রথযাত্রায় তারাপীঠে ব্যতিক্রমী রথে অধিষ্ঠান করবেন মা তারা
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট

আজ রবিবার রথযাত্রা। দেশজুড়ে রথযাত্রা উৎসব থাকলেও তারাপীঠে ব্যতিক্রমী রথের দড়িতে টান দিতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমিয়েছেন তারাপীঠে। সাধারণত জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রাকে রথে বসিয়ে ভারতবর্ষে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারামাই জগন্নাথের প্রতিভূরূপে রথে আরোহণ করেন। একাধারে তিনি কালী, অন্যদিকে তিনিই কৃষ্ণ। তারই সাক্ষাৎ পরিচয় এই রথ উৎসব। সোজা রথ, উল্টোরথ দুই পর্যায়ের রথেই মা তারা আরোহিত হন। আজ বিকেলে চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনে সেই রথ বের হবে। মন্দির কমিটির আশা, এমনিতেই রবিবার ছুটির দিনে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে তারাপীঠে। তার উপরে এদিনই রথযাত্রা হওয়ায় ভক্তের সমাগম কয়েকগুণ বাড়বে।  
তারাপীঠের ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, আনুমনিক ১৭৮০ সালে নাটোরের রানি ভবানীর দত্তক পুত্র রাজা রামকৃষ্ণ তারাপীঠে রথের প্রচলন করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার আশালতা সাধুখাঁ নামে এক ভক্ত রথ ঘর নির্মাণ করেন। যার উদ্ধোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়। সেই সময় কাঠের তৈরি একটি রথে তারা মাকে বসিয়ে গোটা চণ্ডীপুর গ্রাম (বর্তমানে তারাপীঠ নামে পরিচিত) প্রদক্ষিণ করানো হতো। সেই সময় রথের দড়িতে টান দিতে স্থানীয় মানুষ ছাড়াও আশেপাশের বাসিন্দারা ভিড় জমাতেন। হরি সংকীর্তন, বিভিন্ন রকম বাজনা ও জয় তারা ধ্বনি সহযোগে তারা মাকে রথে চাপিয়ে গ্রাম ঘোরানো হতো। বসত মেলা। তবে সময় যত গড়িয়েছে তারা মায়ের রথের মাহাত্ম্য ততই প্রসিদ্ধ লাভ করেছে। বর্তমানে রথের দড়িতে টান দিতে রাজ্যবাসী ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের মানুষ ভিড় জমান। 
এক পর্যটক অরুণ যাদব বলেন, অন্যান্য সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাকে দর্শন করে পুজো নিবেদন করি। বছরের এই একটি মাত্র দিন মা তারাই তাঁর ভক্তদের দর্শন দিতে বাইরে আসেন। তাই মায়ের পূর্ণাঙ্গ দর্শন ও দেবীর রথের দড়িতে টান দিতে সপরিবারে সিদ্ধপীঠে চলে এসেছি। হোটেল ব্যবসায়ী শুভময় চট্টোপাধ্যায় বলেন, রথযাত্রার আগে থেকেই যাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন। অনেকে অনলাইন বা অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে হোটেল বুক করেছেন। রবিবার হওয়ায় পর্যটকেদের চাপ অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি। তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে কাঠের রথের বদলে পিতলের রথ তৈরি করা হয়েছে। সেই রথে তারা মাকে রাজবেশে সাজিয়ে নির্দিষ্ট আসনে বসানো হবে। বর্তমানে তারাপীঠে ডবল লেনের রাস্তা হয়েছে। ফলে মা তারার রথ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হবে না। এক লেন দিয়ে দেবীর রথ যাবে। অন্য লেনে দাঁড়িয়ে তা দর্শন করবেন ভক্তরা। বছরের এই দিনটিতে মা সকলকে দেখা দিতে মূল মন্দির থেকে বের হন। তারাময়বাবু বলেন, বিকেল ৩টের সময় মাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে নিয়ে এসে রথে চাপানো হবে। রথের উপরে মাকে চিঁড়ে, বাতাসা ও প্যাড়া দিয়ে পুজো নিবেদন করা হবে। পরে সেই প্রসাদ ভক্তদের উদ্দেশে ছুড়ে দেওয়া হবে। গোটা তারাপীঠ প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ মা ফের মূল মন্দিরে ফিরে আসবেন। এরপরই বিশেষ পুজো ও সন্ধ্যারতি হবে। রাতে লুচি, সুজি ও পাঁচরকম ভাজা দিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। তিনি বলেন, সারা দেশের মধ্যে একমাত্র তারাপীঠ ব্যতিক্রম। এখানে তারামাকে অভেদ কল্পনাজ্ঞানে পুজো নিবেদন করা হয়। তাই জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রা নয়। বহু যুগ ধরে এখানে তারা মাকে রথে বসিয়ে প্রদক্ষিণ করানো হয়। তবে অন্যান্য বছর বহু সেবাইত রথে চেপে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে মায়ের দর্শন পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এবার বৈঠকে ঠিক হয়েছে, শুধুমাত্র পালাদার সেবাইত ও কয়েকজন ছাড়া রথে কেউ চাপতে পারবেন না। মন্দিরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও বেশি সংখ্যায় পুলিস থাকবে বলে জানিয়েছেন এসডিপিও গোবিন্দ সিকদার। তিনি বলেন, রথযাত্রা চলাকালীন তারাপীঠের রাস্তায় যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে নো এন্ট্রি থাকবে। অন্যদিকে টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মায়ের রথের আগে আগে জল ছিটিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হবে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে রথাযাত্রার রুটে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে আর কয়েকঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই জয় তারা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠতে চলছে বামাখ্যাপার সাধনাস্থল।
14d ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা