নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এক পুকুর থেকে অন্য পুকুর পাড়ে বরুণ দাসের দেহ নিয়ে আসা হয়। যার দূরত্ব প্রায় এক কিমি। জল কাদার রাস্তা পেরিয়ে এতটা পথ কি একার পক্ষে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া সম্ভব? গোঘাটের বরুণ দাসকে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে এই প্রশ্নই তদন্তকারী আধিকারিকদের ভাবাচ্ছে। পুলিস মনে করছে, এই খুনে ধৃত তাপস দাস ওরফে তন্ময়ের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে। মৃতের পরিবারেরও সন্দেহ তেমনটাই। এই ঘটনায় এক ব্যক্তির নাম উঠে আসছে। সে পুলিসের স্ক্যানারে রয়েছে। তার মোবাইল বন্ধ রয়েছে। তাকে ধরতে প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, এই খুনের পিছনে মূল অভিযুক্ত মৃতের স্ত্রী মিতা দাস ও তার প্রেমিককে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত তার কিনারা হবে।
উল্লেখ্য, বারাসতের মনুয়া কাণ্ডের ছায়া দেখা যায় গোঘাটে। রঘুবাটি পঞ্চায়েতের রাজগ্রামের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি বরুণকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃতের স্ত্রী ও পাশের গণেশবাটি গ্রামের বাসিন্দা তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিতা ও তন্ময়ের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বছর ৩১-এর বরুণ। তাই কাঁটা সরিয়ে ফেলতেই তারা খুনের ছক কষে। বরুণ গত ৩ জুলাই বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তারপর আর ওই রাতে বাড়ি ফেরেননি। পুলিস জানতে পেরেছে, ওই রাতে বরুণকে অভিযুক্ত তন্ময় রাজগ্রামের কামারে পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে বরুণকে আকণ্ঠ মদ্যপান করায়। হুঁশ হারিয়ে ফেললে বরুণকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, হত্যা পর্বের সময় মিতাকে ফোন করেছিল তন্ময়। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ মিনিট কথা হয়। তার প্রমাণ পুলিস আধিকারিকরা পেয়েছেন। এরপর দেহ সেখান থেকে রাজগ্রামের বড় পুকুরের পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। রবিবার সকালে গ্রামেরই এক যুবক দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। পুলিস গিয়ে দেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় পুকুরটি একটু নির্জন এলাকা। সেখানে বাসিন্দাদের খুব একটা যাতায়াত নেই। তার ফলে দেহ ফেলার জন্য অভিযুক্ত ওই পুকুরের পাড়কেই নিরাপদ বলে মনে করেছিল।
মৃতের এক খুড়তুতো কাকু তাপস দাস বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে। একজনের পক্ষে জল কাদার রাস্তা পেরিয়ে দেহ নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই খুনের পিছনে সাহায্যকারী কেউ থাকতে পারে। সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির কথা আমরা পুলিসকে জানিয়েছি। পুলিস তা তদন্ত করে দেখছে। এই ঘটনা যেন ধামাচাপা না পড়ে যায়। অভিযুক্তদের কঠোর সাজা হওয়া উচিত। -নিজস্ব চিত্র