নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভুয়ো ভোটার নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি এখন সরগরম। তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। এর মধ্যেই রাস্তার পাশে ঝোপের ধার থেকে উদ্ধার হল বস্তা ভর্তি ভোটার কার্ড! বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর থানায় এলাকার কৃষ্ণ কালীতলায়। পরিত্যক্ত জায়গায় প্রচুর ভোটার কার্ড কে বা কারা ফেলে গেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পশাপাশি তেতে উঠছে শান্তিপুরের রাজনীতি।
ঘটনাস্থলটি শান্তিপুর পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। স্থানীয়ভাবে এলাকাটির নাম কৃষ্ণকালীতলা। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা রাস্তার ধারের একটি ঝোপের মধ্যে সন্দেহজনক বস্তা এবং কয়েকটি কাগজপত্র দেখতে পান। পরে তাঁরা লক্ষ্য করেন, বস্তার ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে ভোটার কার্ড। বস্তার বাইরেও গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার কার্ড চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভিড় জমে যায় ওই এলাকায়। খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। পুলিস এসে ঘটনাস্থল থেকে বস্তা থেকে অজস্র ভোটার কার্ড উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পারে, সকালে আচমকাই বস্তাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। গতকাল রাতেও ওই চত্বর ছিল ফাঁকা। অনুমান, রাতের বেলা কেউ বা কারা ওই বস্তা ভর্তি ভোটার কার্ডগুলি সেখানে ফেলে দিয়ে গিয়েছে।
ভোটার কার্ডগুলি খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পেরেছে, সেগুলি কেবলমাত্র নদীয়ার বাসিন্দাদের নয়। উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলির বাসিন্দাদেরও নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নদীয়া দক্ষিণ বিজেপির সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, ‘রাস্তার পাশে এইভাবে বস্তা বস্তা ভোটার কার্ড পড়ে থাকার ঘটনা কি ইঙ্গিত করে? আসলে, এতদিন এই কার্ডগুলি ব্যবহার করেই বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছে তৃণমূল। ভুয়া ভোট পড়েছে ব্যালট বাক্সে। যদিও বিজেপির সমস্ত দাবি উড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা খবর পেয়ে এই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সমস্ত কার্ড উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এতগুলি কার্ড সেখানে এল, তা খোঁজ খবর করে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে রহস্যের সমাধান হবে। বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।