নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুরনো হাওড়ার কালীবাবুর বাজারের চৌধুরীবাগান শীতলা মন্দিরের বয়স নয় নয় করে হয়ে গেল প্রায় আড়াইশো বছর। মঙ্গলবার ছিল শীতলার ঠান্ডা উপোসের পুজো। সেখানে হাওড়া বা অন্যান্য জেলা শুধু নয় ভিন রাজ্য থেকেও এসেছিলেন ভক্তরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুরনো হাওড়ার কালীবাবুর বাজারের চৌধুরীবাগান শীতলা মন্দিরের বয়স নয় নয় করে হয়ে গেল প্রায় আড়াইশো বছর। মঙ্গলবার ছিল শীতলার ঠান্ডা উপোসের পুজো। সেখানে হাওড়া বা অন্যান্য জেলা শুধু নয় ভিন রাজ্য থেকেও এসেছিলেন ভক্তরা।
শীতলা এখানে সবুজ বর্ণের। নিত্য পুজো হয় তাঁর। তিনি ছাড়াও পুজো পান ষষ্ঠী, শনি মহারাজ ও অন্যান্য দেবদেবী। তাঁদের মূর্তিও রয়েছে মন্দিরে। চট্টোপাধ্যায় পরিবার এই পুজোয় জড়িত। এই এলাকার রাখালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্রথিতযশা কবিরাজ। তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন শীতলা। স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাঝরাতে শুদ্ধ বস্ত্রে ছুটেছিলেন গঙ্গার ঘাটে। তুলে এনেছিলেন একটি পিতলের কলস। তা স্থাপন করে পুজো শুরু করেন। এরপর দেবী পুনরায় তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন। দেন মূর্তি তৈরির বিধান। প্রতিমা তৈরি হয়। তখন থেকে এখনও মূর্তি রূপেই শীতলা এখানে পুজো পাচ্ছেন। কথিত, আজও রাত গভীর হলে শীতলা মন্দির থেকে বেরিয়ে গঙ্গার ঘাটে স্নানে যান। একবার দেবীকে ঘাটের কাছে দেখে ফেলেন এক মহিলা। তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে পাথরের মত কঠিন হয়ে গিয়েছিল তাঁর শরীর। তারপর বহু সাধনার পর সুস্থ জীবনে ফেরেন। শোনা যায়, রাখালচন্দ্রের ছেলে মানদাচরণ জীবিত থাকার সময় পুরীর এক পান্ডা রাতে মন্দিরের দুয়ারের সামনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। দেবী স্নান সেরে মন্দিরে ঢুকতে গিয়ে বাধা পান। ক্ষুব্ধ হয়ে পান্ডাকে ছুঁড়ে ফেলেছিলেন আঙিনায়। কিছু বছর আগেও সাত সকালে মন্দির খোলার পর গোটা প্রাঙ্গণজুড়ে দেবীর পায়ের ছাপ দেখেছিলেন স্থানীয়রা। অনেকের দাবি, গোটা রাত মন্দির প্রাঙ্গণে যেন নাচ করছিলেন শীতলা। ছোট শিশুর মতো দেবীর সেই পায়ের ছাপ আজও রক্ষিত আছে মন্দিরে।
বর্তমানে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পঞ্চম পুরুষ অমিয় চট্টোপাধ্যায় মন্দিরের নিত্য সেবায়েত। বাৎসরিক পুজোর আগে মূর্তিতে রং করেন তিনি। বলেন, ‘দেবীর অলৌকিক ক্ষমতা। শুধু এই রাজ্য নয় মনের বাসনা পূরণ করতে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত সহ আটটি রাজ্যের ভক্তরা ছুটে আসেন। এখনও পাঁঠা বলির প্রথা আছে।’ মঙ্গলবার ঠান্ডা উপোসের পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ অরন্ধন পালন করেন। আগের রাতের রাখা বাসি ভাত খাওয়ার নিয়ম এদিন। মন্দিরের সামনে সকাল থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ লাইন। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা বংশী লাল বলেন, ‘দেবীর কৃপায় অনেক কিছু ফিরে পেয়েছি। প্রতিবছর পরিবার নিয়ে পুজো দিতে আসি।’-নিজস্ব চিত্র