নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: এবার ঝাড়গ্রামেও চাষ হবে সুগন্ধি চায়ের। জেলার রুক্ষ ও পতিত জমিতে রোজেলা গাছের চাষ করা হবে। রোজেলা ফল থেকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হবে চা। প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ফল থেকে চা তৈরি হবে। উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াকরণ সবই হবে জেলায়।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। রোজেলা চাষ ও তা থেকে চা তৈরির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চা ছাড়াও রোজেলা ফল থেকে জ্যাম, জেলি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি নিয়েও আলোচনা হয়। সেগুলির উৎপাদন থেকে প্রক্রিয়াকরণ সমস্ত কাজই হবে জেলায়। কৃষিদপ্তর প্রকল্পটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। জেলার উদ্যান, বিপণন দপ্তরও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
শুরুতে ঝাড়গ্রামে রোজেলা চাষ সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। পরীক্ষায় সাফল্য মিলতেই জেলা পরিষদের কৃষি স্থায়ী সমিতি প্রকল্পটি চালু করার উদ্যোগ নেয়। রোজেলা ফল থেকে চা ছাড়াও জ্যাম, জেলি, নানা হার্বাল প্রোডাক্ট, বিউটি প্রোডাক্ট তৈরি করা হবে। উৎপাদিত জিনিস রুরাল হাট, সুফল বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি স্টলে বিক্রি করা হবে। জেলার চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের রোজেলা চাষে উৎসাহিত করা হবে। জেলায় হাতির হানায় ধান ছাড়াও অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়। রোজেলার ক্ষেত্রে সে ভয় নেই। কারণ হাতি রোজেলা ফল খায় না। অর্থকরী ফসল হিসেবে রোজেলা চাষ লাভজনক হয়ে উঠতে পারে বলে কৃষিদপ্তরের ধারণা। এই ফলে নানা ওষধি গুণ রয়েছে। ভিটামিন-এ, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ক্যালশিয়াম এবং প্রোটিন আছে। পাতাতেও রয়েছে একই ধরনের পুষ্টিগুণ। হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, হার্টের রোগের ওষুধ তৈরিতে রোজেলা ফল ব্যবহার হয়। রোজেলা চাষে বেশি জল দরকার হয় না। তবে রোদের প্রয়োজন হয়। মূলত শীত ও বর্ষায় রোজেলা চাষ হয়। উদ্যান বিভাগের আধিকারিক সালাউদ্দিন খাঁ বলেন, জেলায় রোজেলা চাষে প্রাথমিক সাফল্য মিলেছে। জেলা প্রশাসন স্তরে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ থেকে বিপণন কীভাবে করা হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা পরিষদের কৃষি উপ অধিকর্তা অজয় শর্মা বলেন, কৃষিদপ্তর প্রকল্পটির দায়িত্ব নিয়েছে। রোজেলা চাষে চাষিরা উপকৃত হবেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, জেলায় রোজেলা চাষে প্রাথমিক সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। জেলা পরিষদের তরফ প্রাথমিক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রোজেলা গাছের ফল থেকে চা ছাড়াও ৩২ রকমের প্রোডাক্ট তৈরি করা হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ থেকে বিপণন সবকিছু কমিটিই দেখবে।