রাজ্য

প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ‘শিক্ষা’ই চলে গিয়েছে একেবারে পিছনের সারিতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাধ্যমিক শিক্ষায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং প্রাথমিক শিক্ষায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদেরই সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকার কথা। তবে, শিক্ষক মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাদপ্তরের অধীন দু’টি স্বশাসিত সংস্থাকে শুধুমাত্র পরীক্ষা গ্রহণেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মধ্যশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব এসে ঠেকেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশ। আর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দায়িত্ব শিক্ষক নিয়োগের টেট এবং শিক্ষকদের আবশ্যিক ডিগ্রি ডিএলএড পরীক্ষা গ্রহণ। কোনোরকম অ্যাকাডেমিক বিষয়ে অবদানই রাখতে পারছে না সংস্থাগুলি। 
দু’টি সংস্থার মাথাতেই যাঁরা আছেন, তাঁরা অভিজ্ঞ অ্যাকাডেমিশিয়ান। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজির অধ্যাপক (সরাসরি নিযুক্ত)। তাঁর ডিএসসি’র মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মানও রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি’তে নিজের ব্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট তিনি। এমফিলেও তিনি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অব সায়েন্স, সহ-উপাচার্যের মতো দায়িত্বও সামলেছেন। অন্যদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশিওলজির অধ্যাপক। তাঁর অ্যাকাডেমিক রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। বিস্তারিত লেখার কারণ হল, এরকম অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়েও তাঁদের দায়িত্ব পরীক্ষা পরিচালনাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। এই দায়িত্ব যেকোনও দক্ষ আধিকারিকই সামলে দিতে পারেন। তাহলে এরকম কৃতীদের পর্ষদ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে কী লাভ, এই প্রশ্নই তুলছে শিক্ষামহল।
দুটি বোর্ডেরই ঘোষিত ১৭-১৮টি দায়িত্ব এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম হল পরীক্ষা গ্রহণ। এই দায়িত্বগুলি রয়েছে ১০-১১ নম্বরে। তবে, প্রাথমিক যে দায়িত্ব অর্থাৎ, সমস্ত ছাত্রছাত্রীর শিক্ষার আওতায় আনা, সিলেবাস এবং বই তৈরি, প্রকাশ এবং বিলি, শিক্ষার উন্নতিতে বিভিন্ন গবেষণা, উদ্ভাবনা, লার্নিং আউটকাম, শিক্ষকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন কি না তা দেখা, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের বদলি—কিছুই হচ্ছে না এই বোর্ডগুলির মাধ্যমে। 
কেন এই পরিস্থিতি? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটি এই পর্ষদগুলির অংশ হিসেবে গঠন করা উচিত ছিল। এখন যেমন স্বাধীনভাবে কমিটিগুলিকে গঠন করা হয়েছে, তা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই ভবনে কমিটি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কাজ করলেও কারও সঙ্গে কোনও সমন্বয় সাধনের উপায় নেই। ফলে, সিলেবাস বা বই তৈরির ক্ষমতা বোর্ডের নেই। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা সত্যি।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলিতে এই সমন্বয়ের অভাব আরও স্পষ্ট হবে। প্রায় ১০ বছর ধরে মাধ্যমিকের সিলেবাসের মূলগত পরিবর্তন হয়নি। কবে তা হবে, তার কোনও ঠিক নেই। কারণ সিলেবাস এক্সপার্ট কমিটির চেয়ারম্যান কিছুদিন আগে সদস্যদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ পর্যন্ত করতে চেয়েছেন। বদলি সংক্রান্ত ‘উৎসশ্রী’ ওয়েবপোর্টাল পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চলতে থাকায় গ্রামে শিক্ষকের অভাব প্রকট হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধও রাখতে হচ্ছে। হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডের মতো দারুণ বিষয়ও চালু হয়েছে পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই। তাতে বিস্তর বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। স্কুলগুলির হালহকিকত পরিদর্শনেও পর্ষদগুলির কোনও ভূমিকা নেই। তা স্কুলশিক্ষা কমিশনারেটের অধীন ডিআইদের বিষয়। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি, প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ক্রীড়ানুষ্ঠান পরিচালনা, প্রভৃতি কাজেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এ নিয়ে রামানুজবাবুর মতামত চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই। তবে গৌতমবাবুর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। 
10d ago
কলকাতা
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

বিকল্প উপার্জনের নতুন পথের সন্ধান লাভ। কর্মে উন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। মনে অস্থিরতা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা