Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাইরে থেকে পোশাক বানিয়ে বিল করছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা , পড়ুয়াদের স্কুল ড্রেস তৈরিতে এবার নজরদারি

বাইরে থেকেই স্কুলের ড্রেস বানিয়ে নিচ্ছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা‌। কিন্তু বিল হচ্ছে গোষ্ঠীর নামেই। যার ফলে মহিলাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্য বিফলে যাচ্ছে।

বাইরে থেকে পোশাক বানিয়ে বিল করছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা , পড়ুয়াদের স্কুল ড্রেস তৈরিতে এবার নজরদারি
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাইরে থেকেই স্কুলের ড্রেস বানিয়ে নিচ্ছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা‌। কিন্তু বিল হচ্ছে গোষ্ঠীর নামেই। যার ফলে মহিলাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্য বিফলে যাচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ঢাল করে সুবিধা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।‌ যার ফলে স্কুল ড্রেসের কাপড়ের মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে।‌ নির্দিষ্ট মাপের ড্রেস মিলছে না। বিষয়টা ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। তাই স্কুলের ড্রেস তৈরি করা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর উপর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ব্লককে।‌ পাশাপাশি যেসমস্ত জায়গায় ড্রেস সেলাইয়ের কাজ করা হয়, সেখানে পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। দেখা হচ্ছে, সেখানে মহিলারা একসঙ্গে বসে ড্রেস তৈরির কাজ করছেন কিনা! সেইমতো গোষ্ঠীর কাজের রিপোর্ট বানাতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। 

Advertisement

নদীয়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কিছু অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে। প্রশাসন চায়, যেন গ্রামের মহিলারা নিজেরা স্বনির্ভর হন। তাই স্কুলের ড্রেস বানানোর জন্য তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ যাতে ঠিকমতো হয়, তার ওপর নজরদারি চালাতে হয়েছে ব্লক প্রশাসনকে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে স্কুল ড্রেস তৈরির কাজ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে দিয়েই করানো হয়।‌ তার জন্য স্কুল ড্রেসের কাপড় রাজ্য সরকারের তরফ থেকেই গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া হয়।‌ সেইসঙ্গে মহিলাদের মোটা টাকার আর্থিক সাহায্যও করা হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, গোষ্ঠীর মহিলাদের কোনও একটি জায়গায় একত্রিত হয়ে কাজ করার কথা। তারপর সংশ্লিষ্ট স্কুলে তা সরবরাহ করা। কিন্তু অনেক জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তরফ থেকে বাইরের কাউকে ড্রেস তৈরির অলিখিত ‘অর্ডার’ দিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে ড্রেস তৈরির কাজে গোষ্ঠীর মহিলাদের মাথা ঘামাতে হচ্ছে না। কিন্তু যে কারণে মহিলাদের এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেই মনে করেছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জেলার বিভিন্ন ব্লকে অভিযান চালায়। তাতে দেখা যায়, গোষ্ঠীর কিছু মহিলাই সেলাইয়ের কাজ করছেন। আবার খাতায় কলমে ড্রেসের হিসেবের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। 
নদীয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৭৮৩ জন পড়ুয়াকে স্কুল ড্রেসের দু’টি সেট দেওয়া হচ্ছে। শার্ট, কামিজ প্যান্ট, শালোয়ার, স্কার্ট তৈরি করা হচ্ছে। একটি সেটের ১১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৬৬টি স্কুল ড্রেসের পিস দেওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে ৮ লক্ষ ৮০ হাজার ২৭৮টি পিসের কাটিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেইসঙ্গে ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৬৭৫টি স্কুল ড্রেসের পিস সেলাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। 
উল্লেখ্য, স্কুল ড্রেসের গুণগতমান নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। অভিভাবকদের তরফ থেকে মাঝে মাঝেই অভিযোগ ওঠে, কাপড় খারাপ, ড্রেসের সাইজঠিক নয় ইত্যাদি। আবার স্কুল পড়ুয়াদের ড্রেস সময়মতো স্কুলে না পৌঁছনোরও অভিযোগ রয়েছে। দেখা গিয়েছে, সেই সমস্ত গোষ্ঠী বাইরে থেকে ড্রেস বানিয়ে নিচ্ছে। তারপর গোষ্ঠী 
নিজের নামে বিল করছে। এইসব অভিযোগ নিয়ে নজরদারি চালাবে প্রশাসন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ