এক বালক চাকায় পিষ্ট হওয়ায় পারিবারিক রথ বর্তমানে সর্বসাধারণের
কাজল কর্মকার, ঘাটাল

ঘাটাল মহকুমার প্রায় ২৫টি রথের মধ্যে দাসপুর-২ ব্লকের খানজাপুরের রথটি অন্যতম প্রাচীন। কমবেশি সবাই জানেন, অভিভক্ত মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল, নাড়াজোল এবং খানজাপুরের রথ প্রাচীনত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ১৮১০ সালের প্রাচীন রথ প্রতিষ্ঠা নামক একটি পুঁথিতে খানজাপুরের রথ প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই পুঁথি থেকে জানা যায়, খানজানপুর এলাকায় সব চেয়ে প্রাচীন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল ‘ন্যায় ভূষণ চতুষ্পাঠী’। ওই চুতুষ্পাঠীর প্রাণপুরুষ প্যালারাম ন্যায়ভূষণ ১৭৪১ সালে খানজাপুরে প্রথম রথ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে সেই রথ ছোট ছিল। ১৮২০ সালে সেই রথের আকার ও কারুকার্য বৃদ্ধি করে নয় চূড়া করা হয়েছে। বর্তমানে রথটি ৩৫ ফুটেরও বেশি উঁচু। রথটির রথের হংস-পাটার(কাঠের তক্তা) কাজটি সবচাইতে দর্শনীয়। কাঠের কারুকার্য এখনও বিনষ্ট হয়নি। বর্তমানে রথের বয়স ২৮৩ বছর। নাড়াজোলের রথের বয়স ২০৫ বছর।
ন্যায়ভূষণ পরিবারের এক সদস্য তথা ঘাটাল মহকুমার প্রাবন্ধিক দেবাশিস ভট্টাচার্যের কথায়, ১৯৫৩ সালে রথ টানার সময় পয়সা কুড়োতে গিয়ে রথের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে যায় ১০ বছরের এক বালক। সেই ঘটনার পর থেকে ন্যায়ভূষণ পরিবারের সদস্যরা রথের সব দায়িত্ব দেশবাসীর হাতে ছেড়ে দেন। 
ন্যায়ভূষণ পরিবারের ওই সদস্যের সংযোজন, রথের দায়িত্ব দেশবাসীর কাছে গেলেও রথের নিয়মকানুন বদলায়নি। উল্টোরথ পর্যন্ত ন’দিন ধরে অন্নভোগ উৎসব হয়ে থাকে। প্রতিদিন সেখানে কয়েক মানুষ প্রসাদ গ্রহণ করেন। গ্রামের ন’টি পরিবার ভোগ দানের খরচ বহন করেন।
রথ নিয়ে নানা লোককথাও রয়েছে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জানা গেল, ১৯ শতকের প্রথমের দিকে নিশ্চিত স্বর্গলাভের ইচ্ছেয় এক বৃদ্ধ রথের চাকায় ঝাঁপিয়ে প্রাণ বিসর্জন দেন। ওই রথের রশি টানার ফলে বহু মানুষ দূরারোগ্য ব্যধি থেকেও মুক্তি পেয়েছেন বলে অনেকেরই দাবি।
রথটি ঘাটাল-রানিচক রাস্তার পাশেই স্কুল মোড়ে সারা বছর থাকে।   কমিটির দুই কর্মকর্তা শ্রীরাম মণ্ডল ও কালীপদ সী বলেন, রথযাত্রার দিনে রথটিকে রথচালা থেকে ২০০ মিটার রাস্তা টেনে নিয়ে গিয়ে খানজাপুর ইউনিয়ন স্কুল চত্বর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। উল্টো রথে ফের ওখান থেকে রথচালা পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। রথ উপলক্ষে একটি মেলা বসে, যা উল্টোরথ পর্যন্ত চলে।
নাড়াজোলের রথটি রামনবমীতে হয়। তবে দাসপুর-১ ব্লকের সামন্ত পরিবারের রথটিকে নিয়েও ওই ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের উদ্দীপনা রয়েছে। তিওরবেড়িয়ার ওই রথটির মূল আকর্ষণ রথটি পিতল দিয়ে তৈরি। সামন্ত পরিবারের সদস্য সুমন সামন্ত বলেন, ৮০ মন পিতল দিয়ে ২০ ফুট উঁচু ওই রথটি তৈরি করা হয়েছে। ত্রৈলক্য সামন্ত ও রমানাথ সামন্ত জমিদার ছিলেন। ১৯২৪ সালে তাঁরাই তাঁদের আমল থেকে থেকে ‘মদন-গোপালের’ রথযাত্রা উৎসব শুরু করেছিলেন। সেই থেকেই চলে আসছে। প্রতিবছর রথের দিন সকালে পুজো করে রথ বের করে দেওয়া হয়। তিওরবেড়িয়া হাইস্কুলের মাঠে বিকেলে রথকে পাঁচবার ঘুরিয়ে রথচালায় তুলে দেওয়া হয়। উল্টো রথের দিন একই নিয়মে রথ বের করা ও তোলা হয়। ওই রথকে ঘিরেও আটদিনের একটি মেলাও বসে।  
২০১৭ সাল থেকে দাসপুর-২ ব্লকের সোনাখালিতে নতুন রথ চালু হয়েছে। এটিও পিতলের একটি সুদৃশ্য রথ। দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইঞা বলেন, ওই নতুন রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে ওই ব্লকের প্রায় ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের এখন থেকেই উৎসবমুখী রয়েছেন।   
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় কোনও রথযাত্রা উৎসব হতো না। তাই সোনাখালি, শয়লা, তাজপুর, কলাইকুণ্ডা, রানা, গোছাতি, চককিশোর-সহ ১০-১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল একটি রথযাত্রার উৎসব করার। ‘সোনাখালি নিতাই-গৌর নামহট্টের’ উদ্যোগেই এবারও ওই  রথে কয়েক হাজার মানুষ মাতছেন।
ঘাটাল শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কুশপাতার রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরে উদ্যোগ এবার বিশেষভাবে রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে। মন্দির থেকে রথটি ঘাটাল বিদ্যাসাগর স্কুলমাঠ পর্যন্ত যাবে। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে ওই দিন নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।
বিগত বেশ কয়েক দশকের মতো এবছরও ঘাটাল শহরের বাজারবুড়ি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। • নিজস্ব চিত্র
 
14d ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা