বলিউড জায়গাটা কেমন? সেখানে নিয়ন্ত্রক কারা? মুম্বইয়ের সিনেমা জগৎ নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বা ফিল্ম ম্যাগাজিনে যা পড়ি, সে সব কি সত্যি? সিনে ইন্ডাস্ট্রির সেই ‘অন্ধকার’ দিক নিয়েই নেটফ্লিক্সের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘ব্যাডস অব বলিউড’। পরিচালনায় শাহরুখ পুত্র আরিয়ান খান। সিরিজ ঘোষণার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, বলিউডের ক্লেদাক্ত দিকটাই নাকি ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন আরিয়ান। কিন্তু সত্যিই কি দেখা গেল বলিউডের অন্দরমহল? জানা গেল বলিউডের ‘ব্যাড’ কারা? এককথায় উত্তর দিতে হলে বলতে হয়— হ্যাঁ, আবার না।
সিরিজের প্রথম কয়েকটি এপিসোড তেড়েফুঁড়েই এগিয়েছেন আরিয়ান। সেখানে ফুটে উঠেছে নায়ক হয়ে ওঠার কাহিনি। স্টারডম, রোমান্স, বন্ধুত্ব, অ্যাকশন, পাপারাৎজি, মাফিয়া জগৎ— সব কিছুই হাত ধরাধরি করে হেঁটেছে। নেপোটিজম নিয়ে দেদার কটাক্ষ করেছেন পরিচালক। অবলীলায় দেখিয়েছেন, ছবি ১০০ কোটির ব্যবসা করার পরেও নতুন নায়কের থেকে টিভি শোতে বেশি গুরুত্ব পান নেপো-কিডরা। প্রযোজকের বিরাগভাজন হওয়ায় বছরের পর বছর কাজ না পেয়ে বসে থাকতে হয় অভিনেতাকে। ঝকঝকে সিনেমাটোগ্রাফি, চমৎকার অ্যাকশন দৃশ্য আর সম্পাদনা দেখে যখন মনে হবে গল্প বলিউডের আরেকটু ভিতরে যাবে, ঠিক তখনই খেই হারায় গল্প। কিছুটা গতে বাঁধা, কিছুটা আরোপিত মনে হয়। শেষ এপিসোডে চমকপ্রদ টুইস্ট রেখেছেন আরিয়ান। তাতে আবার গল্প যেন ট্র্যাকে ফেরে।
অভিনয় এই সিরিজের গেম চেঞ্জার। দিল্লি থেকে আসা উঠতি নায়ক আসমান সিংয়ের ভূমিকায় লক্ষ্য লালওয়ানি। ব্যারিটোন গলায় তিনি যেন একালের অ্যাংরি ইয়ং ম্যান। আসমানের সাফল্য, রাগ, হতাশা ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি অ্যাকশনেও সমান সাবলীল তিনি। উল্টোদিকে তারকা-কন্যার করিশ্মার ভূমিকায় সহের বাম্বা। এই প্রথম কোনও বড় চরিত্র পেলেন। সেই সুযোগ পুরোপুরি ব্যবহার করেছেন। করিশ্মার বাবা তথা সুপারস্টার অজয়ের ভূমিকায় ববি দেওল। তিনি যেন বলিউডের টিপিক্যাল রাগী বাবা। তবে সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছেন দু’জন। রাঘব জুয়েল ও মনোজ পাহওয়া। আসমানের বন্ধু পারভেজের ভূমিকায় রাঘব নিজেকে যেন নিংড়ে দিয়েছেন। আসমান, তাঁর ম্যানেজার সানিয়া (অন্যা সিং) ও পারভেজের কেমিস্ট্রি দুর্দান্ত। আর ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের মুখ দেখা গায়কের ভূমিকায় মনোজ যেমন হাসাতে পারেন, তেমনই চোখে জল আনতে পারেন। বলতে হয় রজত বেদীর কথাও। আসমানের মায়ের ভূমিকায় মোনা সিংও যথাযথ।
বলিউডের তিন খান সহ বহু অভিনেতাকেই এই সিরিজে ক্যামিও চরিত্রে দেখা গিয়েছে। অবশ্য আমির বা সলমনকে এত কম সময়ের জন্য দেখা গিয়েছে যে, তাঁরা এই সিরিজে আলাদা করে কিছু যোগ করেন না। শাহরুখও মুখ দেখিয়েছেন। তাঁর থেকেও আরও একটু বাড়তি কিছু আশা ছিল। চমকে দিয়েছেন ইমরান হাসমি। নিজের চরিত্রে করণ জোহরও ভালো সাজতে যাননি।
প্রথম কাজেই আরিয়ান বুঝিয়ে দিয়েছেন, গল্প বলার কাজটা তিনি জানেন। অভিনেতা বাছাইয়েও তিনি দক্ষ। শাহরুখ-পুত্র হওয়ার সুযোগ নিয়ে যা খুশি তাই করেননি। আরিয়ানের নিজের জীবনও তো
কম বিতর্কিত নয়। সেই বিষয়টিও এড়িয়ে যাননি বাদশা-পুত্র। সিরিজের প্রথম এপিসোডেই দেখা যায়, নারকোটিক্স বিভাগের এক অফিসারকে। যিনি চান মাদকমুক্ত ভারত ও বলিউড গড়তে। অথচ, এক উঠতি নায়ককে বিনা অপরাধে মাদক মামলায় গ্রেফতার করেন। আরিয়ানের ইঙ্গিত যে কার দিকে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শুভজিত্ অধিকারী