গল্পের পাতা

গুপ্ত রাজধানী রহস্যময় লৌহস্তম্ভ
সমৃদ্ধ দত্ত

একটি লৌহস্তম্ভ কতটা পথ অতিক্রম করেছে? একটি লৌহস্তম্ভ কীভাবে একটি শহরের জন্মবৃত্তান্তকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? একটি লৌহস্তম্ভ মরচে লেগে কেন পুরনো হয় না? একটি লৌহস্তম্ভ কবে প্রথম প্রোথিত হল? কোথায় তার জন্মস্থান? সেখান থেকে এতটা পথ কীভাবে এল? কে এনেছে? কেন এনেছে? একটি লৌহস্তম্ভ ভারতবর্ষ নামক এক চমকপ্রদ রাষ্ট্রের ইতিহাসে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এবং সর্বোপরি, একটি লৌহস্তম্ভ একাই এতটা রহস্যময় হল কেন?
দিল্লির কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে থাকা এই আশ্চর্য লৌহস্তম্ভ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে যত মতান্তর, যত জল্পনা এবং যত তর্কবিতর্ক আজও বিদ্যমান, যা সম্ভবত হরপ্পা ও আর্য সভ্যতার সম্পর্ক নিয়েও হয় না। এই বিখ্যাত আয়রন পিলারের গাত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে বিভিন্ন নাম, স্থান এবং সময়কালের সংকেত। যুগ যুগ ধরে। সবথেকে প্রাচীন যে লিপি, সেখান থেকে উদ্ধার হয় একটি নাম।  চন্দ্র। চন্দ্র কি কোনও রাজার নাম? কে তিনি? দীর্ঘ চাপানউতোর আজও চললেও সবথেকে গ্রহণযোগ্য তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয় চন্দ্র নামের মালিকের নাম দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত। কেন? কারণ যে আকার ও হরফের ধাঁচ এই লিপিতে দেখা যায়, সেটি ইঙ্গিত করে চতুর্থ অথবা পঞ্চম শতাব্দীর দিকে। আবার ঠিক ওই সময়কালেই অন্যত্র পাওয়া গিয়েছে যে লিপি কিংবা অনুরূপ প্রস্তর অথবা লৌহস্তম্ভ এবং যেগুলি প্রমাণিতভাবেই ঩দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের আমলেরই, সেই ধাঁচ অবিকল এরকমই। কিছু কিছু পার্থক্য রয়েছে। যুগের সঙ্গে লিপির হরফের বদল ঘটেছে।  সে তো বোঝা গেল। কিন্তু দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত হঠাৎ এই কতুব মিনার প্রাঙ্গণে কী করতে এসেছিলেন? এখানে কী ছিল যে, এখানে হঠাৎ প্রোথিত করবেন এরকম একটি লৌহস্তম্ভ নিজের নামাঙ্কন ও যুগকে ঐতিহাসিক নথি প্রদান করতে? দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। একটি অংশের অভিমত ছিল মথুরায় প্রথম এই লৌহস্তম্ভ প্রোথিত হয়। কিন্তু বিষ্ণুপদ পাহাড়ে প্রোথিত হয় এই লৌহস্তম্ভ। মথুরায় তো সেরকম কোনও পাহাড় নেই? এবং সেখানে বিষ্ণুপাহাড় থাকবে কীভাবে? সেই সময় মথুরা প্রবলভাবে বৌদ্ধ প্রভাবান্বিত। তাহলে? অতএব লিপি উদ্ধার ও বিশ্লেষণ করে আন্দাজ করা হয়েছে এই লৌহস্তম্ভ আজকের মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় উদয়গিরিতে স্থাপন করা হয়েছিল। এক বা একাধিক যুদ্ধ জয় করার স্মারক হিসেবে এই লৌহস্তম্ভের প্রতিষ্ঠা হয়তো। কোন জনপদের কথা বলা হয়েছে যেখানে এই স্তম্ভনির্মাতা যুদ্ধ করেছিলেন এক সম্মিলিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে? ভঙ্গ! সংস্কৃত ভাষায় যে জনপদের নাম লেখা রয়েছে ভঙ্গ, সেই তাহলে বঙ্গ? বঙ্গভূমির প্রতি বহিরাগতদের আকর্ষণ কত যুগ ধরে তাহলে? বঙ্গবিজয় করে পশ্চিমে গিয়ে যিনি সিন্ধু পার হয়ে বল্মীক রাজ্য দখল করেছিলেন, তার প্রোথিত লৌহস্তম্ভের রহস্য এখান থেকেই শুরু হয়। কারণ, কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে প্রাপ্ত এই লৌহস্তম্ভের পরবর্তীকালের লিপিতে পাওয়া যায় রাজা অনঙ্গপালের নাম। কে এই অনঙ্গপাল? তার কাছে কীভাবে এল এই স্তম্ভ? 
অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত টোমার বংশের  শাসন ছিল উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে। হরিয়ানা নামক এক জনপদ থেকে যে যাত্রা শুরু হয়। শুরু করেছিলেন প্রথম অনঙ্গপাল। কিন্তু সেই রাজ্যপাটকে কার্যত সাম্রাজ্যের রূপ দিলেন যিনি, তিনি দ্বিতীয় অনঙ্গপাল। যাঁর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে এই লৌহস্তম্ভে। ঠিক এখান থেকেই ইতিহাসবিদদের আবিষ্কার তথা বিশ্লেষণ যে, দ্বিতীয় অনঙ্গপাল মধ্যপ্রদেশের সেই উদয়গিরি থেকে নিয়ে আসেন এই লৌহস্তম্ভ। অর্থাৎ গুপ্ত সাম্রাজ্য যখন অস্তমিত। কিন্তু কেন আনলেন? আর এখানেই বা কেন স্থাপিত হল?  পুরাতত্ত্ববিদ, ভারতবিদ ও ইতিহাসকার আলেকজান্ডার কানিংহাম জানিয়েছেন, স্তম্ভগাত্রে লেখা রয়েছে, সম্বাদ দিহালি ১১০৯ অনঙ্গ পাল বাহি। যার অনুবাদ ১০৫২ খ্রিস্টাব্দে স্তম্ভগাত্রে অনঙ্গপালের নামাঙ্কন হয়। আর এই অনঙ্গপাল স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় অনঙ্গপাল। 
তি঩নিই এনেছেন। কিন্তু ইতিহাসের গতি ও অভিমুখ একই খাতে বহমান হয় না। অতএব এই তত্ত্বকে অস্বীকার করলেন কিছু ঐতিহাসিক। তাঁরাও কি কোনও একটি থিওরিতে একমত হলেন? না। হলেন না। কেউ বললেন, ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে আদতে কুতুব উদ্দিন আইবক বর্তমান স্থলে লৌহস্তম্ভ স্থাপন করেছেন। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ বলেন মোটেই না। ইলতুৎমিস করেছেন এই কাজ। ত্রয়োদশ শতকে। তিনি বিদিশা আক্রমণ করেছিলেন। বিদিশা জয়ের স্মারক হিসেবে নিয়ে এসেছেন লৌহস্তম্ভ। 
দ্বিতীয় অনঙ্গপাল এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ এই অনঙ্গপালই হরিয়ানা থেকে আরও এগিয়ে নিয়ে এসে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। যেখানে করেছিলেন, সেই জনপদের নাম ধিল্লিকাপুরী! যার নাম আগে ছিল ইন্দ্রপথ। রহস্য বাড়ছে। ধিল্লিকাপুরী থেকেই যে দিল্লি নামের উৎপত্তি, সেটা নিয়ে হয়তো সংশয় নেই। এবং দ্বিতীয় অনঙ্গপালকেই দিল্লি শহরের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেই দেখা হয়, তাও পুরাতাত্ত্বিকরা স্বীকার করেন বহু তর্ক-বিতর্ক করে।  কুতুব মিনার কমপ্লেক্স থেকে ৫০ মিটার  হাঁটলে পাওয়া যাবে একটি বুজে যাওয়া জলাশয়।  জল কোথায়? নেই। কিন্তু পুরাতাত্ত্বিক খননকার্যের পর জানা যাচ্ছে জলাশয় ছিল। আদতে যা এক বিস্তীর্ণ হ্রদ। যার নাম অনঙ্গতাল। আজ গেলে দেখা যাবে বাবলা গাছ আর ঘাসজঙ্গলে পূর্ণ। কিন্তু এই ছিল দ্বিতীয় অনঙ্গপালের শাসনকালে ধিল্লিকাপুরী তথা দিল্লির অন্যতম জলের উৎস। আসল লালকেল্লা কোনটা? এই কুতুব কমপ্লেক্সের এলাকার মধ্যে থাকা কেল্লা লাল কোট! দ্বিতীয় অনঙ্গপালের প্রাসাদ ছিল বলে যা মনে করা হয়। সেই প্রাসাদ আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু স্তূপ আর প্রাচীর। এ তো দেখা যাচ্ছে। আজও। যা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু জনশ্রুতিতে ভেসে রয়েছে সেরকম একটি পুরনো নামের উৎপত্তি নিয়ে ভাবা যাক! 
এই যে ধিল্লিকাপুরী জনপদের আদি নাম ছিল ইন্দ্রপথ! যখন অনঙ্গপাল আসেন। সেটি আবার কী? দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত, অনঙ্গপাল ও ধিল্লিকাপুরীর সন্ধান করতে করতে ইতিহাস কি তাহলে বহু যুগ পিছনে চলে গেল? ইন্দ্রপথ মানে কি ইন্দ্রপ্রস্থ নয়? যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কারণ এই টোমার সাম্রাজ্যের বংশধররা নিজেদের একটি বিশেষ বংশের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দাবি করে। কোন বংশ? পাণ্ডব! বললাম না রহস্য ফুরাচ্ছেই না! 
2Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

বিকল্প উপার্জনের নতুন পথের সন্ধান লাভ। কর্মে উন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। মনে অস্থিরতা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
21st     July,   2024
দিন পঞ্জিকা