সুদূর ইংল্যান্ড থেকে আনা হয়েছিল হেতমপুরের রাজবাড়ির অপূর্ব রথ
সৌম্যদীপ ঘোষ, হেতমপুর

হেতমপুরের রাজবাড়ির রথ আনা হয়েছিল সুদূর ইংল্যান্ড থেকে। এক সময় সেই রথ টানা হতো ঘোড়া দিয়ে। বহু দূর-দূরান্ত থেকে রাজবাড়ির রথ দেখতে ভিড় জমাতেন সাধারণ মানুষ। তারপর অবশ্য ২০০৭ সাল থেকে সেই রথের দায়িত্ব নেয় গৌরীয় মঠ। তবে শতাব্দী প্রাচীন রথ দেখতে এখনও মানুষের একই রকম আগ্রহ দেখা যায়। গৌরাঙ্গ মঠের রথ হলেও এখনও হেতমপুরের রাজবাড়ির রথ নামেই বেশ জনপ্রিয় এটি।
জানা যায়, দুবরাজপুর ব্লকের হেতমপুর রাজবাড়ির রথ শতাব্দী প্রাচীন। রাজবাড়ির রথ প্রতিবছর নিয়ম মেনে রাস্তায় বের হতো। মহারাজা রামরঞ্জন চক্রবর্তী গৌরাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই মন্দির থেকেই পরিক্রমা বের হতো রাজ পরিবারের রথ। এই রথ সুদূর ইংল্যান্ড থেকে তখন নিয়ে আসা হয়েছিল। ইংল্যান্ডের নামী স্টুয়ার্ট কোম্পানি এই রথটি পিতল দিয়ে বানিয়েছিল। এত বছর পর এখনও রথের গায়ে সেই কোম্পানির নাম রয়েছে। ওই রথটির চাকায় যেমন সকার লাগানো রয়েছে, তেমনই স্বয়ংক্রিয় ব্রেক কষার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রভু জগন্নাথকে চাপিয়ে রথটি ঘোড়ায় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হতো। রাজবাড়ির সেই রথ টানা একেবারে রাজকীয় ঢংয়েই ছিল। রথ উৎসব উপলক্ষ্যে যাত্রা, নাটক, কবিগান ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসর বসত। রাজবাড়ির রথ টানা দেখার জন্য জেলার নানা প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসতেন রথ দেখতে। ওইদিন রাজবাড়ির দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে তা সবই অতীত! রাজপাঠও নেই আর সেই জাঁকজমকপূর্ণ রথের উৎসবও নেই। জানা যায়, হেতমপুর রাজ পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে ২০০৭ সালে রাজ পরিবারের সদস্য মাধবীরঞ্জন চক্রবর্তী গৌরাঙ্গ মঠের হাতে রথের দায়িত্ব তুলে দেন। তারপর থেকেই গৌরাঙ্গ মঠ রথটিকে রক্ষণাবেক্ষণ করা থেকে শুরু করে রথযাত্রা উৎসব, সবই করে আসছে। যদিও জায়গার অভাবে রথটি সারাবছরই রাজবাড়িতে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা থাকে। রথ উপলক্ষ্যে নিয়ম মেনে সেটি রাজবাড়ি থেকে নিয়ে এসে পরিষ্কার করা হয়েছে। রথ উপলক্ষ্যে একদিন আগে থেকেই গ্রাম্য মেলা বসতেও শুরু করেছে। বাদ্যযন্ত্র সহকারে গৌরাঙ্গ মন্দির থেকে রথ বের হয়ে হেতমপুর গ্রাম পরিক্রমা করে রাধাবল্লভ মন্দির যাবে রাজবাড়ির রথ। 
হেতমপুর গৌরাঙ্গ মঠের মঠাধ্যক্ষ ভক্তি বারিদী ত্রিদণ্ডী মহারাজ বলেন, ২০০৭ সালে আমার হাতেই রথের দায়িত্ব এসে পড়ে। তারপর থেকে গৌরীয় নিয়ম মেনে রথ পরিক্রমা করে এলাকায়। কেউ এই রীতিনীতি নিয়ে আপত্তি তোলেননি। রাজ পরিবার নিঃশর্তে রথটি আমাদের দায়িত্ব তুলে দেয়। এদিন রথটিকে বিশেষ সজ্জাতে সাজিয়ে ভগবানদের চাপিয়ে মানুষজন টেনে নিয়ে যাবেন। এরপর গ্রাম পরিক্রমা করে রথ রাধাবল্লভ মন্দির পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। বহু মানুষ এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকেন সারাবছর। • নিজস্ব চিত্র
14d ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা