Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রেনের চাকায় ধোঁয়া, এক ঘণ্টা থমকে হাওড়া-বর্ধমান লোকাল

ব্রেক শু জ্বলে যাওয়ায় ব্যাহত হল লোকাল ট্রেনের যাত্রা। ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হল হাওড়া-বর্ধমান লাইনের যাত্রীদের। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ হুগলির শেওড়াফুলি ও বৈদ্যবাটির মাঝে বর্ধমানগামী বর্ধমান লোকাল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

ট্রেনের চাকায় ধোঁয়া, এক ঘণ্টা থমকে হাওড়া-বর্ধমান লোকাল
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ব্রেক শু জ্বলে যাওয়ায় ব্যাহত হল লোকাল ট্রেনের যাত্রা। ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হল হাওড়া-বর্ধমান লাইনের যাত্রীদের। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ হুগলির শেওড়াফুলি ও বৈদ্যবাটির মাঝে বর্ধমানগামী বর্ধমান লোকাল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বৈদ্যবাটি খালের কাছে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। তারপর ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ সেই ট্রেন গন্তব্যের দিকে যায়। এই বিভ্রাটের পর বিকেল সাড়ে ৪টে-৫টা পর্যন্ত হাওড়া-বর্ধমান লাইনে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। সমস্ত ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা দেরিতে চলেছে। হুগলি থেকে বর্ধমান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার যাত্রীদের দুর্ভোগে জেরবার হতে হয়েছে। 

Advertisement

নিত্যযাত্রীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনের চাকা থেকে ধোঁয়া ওঠার ঘটনা ঘটছে আকছার। হুগলি জেলাতেই শুধু গত আট মাসে অন্তত ১০টি এরকম ঘটনা ঘটেছে। হাওড়া-বর্ধমান মেন ও কর্ড লাইন, হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনে প্রায়শই ট্রেন যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সর্বত্রই ট্রেনের চাকা থেকে ধোঁয়া ওঠা অর্থাৎ ব্রেক শু জ্বলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি সম্প্রতি বেলমুড়িতে একটি এক্সপ্রেস ট্রেনেও ভরদুপুরে একই ঘটনা ঘটেছিল। যাত্রীদের অভিযোগ, একদিকে রেল আধুনিকীকরণের দাবি তুলে ব্যাপক প্রচার করছে, অন্যদিকে রেলের স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণই হচ্ছে না ঠিকমতো। তাই ব্রেক শু নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলি রেলকর্তাদের চোখে পড়ছে না।
এদিন হাওড়া থেকে বর্ধমান যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন মৃন্ময় মুখোপাধ্যায়। ব্যবসার কাজে তাঁকে প্রায়শই বর্ধমান যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রচারের ঢক্কানিনাদে পরিষেবা তলানিতে এসে ঠেকেছে। কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। নজরদারি না থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটছে বারবার।’ শেওড়াফুলির মানিক দাস এদিন ব্যান্ডেলে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলেন। একঘণ্টা ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁকে ফিরে যেতে হয়। তিনি বলছিলেন, ‘হুগলির লাইফলাইন লোকাল ট্রেন। কিন্তু পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে।’ যদিও শেওড়াফুলি স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই কিছুটা বাড়তি সময় নেওয়া হয়েছে। রেল পরিষেবা কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
যাত্রীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ১০.০৭-এর বর্ধমান লোকালটি শেওড়াফুলি পর্যন্ত ঠিকঠাকই চলছিল। শেওড়াফুলি স্টেশন ছেড়ে বৈদ্যবাটি খালের কাছে গিয়েই ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ে। সেই সময় মাঝের একটি কামরার চাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া উঠছিল। শেওড়াফুলি থেকে ইঞ্জিনিয়াররা এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ট্রেনটি পুনরায় চালু করেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ