অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণগঞ্জ (গেদে): প্রথমে করোনার ধাক্কা। তারপর তা সামলে ওঠার আগেই বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি। যার জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে সীমান্তের এপারে ভারত ভূখণ্ডেও। বিশেষ করে, ভারতের সীমান্তের গেদে এলাকার গ্রাম্য অর্থনীতিতে। ওপার বাংলার অশান্ত পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত দিয়ে পর্যটকদের আনাগোনা একদমই তলানিতে এসে ঠেকেছে। যার ফলে সীমান্ত এলাকার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা শিকেয় উঠেছে। বিদেশি মুদ্রা পরিবর্তনের ব্যবসাই হোক, কিংবা হোটেলের ব্যবসা, কোনওটিই আর আগের অবস্থায় নেই। এমনই দাবি করছেন স্থানীয়রা। সীমান্তে প্রতিদিন পর্যটকদের আনাগোনার কারণে যে জমজমাট পরিবেশ ছিল, তা এখন অতীত। গেদে এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আগে প্রতিদিন তিন-চার হাজার মানুষ সীমান্ত দিয়ে আসা যাওয়া করত। এখন দিনে হাতেগুনে ১০০জনও যাতায়াত করে না। যার ফলে বাংলাদেশের অবস্থার জন্য ভারতের মানুষকেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আন্তর্জাতিক করিডরের অন্যতম স্থান হল নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের গেদে এলাকা। বহু বছর ধরেই সেখান দিয়ে দু’দেশের মানুষ যাতায়াত করে আসছে। ভারত ভ্রমণ হোক, কিংবা চিকিৎসা করানো, পেট্রাপোলের পর গেদেই হল সর্বোচ্চ ব্যবহৃত ভারত-বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এলাকাও। স্বাভাবিকভাবেই সেই আন্তর্জাতিক সীমানা হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের রুজি রোজগারের পন্থা। বহু বছর ধরে দু’দেশের মানুষের আনাগোনাই ছিল গেদের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের প্রধান রোজগারের একমাত্র রাস্তা। এই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই চাঙ্গা করে গেদের এলাকার গ্রাম্য অর্থনীতিকে।
বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বিভিন্ন কাজের জন্য ভারতে বৈধ পদ্ধতিতে প্রবেশ করে। ভারতে এসে রাত কাটানোর জন্য গেদে এলাকায় স্থানীয় লজ ভাড়া করতো। তারাই আবার ওই এলাকার বিভিন্ন দোকানে কেনাকাটা করতো। গ্রামবাসীদের কথায়, প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটকদের জন্য স্থানীয় টোটোচালকদের ভালো ব্যবসা হতো। সেইসঙ্গে যাঁরা সীমান্তে বৈদেশিক মুদ্রা পরিবর্তনের কাজ করেন, তাঁদেরও অনেক খদ্দের হতো। লাভের মুখ দেখতেন তাঁরা। দৈনিক কয়েক হাজার মানুষের মুদ্রা পরিবর্তনের কাজ হতো গেদে এলাকায়। কিন্তু সেসব এখন অতীত। তাঁদের কথায়, করোনাকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রথম ধাক্কা এসেছিল ব্যবসায়। টানা এক-দেড় বছর সেই ধাক্কা বয়ে চলতে হয়েছে। এরই মধ্যে সরকার পতনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। যার জেরেই গেদে এলাকার ব্যবসার কফিনে কার্যত শেষ পেরেক পুঁতে যায়।
বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচায় যুক্ত গৌতম নাথ বলেন, এই ব্যবসার সঙ্গে গেদের বহু মানুষ যুক্ত। আগে গেদে সীমান্ত দিয়ে দিনে তিন-চার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করত। এখন দিনে ৮০-১০০জন যাতায়াত করে। পর্যটকদের আনাগোনা থাকলে ব্যবসা ভালো হয়। এলাকার অর্থনীতিও সচল হয়। কিন্তু এই করোনা ও বাংলাদেশের অচলাবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের এলাকার অর্থনীতি দু’দেশের মানুষের আনাগোনার উপর নির্ভর করে। মানুষ যত বেশি গেদে এলাকায় ‘হল্ট’ করবে, তত বিভিন্ন ব্যবসা বাড়বে। গেদের বিভিন্ন লজে আগে দিনে ৩০০-৪০০জন লোক থাকতেন। এখন আর তা হয় না।