে। নতুন সেই মূর্তি বাংলাদেশে রেখে পুরনো মূর্তিগুলি সঙ্গে নিয়ে চৈতন্য ভূমিতে চলে এসে সেবা পুজো চালাতেন। বালক সাধু বাংলাদেশ থেকে আলাদা আলাদা তিনটি টিনের বাক্স করে মূর্তিগুলি আনেন। সেই সময় নিরাপত্তার খুবই কড়াকড়ি। অথচ তিনটি আলাদা আলাদা টিনের বাক্সে কী আছে বাংলাদেশ থেকে তা নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা কোনও প্রশ্নই করলেন না। ঈশ্বরের এই লীলা আজও এখানকার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। 
বালক সাধু এদেশে এসে ওই তিনটি মূর্তি নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরের কাছে জগন্নাথদেবের মন্দিরে স্থাপন করেন। কিন্তু, রথ না থাকায় বালক সাধু যাদবচন্দ্র বিষণ্ণ হয়ে পড়েন। আরাধ্য দেবতার কাছে অশ্রুসিক্ত নয়নে আকুতি জানাতে থাকেন। সেই সময় জনৈক এক ভক্ত তাঁর কাছে এসে বলেন, একটি রথের সন্ধান আছে বামনপুকুরে। ইচ্ছা থাকলে তিনি সেই রথ এনে অনুষ্ঠান করতে পারেন। এরপরই নৌকা করে জলপথে আনা হয় সেই রথ। সেই সময় নদীতে জল কম থাকায় রথ কীভাবে আনবেন প্রভুর কাছে আকুতি মিনতি জানাতে থাকেন। শোনা যায় এরপর দু’দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হয়। নদীতে জল বেড়ে যায়।  তখন দুটি নৌকা এক সঙ্গে বেঁধে নৌকা করে রথ আনা হয়েছিল। এরপর থেকেই চৈতন্যভূমিতে বিখ্যাত বালক সাধুর রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়।
জগন্নাথবাড়ি ট্রাস্টিবোর্ডের সম্পাদক গৌরগোপাল সাহা বলেন, এই রথ আমরা ঐতিহ্য মেনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করি। এই মন্দিরে সারাবছর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাদেবীর নিত্যপুজো হয়।
নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দিরের অধ্যক্ষ অদ্বৈতদাস বাবাজি মহারাজ বলেন, এখানে ন’দিন সপরিবারে থাকবেন জগন্নাথদেব। উল্টো রথের দিন ফিরে যাবেন। দিনে পাঁচবার ভোগ দেওয়া হয়।
14d ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা