Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিটল দাবি, ১০ বছর পর ফের শুরু বিক্রমগড় ঝিলের সংস্কার

মিটল দাবি, ১০ বছর পর ফের শুরু বিক্রমগড় ঝিলের সংস্কার
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহু বছরের পুরনো দাবি। বছর দশেক আগে একবার কাজ শুরুও হয়েছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে সেই কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দশ বছর পর ফের শুরু হল দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড় ঝিলের সংস্কার। রবিবার সকালে মেশিন নামিয়ে ঝিলের কচুরিপানা সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

Advertisement

প্রায় ৩০ হাজার (২৯ হাজার ৮৪০) বর্গ মিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে এই জলাশয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন দিক থেকে দখল হতে হতে এখন ঝিলের আকার অনেক ছোট হয়ে গিয়েছে। দিনের পর দিন অযত্ন ও উদাসীনতায় ঝিলের জল নোংরা হয়েছে। কচুরিপানা ভরে গিয়েছে। আশপাশে জমেছে নোংরা-আবর্জনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝিলের বিভিন্ন দিক ভরাট করার চেষ্টা এখনও চলছে নিয়মিত। 
উল্লেখ্য, বাম আমলে ‘বিক্রমগড় ঝিল বাঁচাও’ আন্দোলন হয়েছিল। ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন দাশগুপ্ত সেই সময় ঝিল বাঁচাও আন্দোলনের যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে একটি সভা থেকে ঝিল সংস্কারের জন্য আট কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেন। একটি কমিটিও তৈরি করে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। শালবল্লা দিয়ে ঝিলের চারপাশ ঘেরা হয়। কচুরিপানাও পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু তারপর আর কাজ বিশেষ এগয়নি। পুরসভার পরিবেশ বিভাগ সূত্রে খবর, দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই টাকায় কাজ হয়। তারপর কেন কাজ আর হলো না, জানা যায়নি। তারপর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ঝিলের হাল বেশ খারাপ। সম্প্রতি এ বিষয়ে পুরসভার মাসিক অধিবেশনে প্রশ্ন তুলেছিলেন তপনবাবু। তার পরিপ্রেক্ষিতে পুরসভার পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার বলেন, ‘নতুন করে সাড়ে তিন কোটি টাকা ঝিল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।’ পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই টাকায় ঝিলের সংস্কারের পাশাপাশি চারপাশে ‘ওয়াক ওয়ে’ তৈরি করা হবে। গোটা এলাকা ঘিরে দেওয়া হবে, যাতে নোংরা-আবর্জনা না পড়ে। 
স্থানীয় বাসিন্দা সুকোমল ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ঝিল আমাদের কাছে আবেগ। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ফুসফুসও বলা যায়। সেটাই বেহাত হয়ে যাচ্ছিল।’ ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমী দাস বলেন, ‘বহু বছর ধরেই বিক্রমগড় অঞ্চলের বাসিন্দারা ঝিল সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কাউন্সিলার হওয়ার পর এই কাজের জন্য বহুবার আবেদন করেছি। অবশেষে সেই কাজ শুরু হল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ