সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরে বনসৃজন প্রকল্পে সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিকের চেয়ে কম টাকা দেওয়ার অভিযোগে শ্রমিকরা সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রেট চার্ট সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে শ্রমিকদের ঠকানো হচ্ছে। গত মরশুমে অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে নগদে টাকা মেটানো হয়েছে। তাই এবারে সরকার নির্ধারিত রেট চার্ট জানতে চেয়ে বনদপ্তরে তাঁরা দরবার করেছেন। নিয়ম মেনে টাকা না মেটালে তাঁরা কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। যদিও সঠিক নিয়মেই শ্রমিকদের টাকা মেটানো হয়েছে বলে বনাধিকারিকরা দাবি করেছেন। এবং কোনও রকম সন্দেহ হলে শ্রমিকরা যে কোনও সময় সরকারি রেট চার্ট দপ্তরে এসে দেখতে পারবেন।
বনদপ্তরের বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত ডিভিশনের আধিকারিক রাজু সরকার বলেন, বনসুরক্ষা কমিটির সদস্যরা আমাদের সম্পদ। তাঁদের ঠকানোর কোনও প্রশ্নই নেই। ডেলি ওয়েজ হিসাবে শ্রমিকদের টাকা দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে পারিশ্রমিক বৃদ্ধি হয়। গত মরশুমে একজন শ্রমিকের একদিনের পারিশ্রমিক ছিল ৩১২ টাকা। চলতি বছরে তা বৃদ্ধি হয়ে ৩২৩ টাকা হয়েছে। তাছাড়াও শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিকের চেয়ে কম টাকা অথবা নগদে টাকা দেওয়ার কোনও অভিযোগ পাইনি।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত ডিভিশনে বিষ্ণুপুর, বাঁকাদহ, জয়পুর, ওন্দা ও তালডাংরা এই পাঁচটি রেঞ্জ রয়েছে। তার অধীনে একাধিক বিট রয়েছে। মূলত বিট অফিসারের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে বনসৃজন প্রকল্প রূপায়িত করা হয়। বনদপ্তরের নিজস্ব রুটিন অনুযায়ী বনসৃজন ছাড়াও জাইকা প্রকল্পেও গত কয়েক বছর ধরে বনসৃজন প্রকল্প চলছে। তাতে নতুন নতুন এলাকা ছাড়াও পুরনো গাছ কেটে নেওয়ার পর সেই জায়গাতেও নতুন করে গাছ লাগানো হচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত মরশুমে প্রায় প্রতিটি রেঞ্জ এলাকায় বনসৃজন করা হয়েছে। তাতে পিট কাটা থেকে শুরু করে গাছ লাগানো এবং পরিচর্যার জন্য স্থানীয় বন সুরক্ষা কমিটির একাংশ শ্রমিক হিসেবে ওই কাজ করেছেন। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিক তাঁদের দেওয়া হয়নি। কিছু শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকানো হয়েছে এবং তা তুলে অন্যান্য শ্রমিকদের নগদে মেটানো হয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় রেট চার্ট জানতে চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। চলতি মরশুমে বিভিন্ন জায়গায় বৃনসৃজনের জন্য পিট কাটার কাজ আরম্ভ হয়েছে। তাই এবারে তাঁরা সচেতন হয়েছেন এবং সরকার নির্ধারিত রেট চার্ট না দেখালে তাঁরা কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মরশুমে বনসৃজনে পিট কাটা থেকে আরম্ভ করে গাছের পরিচর্যা পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ২০৩ জন শ্রমিক লাগার কথা। এবং সেই হিসেবে হেক্টর পিছু ৬৩ হাজার ৩৩৬ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। চলতি মরশুমে তা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার ৫৬৯ টাকা করা হয়েছে। শ্রমিকরা ওই হিসেবে টাকা না পেলে দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন।