নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আর ক’দিন পরই শেষ হবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ। গত এক বছরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ২২টি ব্লকের সিংহভাগই পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে প্রাপ্ত টাকা সঠিকভাবে খরচ করতে পারেনি। তাই এখন শেষবেলায় টাকা খরচের জন্য বাড়তি তৎপর হতে হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। প্রতিদিন এনিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন প্রশাসনের কর্তারা। তাতেই একদিকে যেমন বেশিরভাগ ব্লকের গাফিলতির দিকটি উঠে এসেছে, তেমনই তিনটি এমন ব্লক পাওয়া গিয়েছে, যাদের কাজে যথেষ্ট সন্তুষ্ট জেলা প্রশাসন। বৈঠকে ওই তিনটি ব্লককে ‘মডেল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘পিছিয়ে পড়া’ ব্লকগুলির কাজে গতি আনতে ওই তিনটি ব্লকের বিডিও দেবেন ‘সক্রিয়তার পাঠ’। এর ফলে টাকা খরচে পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলি কিছুটা হলেও ভালো জায়গায় পৌঁছবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।
সূত্রের খবর, জেলার ২২টি ব্লকের জন্য চলতি অর্থবর্ষে ৫৬ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ২৯০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। খরচ হয়েছে মাত্র ৪৫ কোটি টাকা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সঠিকভাবে টাকা খরচের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে বারাকপুর ২ নম্বর ব্লক। তারপর আছে হাবড়া ১ ও বারাসত ১ নম্বর ব্লক। বারাকপুর ৯৬ শতাংশ, হাবড়া ১ নম্বর ব্লক ৯৫ শতাংশ এবং বারাসত ১ নম্বর ব্লক ৯১ শতাংশ টাকা খরচ করেছে। পিছিয়ে রয়েছে হিঙ্গলগঞ্জ, বাদুড়িয়া, আমডাঙা, স্বরূপনগর ব্লক। সূত্রের দাবি, এই ব্লকগুলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক টানাপোড়েন মাত্রাছাড়া। তাই কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ‘বাধা’র সম্মুখীন হতে হচ্ছে আধিকারিকদের। তবু কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিদিন চলছে ভার্চুয়াল বৈঠক। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের ডাকা এই বৈঠক তিনটি মডেল ব্লকের কাজ তুলে ধরে উন্নয়নের পাঠ দিচ্ছেন আধিকারিকরা। প্রকল্প ধরে ধরে চলছে পর্যালোচনা। আধিকারিকদের একটি বড় অংশের কথায়, ‘তিনটি ব্লকের বিডিওর কাছ থেকে উন্নয়নের পাঠ নিচ্ছে পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলি।’ হাবড়া ১ ব্লকের বিডিও সুবীর দণ্ডপাট বলেন, ‘আমরা কীভাবে কাজ করি, তা নিয়ে আলোচনা হয় ভার্চুয়াল বৈঠকে। আমাদের যেটুকু খরচ এখন বাকি রয়েছে, তা দ্রুত শেষ করার টার্গেট নিয়েছি।’ বারাসত ১-এর বিডিও রাজীব দত্ত চৌধুরী বলেন, ‘টায়েড ও আনটায়েড ফান্ডে এক গুচ্ছ পরিকল্পনা আমরা করেছি। টেন্ডারও হয়ে গিয়েছে। খুব বেশি টাকা পড়ে নেই ফান্ডে। কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্কিমে আমরা কী কী কাজ করছি, তা আলোচনা হয়েছে।’ জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদী বলেন, ‘কাজে গতি আনতে আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন ইস্যুতে ভার্চুয়াল বৈঠক করি। সময়ের মধ্যে টাকা খরচ করে ফেলাটাই লক্ষ্য।’